অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। ট্রেনের কামরায় বসে থাকা সব যাত্রী- সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ কথা বলছে না, কেউ নড়ছে না। এমনকি বৃদ্ধ লোকটিও চোখ মেলে অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু তার চোখে কোনো পলক নেই। অরিন্দম পিছিয়ে এল।তারপর হঠাৎ বুঝতে পারল- ট্রেনের ইঞ্জিনের কোনো শব্দ নেই। চাকার কোনো শব্দ নেই, ট্রেন থেমে আছে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মের ঘড়িতে সময় চলছে- ১১টা ৪৭ মিনিট। আর ঘড়ির কাঁটা নড়ছে না। ঠিক তখনই তার পকেটে থাকা পুরনো পকেট ঘড়িটি হঠাৎ টিকটিক করতে শুরু করল- টিক...টিক...টিক...অরিন্দম ঘড়িটি বের করল।
যে কাঁটা এতক্ষণ ১১টা ৪৭ মিনিটে আটকে ছিল, সেটি এবার ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল- ১১টা ৪৮।অচেনা লোকটি চিৎকার করে উঠল- না! তার মুখে প্রথমবারের মতো আতঙ্ক দেখা গেল। সে অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে বলল- ঘড়িটা বন্ধ করো! অরিন্দম ঘড়িটি শক্ত করে ধরে ফেলল? কেনো? লোকটি উত্তর দিল না। শুধু পিছনের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ফিসফিস করে বলল- ওরা জেগে উঠেছে। অরিন্দম ঘুরে তাকাল। প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে কুয়াশার মধ্যে একে একে কয়েকটি ছায়া দেখা যাচ্ছে- একজন...দুজন...তিনজন...তারপর আরও অনেক। তারা সবাই ধীরে ধীরে স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসছে। আর প্রত্যেকের হাতে একটি করে পুরনো কালো ব্যাগ।
অরিন্দম বুঝতে পারল না কী করবে। তারপর সেই অচেনা লোকটি শেষবারের মতো তার দিকে তাকিয়ে বলল- এখন তোমার সামনে দুটো পথ। কোন দুটো? ট্রেনে ফিরে যাও। আর দ্বিতীয়টা? লোকটি ধীরে ধীরে বলল- স্টেশনের ১৭ নম্বর ঘরে যাও। অরিন্দম অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সেখানে কী আছে? লোকটির উত্তর এল- তোমার গতকাল। ঠিক সেই মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মের সমস্ত আলো নিভে গেল। অন্ধকারের মধ্যে শুধু পকেট ঘড়িটির কাঁটা জ্বলজ্বল করছে- ১১টা ৪৯ মিনিট। আর অন্ধকারের ভেতর থেকে একসঙ্গে বহু মানুষের কণ্ঠ ভেসে এল- অরিন্দম... আমাদের সঙ্গে এসো...। তারপর- একটি তীব্র ট্রেনের হুইসেল। অরিন্দম চোখ বন্ধ করল।হুইসেলের শব্দ থামার পর যখন সে চোখ খুলল- স্টেশনটি আর সেখানে নেই, প্ল্যাটফর্মও নেই।
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি পুরনো ভাঙাচোরা দরজা। দরজার ওপর মরচে ধরা লোহার প্লেটে লেখা- ১৭, অরিন্দমের হাতে তখনও সেই ছোট চাবিটি। আর ঠিক দরজার ভেতর থেকে কেউ ফিসফিস করে বলল- চাবিটা ঘোরাও...চাবিটা ঘোরাও...। অন্ধকারের মধ্যে ফিসফিস করে কথাটা শোনার পর অরিন্দম কয়েক সেকেন্ড একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তার সামনে পুরনো কাঠের দরজা। দরজার ওপর মরচে ধরা লোহার পাত। সেখানে শুধু একটি সংখ্যা- ১৭। চারপাশে এতটাই অন্ধকার যে নিজের হাতটাও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। অথচ দরজাটার নিচ দিয়ে হালকা নীলচে একটা আলো বেরিয়ে আসছে। অরিন্দমের হাতে তখনও সেই ছোট ধাতব চাবি। চাবিটা অস্বাভাবিক ঠান্ডা, মনে হচ্ছে বরফের একটা টুকরো হাতে ধরে আছে সে।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





