জেনারেল রাইটিংঃ বিশ্ব শিশু দিবস।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন-নিরাপদে থাকেন। আজ ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , হেমন্ত-কাল । ২০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ। আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুদের জন্য প্রতি সপ্তাহে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার চেষ্টা করি। তারেই অংশ হিসেবে আজ একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। আজ বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস। শিশু অধিকার দিবস নিয়েই আমার আজকের জেনারেল রাইটিং। আশাকরি বরাবরের মত সাথেই থাকবেন।
ঢাকার রাস্তায় পিঠার দোকান দেখে মনে হচ্ছে শীত চলে এসেছে। তবে ঢাকায় এখনো সেভাবে শীত নামেনি। গরম কাপড় গায়ে দিতে না হলেও খুব প্রয়োজন ছাড়া রাতে ফ্যান চলছেনা। একটু হলেও শীত অনুভূত হচ্ছে। ঢাকায় শীত না নামলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় শীত নেমেছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরের জেলা গুলোতে। গত কয়েকদিন ধরেই পঞ্চগড়ে ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমেছে তাপমাত্রা।আবহাওয়াবিদদের সূত্রে খবর এবার শীত তীব্র হতে পারে। আর একটি খবরের হেডিং দেখলাম আজ, বর্তমান শতাব্দীর শেষে নাকি শীত থাকবেনা!জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটা হতে পারে, এখন থেকে যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিংয়ে বিশ্ব শিশু দিবস নিয়ে আমার আজকের আর্টিকেল। আপনাদের আলোচনা ও সমালোচনায় আর্টিকেলটি সমৃদ্ধ হবে আশাকরি।
আজ বিশ্ব শিশু দিবস। আপনারা অনেকেই জানেন, আমি শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেছি অনেক দিন। শিশু দিবসের কথা মনে হতেই সেই সময়ের ব্যস্ত দিন গুলোর কথা মনে পড়লো। শিশু অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই কাজ হচ্ছে। সরকারি, বেসসরকারি নানা পর্যায়ে নানান কাজ। কিন্তু আমাদের দেশে শিশু অধিকার এখনো অধরা। শিশু নির্যাতন, শিশু হত্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সকল শিশুর সমান অধিকার শুধু কর্তা ব্যক্তিদের মুখের বুলি আর কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে শিশু শ্রম, পথ শিশু, স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতে জনবহুল বিভিন্ন স্পটে গেলেই বাপ মা হীন পথ শিশুদের রাত্রি যাপন দেখা যায়। এছাড়া শিশুদের খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। যেসব মাঠ আছে সেগুলো বড়দের দখলে। আমাদের সমাজ রাষ্ট্র এখনো শিশু বান্ধব হয়ে গড়ে উঠেনি। তাইতো বিশ্ব শিশু দিবস ঘিরে মানুষকে সচেতন করার জন্য নানান আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়। কিন্তু আফসোসের কথা শিশু বান্ধব পরিবেশ আর গড়ে উঠেনা, সকল শিশু সমান কার্য ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তার পরেও শিশু দিবসের অঙ্গীকার হোক সকল শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমাদের আগামীর সমাজ-দেশ।
বিশ্বজুড়ে যখন শিশুদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন , বৈষম্যসহ বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল শিশুদের নিরাপদে বেড়ে উঠার, তখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকারের ঘোষণাপত্র গৃহিত হয়েছিল। তারও অনেক বছর পর শিশুর অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র গুলোকে বাধ্য করতে ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয়, যেই সনদে রাষ্ট্র গুলো স্বাক্ষর করে। শিশু অধিকার সনদ স্বাক্ষরের দিনটি রাষ্ট্র গুলো যেন ভুলে না যায় , সে জন্য প্রতিবছর ২০ নভেম্বর বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তবে বেশ কিছু দেশ তাদের নিজস্ব কিছু বাস্তবতার কারণে ব্দিবসটি অন্য দিনে পালন করেন। এবারের শিশু অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য অন্তর্ভুক্তি, প্রত্যেক শিশুর জন্য। অর্থাৎ পরিবারে,সমাজে, দেশে , ধর্মীয় সম্প্রদায়ে সকল শিশু সমান। শিশুরা বৈষম্যহীন ভাবে বেড়ে উঠবে। আমরাও চাই বৈষম্যহীন ভাবে বেড়ে উঠুক পৃথিবীর সকল মানব শিশু।
পোস্ট বিবরণঃ
শ্রেনী জেনারেল রাইটিং
পোস্ট তৈরি @selina75
তারিখ ২০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
লোকেশন ঢাকা,বাংলাদেশ।
আমার পরিচয়ঃ
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
সাথে থাকার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Sort: Trending
[-]
successgr.with (75) 2 months ago

