নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৪ )

in আমার বাংলা ব্লগ5 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000080608.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো সেই মুহূর্তে তার মনে পড়ল একটা বিশেষ দিনের কথা। অর্থাৎ সেদিনও এমন বৃষ্টি হচ্ছিল। নীলা লাইব্রেরিতে এসে বলেছিল- আপনি কি কখনও কাউকে খুব বেশি মিস করেছেন? অয়ন একটু ভেবে বলেছিল- হয়তো না। নীলা তখন বলেছিল-যখন করবেন, তখন বুঝবেন মানুষের অনুপস্থিতিও কতটা উপস্থিত হতে পারে। সেদিন কথাটার গভীরতা অয়ন বুঝতে পারেনি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছে। আজ প্রতিটা মুহূর্তে সে নীলার অনুপস্থিতিকে অনুভব করছে। বৃষ্টি থামার পর অয়ন লাইব্রেরি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিল।রাস্তার পাশে পুরোনো পোস্ট অফিসটা পড়ে ছিল। এখন আবার সেখানে নতুন পোস্ট মাস্টার এসেছে।

আগের সেই পরিচিত পরিবেশ আর নেই। তবুও অয়ন প্রতিদিন কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটবে। যেন কেউ এসে বলবে- আপনার জন্য একটা নীল খাম এসেছে। সেদিনও সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখনই ভেতর থেকে নতুন পোস্ট ম্যান বেরিয়ে এসে বলল- অয়ন দা, আপনার নামে একটা পুরোনো চিঠি এসেছে মনে হয়। অয়নের বুক ধক করে উঠল আর বললো- আমার নামে? লোকটা ভেতর থেকে একটা খাম এনে দিল, খামটা সাদা রঙের। অয়নের মুখের আলো মুহূর্তেই একটু নিভে গেল, তবুও সে খামটা নিল। খামের ওপর কোনো প্রেরকের নাম নেই, শুধু তার নাম লেখা। অয়ন কাঁপা হাতে খামটা খুলল এবং ভেতরে একটা ছোট কাগজ। সেখানে মাত্র একটা লাইন লেখা- সব অপেক্ষার শেষ হয় না, কিছু অপেক্ষা মানুষকে বদলে দেয়।

কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, শুধু এই এক লাইন। অয়ন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল, এই হাতের লেখাটা সে কোথাও দেখেছে। খুব পরিচিত এবং খুব কাছের। তার বুকের ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত একটা অনুভূতি জন্ম নিল। তাহলে কি, নীলা সত্যিই তাকে ভুলে যায়নি? নাকি এটা শুধুই কাকতালীয়? সেই রাতটা অয়ন আর ঘুমাতে পারল না। বারবার সে কাগজটার দিকে তাকাচ্ছিল আর অনেকদিন পর প্রথমবার তার মনে এক ফোঁটা আশার আলো জেগে উঠছিল। আশা খুব ছোট একটা শব্দ, অথচ এই ছোট্ট শব্দটাই কখনও কখনও মানুষকে বছরের পর বছর বাঁচিয়ে রাখে। সেই রাতের পর থেকে অয়নের ভেতরে অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করল।

বহুদিন পর তার মনে হচ্ছিল, অপেক্ষাটা হয়তো পুরোপুরি অর্থহীন নয়। এতদিন যে প্রতীক্ষাকে সে শুধু নিজের কল্পনা বলে ভেবেছিল, হঠাৎ করেই সেটা যেন বাস্তবের ছোঁয়া পেল। টেবিলের ওপর রাখা ছোট্ট কাগজটার দিকে সে বারবার তাকাচ্ছিল আর বলছিল- সব অপেক্ষার শেষ হয় না, কিছু অপেক্ষা মানুষকে বদলে দেয়। এই কয়েকটা শব্দ যেন তার বুকের মধ্যে ঢেউ তুলছিল। সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছিল হাতের লেখাটা। হ্যাঁ, এটা খুব পরিচিত। অয়ন নিশ্চিত না হলেও তার মন বারবার বলছিল- এটা নীলার লেখা। কারণ “অপেক্ষা” শব্দটা লেখার সময় নীলা সবসময় একটু বাঁকা করে “প” লিখত। আর এই কাগজেও ঠিক একইরকম লেখা। মানুষ হয়তো মুখ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু কিছু ছোট ছোট অভ্যাস ভুলে যায় না।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png