পুকুরপাড়ের সেই বিকেল
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
বিকেলের নরম রোদটা তখন পুকুরপাড়ের ঘাসের গায়ে পড়ে এক ধরনের শান্ত অনুভূতি তৈরি করেছিল। মামা তার হাতে পুরোনো বাঁশের বড়শি নিয়ে পুকুরের ধারে বসে আছে। পানির ওপর ছায়া ভাসছে, যেন আকাশ আর জল মিলে একাকার হয়ে গেছে। আমি মামার একদম পাশে বসে আছি, মনোযোগ দিয়ে দেখছি তিনি কিভাবে মাছ ধরছেন। পানির ছোট ছোট ঢেউ আর বড়শির মাথায় দুলে থাকা টোপটা যেন আমার চোখকে চুম্বকের মতো টেনে রাখছিল।
মাছ ধরার প্রতি আমার অদ্ভুত আগ্রহ। মামা যখনই মাছ ধরতে আসে, আমিও লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে তার সঙ্গে চলে আসি। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না। মামা বড়শি ছুঁড়ে পানিতে ফেলার সাথে সাথে আমি উত্তেজনায় আরও কাছে গিয়ে বসি। মাঝে মাঝে মামা হেসে বলে,একদিন তুইও আমার মতো বড়শি চালাতে শিখে যাবি।আমি মাথা নেড়ে হাসি, যেন সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।এমন সময় দূর থেকে দৌড়ে আসে আমার মামাতো ভাই রাফি। দুষ্টুমি করা তার নেশা। সুযোগ পেলেই আমাকে একটু-আধটু ধাক্কা দেয়, টোকা দেয়, বিরক্ত করে। আমি এমনিতে কিছু বলি না, কারণ ওর সাথে আমার ঝগড়া করতে ভালো লাগে না। তবে সেদিন ওর দুষ্টুমিটা আমার জীবনে বড় একটা ভয়ের মুহূর্ত তৈরি করবে, সেটা তখন বুঝিনি।
রাফি এসে জোরে হাসতে হাসতে বললো,কি রে, আবার মাছ ধরার গুরুত্ব নিয়ে বসে আছিস,বলেই আমার কাঁধে এক ঝটকা ধাক্কা দিল।ধাক্কাটা ছিল আকস্মিক, ভারসাম্য রাখতে পারলাম না। সেকেন্ডের মধ্যেই আমার পা পিছলে গেল, আর আমি সরাসরি ঢপ করে পুকুরের পানিতে পড়ে গেলাম।জল আমাকে পুরো গিলে ফেলল। আমার মাথার ওপর বিশাল অন্ধকার। হাত-পা ছুঁড়ে ছুঁড়েও কোনো ভারসাম্য খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কারণ আমি সাঁতার জানতাম না। বুকের ভেতর কেঁপে ওঠা এক তীব্র আতঙ্ক আমাকে থরথর করে কাঁপাচ্ছিল। গলা দিয়ে পানি ঢুকে গিয়ে শ্বাস নিতে আরও কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, যেন সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পানির তলায় টেনে নামার মতো অনুভূতিতে আমি চিৎকার করারও সুযোগ পেলাম না। শুধু হাত দুটো উপরে তুলে সাহায্যের চেষ্টা করছিলাম। সেই ঠান্ডা পানিতে ডুবে যাওয়ার মুহূর্তগুলো আজও ভুলতে পারিনি।ঠিক তখনই মামার তীক্ষ্ণ চিৎকার কানে এলো,ইশ্আলিফ, সাবধান,তারপর এক ঝটকায় বড়শি ফেলে দিয়ে তিনি পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। মামার হাত শক্তভাবে আমার বাহু চেপে ধরল। তিনি যতেষ্ট জোরে আমাকে ওপরে তুললেন। আমি তখনো কাঁপছি। শ্বাস নিতে পারছি না ঠিক মতো। পানি গিলেছি অনেকটা। চোখের সামনে সব ঝাপসা।
মামা আমাকে বুকে জড়িয়ে পুকুরের ধারে তুললেন। এরপর আমার পিঠে চাপড় দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করলেন। কয়েকবার কাশি দেওয়ার পর গলা থেকে পানি বের হয়ে এলো। আমি হাঁপাতে হাঁপাতে শ্বাস নিলাম। মনে হচ্ছিল এটাই যেন জীবনের সবচেয়ে বড় শ্বাস।রাফি পাশে দাঁড়িয়ে ভয়ে কাপছে। তার মুখে আর দুষ্টুমির হাসি নেই। মামা রাগে গর্জে উঠলেন,এভাবে ধাক্কা দিলে মানুষ মরেও যেতে পারে! আর কখনো এমন কোরবি না,রাফি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
আমি তখনো মামার বুকে মাথা রেখে আছি। বুকের মধ্যে একটা নিরাপত্তার অনুভূতি। যেন মামা না থাকলে সত্যিই বড় বিপদ ঘটত।সেদিন বিকেলের সেই ঘটনা আমাকে আজও মনে করিয়ে দেয়,জীবনে কখনো অবহেলা বা দুষ্টুমি করে কাউকে বিপদের মুখে ফেলা যায় না। আর পরিবার,বিশেষ করে মামার মতো একজন মানুষের ভালোবাসা,কখনোই ভোলার নয়।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | গল্প ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |





Congratulations!
Your post has been manually upvoted by the SteemPro team! 🚀
This is an automated message.
If you wish to stop receiving these replies, simply reply to this comment with turn-off
Visit here.
https://www.steempro.com
SteemPro Official Discord Server
https://discord.gg/Bsf98vMg6U
💪 Let's strengthen the Steem ecosystem together!
🟩 Vote for witness faisalamin
https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin