অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। অরিন্দমের চোখ বড় হয়ে গেল- ২০০৪! তার বয়স তখন মাত্র আট বছর। তার জন্মের বছর হিসাব করে সে বুঝল- এই সময়টা তার শৈশবের, কিন্তু এই তারিখে সে কোথায় ছিল? হঠাৎ তার মাথায় আবার একটা অস্পষ্ট স্মৃতি ফিরে এল। একটি বৃষ্টির দিন, একটি ট্রেন। একজন মানুষ তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আর একজন মহিলা কাঁদছেন- ওকে নিয়ে যাবেন না...। তারপর- একটা প্রচণ্ড হুইসেল। অন্ধকার, তারপর কিছুই নেই।অরিন্দম নিজের মাথা দুহাতে চেপে ধরল। আমি কিছুই মনে করতে পারছি না...কিন্তু স্মৃতিটা এবার যেন জোর করে ফিরে আসতে চাইছে।
সে টেপ রেকর্ডার চালু করল। প্রথমে শুধু কড়কড় শব্দ- খররর... খররর... তারপর একটি শিশুর হাসির শব্দ। অরিন্দম জমে গেল, সেই হাসি তার নিজের।সে নিজের শৈশবের কণ্ঠ চিনতে পারল। তারপর একটি শিশুকণ্ঠ- বাবা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর একজন পুরুষের কণ্ঠ- একটা নতুন জায়গায়। শিশুটি বলল- মা আসবে? পুরুষটি উত্তর দিল না। তারপর আবার শিশুর কণ্ঠ- বাবা? পুরুষটি এবার বলল- চুপ করে বসে থাক। অরিন্দমের বুক কেঁপে উঠল, সে বাবার কণ্ঠ চিনতে পারছে, এটা তার বাবা। কিন্তু তার বাবা তো বহু বছর ধরে এই পৃথিবীতে নেই। টেপে আবার শব্দ, দূরে ট্রেনের হুইসেল। তারপর একটি মহিলার চিৎকার- অরিন্দম! টেপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।অরিন্দম তড়িঘড়ি করে আবার প্লে চাপল।
কোনো শব্দ নেই, সে ক্যাসেট খুলে দেখল। ফিতা ঠিক আছে, কিন্তু রেকর্ডার আর চলছে না। হঠাৎ টেবিলের নিচ থেকে একটা শব্দ হলো- টক।অরিন্দম নিচে তাকাল, একটি কাঠের বাক্স।বাক্সটির ওপর লেখা- যা মনে নেই, তা খুঁজো না। অরিন্দম বাক্সটি খুলল এবং ভেতরে কয়েকটি পুরনো ছবি। একটি রেল টিকিট আর একটি সংবাদপত্রের কাটা অংশ। সে প্রথমে ছবিগুলো হাতে নিল, প্রথম ছবিতে একটি ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটির বয়স আট বা নয়।অরিন্দমের বুক ধক করে উঠল, ছেলেটি দেখতে হুবহু তার মতো। তার পাশে একজন পুরুষ- তার বাবা। আর একটু দূরে একজন মহিলা। মুখটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না, ছবির পিছনে লেখা- ১৭ অক্টোবর ২০০৪- শেষ যাত্রার আগে।
অরিন্দম দ্বিতীয় ছবিটি হাতে নিল, সেখানে একটি স্টেশন।স্টেশনটির নাম বোঝা যাচ্ছে না, ছবির পেছনে লেখা- এখান থেকেই সব শুরু। তৃতীয় ছবিতে একটি পুরনো ট্রেন, তার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেই একই অচেনা লোক- কালো কোট, ধূসর টুপি। অরিন্দম ছবিটির দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। কারণ ছবিটির নিচে লেখা- রফিকুল, স্টেশন মাস্টারের সহকারী। কিন্তু ছবিটি তোলা হয়েছে ২০০৪ সালে। অরিন্দম তখন আট বছরের শিশু আর লোকটিকে দেখতে এখনো প্রায় একই রকম। একটুও বুড়ো হয়নি, অরিন্দম এবার সংবাদপত্রের কাটাটি খুলল। কাগজটি এত পুরনো যে ছুঁলেই ভেঙে যেতে পারে, শিরোনাম পড়ে তার চোখ স্থির হয়ে গেল। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ যাত্রী- ট্রেন থামার পর আর কোনো সন্ধান নেই।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





