The Alchemist Full Story In shot

in #story5 days ago

81ZtAPCqyGL._AC_UF1000,1000_QL80_.jpg
পাওলো কোয়েলহো ডি সুজার বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস 'দ্য আলকেমিস্ট' (The Alchemist) হলো একটি রূপকধর্মী গল্প, যা মানুষের স্বপ্ন দেখা এবং তা পূরণের সাহসের কথা বলে।
গল্পের মূল চরিত্র সান্তিয়াগো, স্পেনের আন্দালুসিয়ার এক সাধারণ মেষপালক। সে আর দশটা মানুষের মতো চার্চ বা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে না থেকে পৃথিবী ঘুরে দেখার জন্য মেষপালকের জীবন বেছে নেয়। সান্তিয়াগো পর পর দুইবার একটি স্বপ্ন দেখে— মিশরের পিরামিডের নিচে একটি গুপ্তধন রাখা আছে। এই স্বপ্নের অর্থ খুঁজতে সে এক জিপসি মহিলার কাছে যায়। সান্তিয়াগো তাকে তার স্বপ্নের কথা বলে- সে স্বপ্নে দেখেছে যে একটি শিশু তাকে মিশরের পিরামিডের কাছে নিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে সেখানে লুকানো গুপ্তধন আছে। কিন্তু ঠিক যখন সে গুপ্তধনের জায়গাটি দেখতে যায়, তখনই তার ঘুম ভেঙে যায়। জিপসি মহিলা তার হাতের রেখা দেখে এবং জানায় যে এটি 'Language of the World' বা বিশ্বের ভাষায় একটি সংকেত। সে বলে, সান্তিয়াগোকে অবশ্যই মিশরে যেতে হবে এবং সেখানে সে সত্যই গুপ্তধন খুঁজে পাবে। মজার ব্যাপার হলো, জিপসি মহিলা কোনো ফি নেয়নি। বদলে সে সান্তিয়াগোর কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেয় যে, সান্তিয়াগো যদি কোনোদিন সেই গুপ্তধন খুঁজে পায়, তবে তার ১০ শতাংশ বা এক-দশমাংশ তাকে দিতে হবে। সান্তিয়াগো প্রথমে একে ভাঁড়ামি মনে করেছিল এবং কিছুটা হতাশ হয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। এরপরে তার দেখা হয় বৃদ্ধ রাজা মেলকিজেদেক-এর সাথে। বৃদ্ধ সান্তিয়াগোর সাথে কথা বলতে শুরু করেন এবং তাকে এমন কিছু ব্যক্তিগত কথা বলেন যা কোনো অপরিচিত মানুষের জানার কথা নয়। তিনি সান্তিয়াগোর বাবা-মায়ের নাম এবং সে যে গির্জায় রাত কাটিয়েছিল তার বর্ণনা হুবহু বলে দেন। রাজা তাকে বোঝান যে, প্রত্যেক মানুষের একটি Personal Legend "পার্সোনাল লিজেন্ড" বা জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে। তিনি বলেন, "মানুষ যখন ছোট থাকে তখন তারা সবাই জানে তাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটি রহস্যময় শক্তি তাদের বোঝাতে থাকে যে, সেই স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব।" তখন মেলকিজেদেক তাকে সেই বিখ্যাত উক্তিটি বলেন— "যখন তুমি কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সত্যিই চেষ্টা করো, তখন পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তোমাকে তা পেতে সাহায্য করে।" রাজা তাকে দুটি পাথর দেন—একটি সাদা (থুম্মীম) এবং একটি কালো (উরীম)। তিনি বলেন, যখন সান্তিয়াগো কোনো দ্বিধায় পড়বে বা 'ওমেন' (সংকেত) বুঝতে পারবে না, তখন এই পাথর দুটি তাকে 'হ্যাঁ' বা 'না' উত্তরের মাধ্যমে পথ দেখাবে। তারপর সান্তিয়াগো তার ভেড়াগুলো বিক্রি করে মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সান্তিয়াগো যখন স্পেনের উপকূলে তার ভেড়াগুলো বিক্রি করে আফ্রিকায় পৌঁছাল, তখন তার পকেটে ছিল প্রচুর টাকা এবং মনে ছিল অনেক স্বপ্ন। কিন্তু টাঞ্জিয়ার ছিল তার চেনা জগতের চেয়ে একদম আলাদা।সেখানে সবাই আরবিতে কথা বলছিল যা সে বুঝত না। সে একটি বারে গিয়ে বসে এবং সেখানে এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। যুবকটি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলত, তাই সান্তিয়াগো তাকে বিশ্বাস করে ফেলে। যুবকটি সান্তিয়াগোকে বলে যে সে তাকে পিরামিড পর্যন্ত নিয়ে যেতে সাহায্য করবে, কিন্তু তার জন্য উট কেনা প্রয়োজন। সে সান্তিয়াগোকে বলে তার সব টাকা তাকে দিতে যাতে সে বাজারে উট কিনতে পারে। জনাকীর্ণ বাজারের ভিড়ে যুবকটি সান্তিয়াগোকে তার হাত শক্ত করে ধরে রাখতে বলে। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য সান্তিয়াগোর মন অন্য এক সুন্দর তলোয়ারের দিকে সরে যায় এবং সেই সুযোগে যুবকটি ভিড়ের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। সান্তিয়াগো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বুঝতে পারে সে প্রতারিত হয়েছে। সূর্যাস্তের সময় সে নিজেকে একেবারে একা, নিঃস্ব এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় আবিষ্কার করে। সে কাঁদতে কাঁদতে ভাবল, পৃথিবীটা আসলে খুব নিষ্ঠুর। সে এমনকি তার সেই জাদুর পাথর 'উরীম ও থুম্মীম' বের করে রাজাকে জিজ্ঞেস করে যে রাজার আশীর্বাদ কি এখনও তার সাথে আছে? পাথর দুটি 'হ্যাঁ' উত্তর দেয়, যা তাকে নতুন করে সাহস যোগায়। ক্ষুধার্ত এবং নিঃস্ব সান্তিয়াগো একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত কাঁচের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। দোকানটি ধুলোবালিতে ভরা ছিল এবং সেখানে কোনো ক্রেতা ছিল না।‌ সান্তিয়াগো দোকানদারকে প্রস্তাব দেয় যে, সে যদি দোকানের কাঁচগুলো পরিষ্কার করে দেয়, তবে তাকে যেন দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। কাজ করার সময় সে লক্ষ্য করে যে যখন সে কাঁচ পরিষ্কার করছিল, তখন দুজন ক্রেতা দোকানে এসেছিল। দোকানদার এটাকে একটি শুভ লক্ষণ বা 'ওমেন' (Omen) হিসেবে দেখেন। সান্তিয়াগো বুঝতে পারে যে স্পেনে ফিরে যাওয়ার মতো টাকা তার কাছে নেই। তাই সে দোকানদারের কাছে কাজ চায়। দোকানদার তাকে কাজে রাখেন। সান্তিয়াগো সেখানে প্রায় এক বছর কাজ করে। কিন্তু সে কেবল একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করেনি, সে তার সৃজনশীলতা দিয়ে ব্যবসা বদলে দেয়। সে দোকানদারকে প্রস্তাব দেয় দোকানের বাইরে একটি ডিসপ্লে কেস রাখার জন্য যাতে পথচারীরা কাঁচের সুন্দর পাত্রগুলো দেখতে পায়। যদিও দোকানদার পরিবর্তনকে ভয় পেতেন, তবুও তিনি রাজি হন এবং বিক্রি বেড়ে যায়। সান্তিয়াগো লক্ষ্য করে যে পাহাড়ের ওপর উঠে আসা মানুষরা তৃষ্ণার্থ থাকে। সে প্রস্তাব দেয় কাঁচের গ্লাসে করে পুদিনা চা (Mint Tea) পরিবেশন করার জন্য। এই বুদ্ধিটি দারুণ কাজ করে এবং দোকানটি পুরো এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।‌ এই সময় সান্তিয়াগো দোকানদারের কাছ থেকে একটি বড় জীবনদর্শন শেখে। দোকানদার সারাজীবন মক্কায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন (হজ্জ করার জন্য), কিন্তু তিনি কখনো যাননি। তিনি ভয় পেতেন যে যদি তার স্বপ্ন সত্যি হয়ে যায়, তবে তার বেঁচে থাকার আর কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না। সান্তিয়াগো বুঝতে পারে যে অনেকে শুধু স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে ভালোবাসে, সেটা পূরণ করতে নয়। টাঞ্জিয়ারের কাঁচের দোকানে কাজ করে প্রচুর অর্থ উপার্জনের পর সান্তিয়াগো মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার জন্য একটি বিশাল কাফেলায় (Caravan) যোগ দেয়। সেখানেই তার পরিচয় হয় এক শিক্ষিত ইংরেজ ব্যক্তির সাথে। ওই ব্যক্তিটি ছিল একজন রসায়নবিদ বা আলকেমি স্টুডেন্ট। সে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করে জেনেছে যে, মরুভূমির আল-ফায়ুম ওএসিসে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী 'আলকেমিস্ট' বাস করেন, যিনি কি না সাধারণ ধাতুকে সোনা বানাতে পারেন এবং 'অমৃত' (Elixir of Life) তৈরির রহস্য জানেন।‌ যাত্রাপথে ইংরেজ লোকটি সারাক্ষণ তার বইয়ে ডুবে থাকত, আর সান্তিয়াগো মরুভূমির প্রকৃতি ও আকাশের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করত। ইংরেজ লোকটি সান্তিয়াগোকে আলকেমির জটিল তত্ত্বগুলো বোঝাত, আর সান্তিয়াগো তাকে শেখাত কীভাবে মরুভূমির নীরব ভাষা বা 'Soul of the World' বুঝতে হয়। তারা বুঝতে পারে যে, জ্ঞান অর্জনের পথ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য আসলে এক। সেসময় মরুভূমিতে উপজাতীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার খাতিরে কাফেলাটি আল-ফায়ুম নামক এক বিশাল মরুদ্যানে আশ্রয় নেয়। কারণ নিয়ম অনুযায়ী মরুদ্যানে কোনো যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল। একদিন একটি কূপের কাছে পানি নিতে আসা ফাতেমা নামের এক বেদুইন তরুণীকে দেখে সান্তিয়াগো স্তব্ধ হয়ে যায়। সে মুহূর্তেই বুঝতে পারে যে এটিই সেই 'Language of the World' বা ভালোবাসা, যার জন্য কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না। সান্তিয়াগো তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তার জন্য মরুদ্যানে থেকে যাওয়ার কথা ভাবে। কিন্তু ফাতেমা ছিল 'মরুভূমির নারী'। সে সান্তিয়াগোকে বলে যে, তার নিজের স্বপ্ন (পিরামিড ও গুপ্তধন) পূরণ না করে ফিরে আসা উচিত নয়। ফাতেমা তাকে কথা দেয় যে, সে মরুভূমির বাতাসের মতো সান্তিয়াগোর জন্য অপেক্ষা করবে। এটি সান্তিয়াগোকে শিখিয়েছিল যে, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মানুষের স্বপ্নের পথে বাধা হয় না। মরুদ্যানে থাকাকালীন একদিন সান্তিয়াগো আকাশে দুটি বাজপাখির লড়াই দেখে একটি ভয়ানক দর্শনের (Vision) সম্মুখীন হয়। সে বুঝতে পারে যে, মরুদ্যানে শান্তি থাকার কথা থাকলেও একদল সৈন্য এটি আক্রমণ করতে আসছে। সান্তিয়াগো ওএসিসের প্রধানদের কাছে গিয়ে এই বিপদের কথা জানায়। প্রধানরা তার কথায় বিশ্বাস করতে দ্বিধা করলেও একটি শর্ত দেন: যদি পরের দিন আক্রমণ হয়, তবে সান্তিয়াগোকে প্রতিটি শত্রুর জন্য স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হবে। কিন্তু যদি আক্রমণ না হয়, তবে তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হবে। পরদিন ভোরে সত্যিই মরুদ্যানে আক্রমণ হয় এবং সান্তিয়াগোর সতর্কবার্তার কারণে ওএসিসের যোদ্ধারা প্রস্তুত ছিল। তারা আক্রমণকারীদের পরাজিত করে এবং সান্তিয়াগো ওএসিসের 'কাউন্সেলর' নিযুক্ত হয়। সান্তিয়াগোর এই অসামান্য ক্ষমতার খবর পেয়ে মরুভূমির সেই রহস্যময় আলকেমিস্ট তার সামনে এসে দাঁড়ান। আলকেমিস্ট প্রথমে ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার উঁচিয়ে সান্তিয়াগোকে ভয় দেখান এবং জিজ্ঞেস করেন— "কে আমার বাজপাখির ভাষা পড়ার সাহস দেখিয়েছে?" সান্তিয়াগো সাহসের সাথে উত্তর দিলে আলকেমিস্ট বুঝতে পারেন যে তিনিই সেই যোগ্য ব্যক্তি যার জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন।‌ আলকেমিস্ট সান্তিয়াগোকে বলেন যে, সে যদি মরুদ্যানে থেকে যায় তবে সে ধনী হবে এবং ফাতেমার সাথে সুখে থাকবে, কিন্তু কয়েক বছর পর সে অনুভব করবে যে সে তার 'পার্সোনাল লিজেন্ড' বা জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করেনি। তখন তার জীবন অর্থহীন হয়ে পড়বে। আলকেমিস্ট সান্তিয়াগোকে সাথে নিয়ে পিরামিডের দিকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে তিনি সান্তিয়াগোকে শেখান কীভাবে নিজের হৃদয়ের কথা শুনতে হয়। তিনি বলেন— "তোমার হৃদয় যেখানে, সেখানেই তোমার গুপ্তধন।" তিনি তাকে বাতাসের সাথে কথা বলা এবং সবকিছুর মধ্যে স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার শিক্ষা দেন। আলকেমিস্টের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সান্তিয়াগো একা তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। এক রাতে চাঁদের আলোয় সে বিশাল এবং মহিমান্বিত মিশরের পিরামিড দেখতে পায়। পিরামিড দেখে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে কৃতজ্ঞতা জানায় যে, সে অন্তত তার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে। আলকেমিস্ট তাকে শিখিয়েছিলেন যে, যেখানে তার চোখের পানি পড়বে, সেখানেই তাকে খুঁড়তে হবে। ঠিক সেই মুহূর্তে সে একটি 'স্কারাব বিটল' (মিশরে যাকে পবিত্র মনে করা হয়) দেখতে পায় এবং সেটাকে শুভ সংকেত মেনে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। সান্তিয়াগো সারারাত ধরে মাটি খুঁড়তে থাকে কিন্তু কিছুই পায় না। এমন সময় সেখানে একদল মরু-ডাকাত উপস্থিত হয়। তারা তাকে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা সব সোনা (যা ওএসিস, আলকেমিস্ট তাকে দিয়েছিল) কেড়ে নেয়। ডাকাতরা ভাবছিল সে হয়তো আরও সোনা মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছে, তাই তারা তাকে প্রচণ্ডভাবে প্রহার করে এবং আরও মাটি খুঁড়তে বাধ্য করে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সান্তিয়াগো চিৎকার করে ডাকাতদের বলে যে, সে কোনো চোর বা গুপ্তচর নয়। সে কেবল তার স্বপ্নের পিরামিডের নিচে লুকানো গুপ্তধনের সন্ধানে এতদূর এসেছে। তার এই 'পাগলামি' শুনে ডাকাতদের সর্দার হাসিতে ফেটে পড়ে। সে তার অনুসারীদের বলে সান্তিয়াগোকে ছেড়ে দিতে, কারণ তার মনে হয়েছিল সান্তিয়াগো একজন উন্মাদ এবং তার কাছে আর কিছুই নেই। যাওয়ার আগে ডাকাত সর্দার সান্তিয়াগোকে উপহাস করে বলে: "তুমি কত বড় বোকা! মাত্র একটি স্বপ্নের জন্য তুমি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে এতদূর এসেছ? আজ থেকে দুই বছর আগে আমিও ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি দেখেছিলাম স্পেনের এক গ্রাম্য এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গির্জা আছে, যেখানে মেষপালকরা তাদের ভেড়া নিয়ে রাত কাটায়। সেই গির্জার ভেতরে একটি বড় 'সুকোমোর' (Sycamore) গাছ আছে এবং সেই গাছের শিকড়ের নিচে একটি বিশাল গুপ্তধন লুকানো আছে। কিন্তু আমি তোমার মতো বোকা নই যে একটি স্বপ্নের পেছনে ছুটে স্পেনে যাব।"‌ ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর সান্তিয়াগো হাসতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে, ডাকাত সর্দার যে গির্জা এবং গাছের বর্ণনা দিয়েছে, সেটি ঠিক সেই জায়গা যেখানে সে তার ভেড়া নিয়ে থাকতো এবং যেখানে সে প্রথমবার সেই স্বপ্নটি দেখেছিল। গুপ্তধনটি কখনোই পিরামিডের নিচে ছিল না; এটি ছিল ঠিক তার বাড়িতে, যেখান থেকে সে যাত্রা শুরু করেছিল। সান্তিয়াগো আবার স্পেনের সেই পরিত্যক্ত গির্জায় ফিরে যায়। সে সেই পুরনো সুকোমোর গাছের নিচে মাটি খুঁড়তে শুরু করে এবং শীঘ্রই সে স্পেনীয় স্বর্ণমুদ্রা ও রত্নখচিত একটি সিন্দুক খুঁজে পায়। সে এখন কেবল ধনীই নয়, বরং তার কাছে আছে মরুভূমির অভিজ্ঞতা, আলকেমিস্টের জ্ঞান এবং ফাতেমার ভালোবাসা।সে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসে এবং বলে- "সালেম-এর রাজা, আপনি তো এটা আমাকে আগেই বলতে পারতেন!" কিন্তু সে মনে মনে জানত, যদি সে পিরামিড পর্যন্ত না যেত, তবে সে কখনও মরুভূমির ভাষা বুঝতে পারত না এবং তার জীবন সম্পর্কে এই গভীর উপলব্ধি আসত না। সিন্দুকটি পাওয়ার পর সান্তিয়াগো আবার তারিফা (Tarifa) শহরে ফিরে যায়। সেখানেই সেই জিপসি মহিলা বাস করতেন। সান্তিয়াগো তাকে তার পাওনা দশমাংশ প্রদান করে নিজের সততার পরিচয় দেয়। কারণ লক্ষ্য অর্জনের পর সান্তিয়াগো বুঝতে পেরেছিল যে, প্রতিটি ছোট ছোট সাহায্যই তার সফলতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তাই সে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেনি। জিপসি মহিলাকে তার ভাগ দেওয়ার পর এবং নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ রাখার পর, সান্তিয়াগো তার বাকি জীবন কাটানোর জন্য আবার মরুভূমির দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কারণ তার আসল "গুপ্তধন" ছিল সেই ফাতেমা, যে কি না সাহারা মরুভূমির আল-ফায়ুম ওএসিসে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। সান্তিয়াগোর এই সততা এবং কৃতজ্ঞতাবোধ তাকে কেবল একজন ধনী ব্যক্তি নয়, বরং একজন প্রকৃত "আলকেমিস্ট" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

✅Main Title✅

✅Description✅

✅Description✅



✅ ➊ You can write comments or thoughts about the above photo here. ➋ Edit the content between the check emojis, and delete the check emojis at the beginning and end. ➌ The check emoji is marked for the purpose of letting users know which part needs to be corrected.✅



✅Enter subtitle here✅

✅ ➊ You can write comments or thoughts about the above photo here. ➋ Edit the content between the check emojis, and delete the check emojis at the beginning and end. ➌ The check emoji is marked for the purpose of letting users know which part needs to be corrected.✅



Main Title

01. Sub Title

This is the most basic template for beginners using markdown for the first time. By simply editing the text between the check emojis, anyone can create great blog content as if using an editor.

Use an asterisk mark to provide emphasis, such as italics or bold.

Create lists with a dash:

  • Item 01
  • Item 02
  • Item 03
Use back ticks
to create a block of code


✅Description✅


✅ ➊ You can write comments or thoughts about the above photo here. ➋ Edit the content between the check emojis, and delete the check emojis at the beginning and end. ➌ The check emoji is marked for the purpose of letting users know which part needs to be corrected.✅

  1. ✅Item 01✅
  2. ✅Item 02✅
  3. ✅Item 03✅



Sort:  
Loading...