গল্প রাইটিং:-"ভালোবাসা, ভালো লাগা এক নয় "II written by @maksudakawsarII

in আমার বাংলা ব্লগlast month

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে । আমিও আছি আপনাদের দোয়ার বরকতে জীবন নিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি আজকাল ব্যস্ততাগুলো আমায় দারুন প্যারা দিচেছ। প্যারা দিচ্ছে জীবন আর সময় দুটোই। কিন্তু আমি তো ব্যস্ততা চাই না। চাই একটু শান্তি আর প্রশান্তি। চাই একটু স্বাধীনতা। যাই হোক এসব কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তাই চলে যাই আজ আপনাদের জন্য আমার লেখা সুন্দর গল্পে। যা কিনা বাস্তব জীবেন থেকে সংগ্রহ করা।

প্রতিদিনই চেষ্টা করি আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের বাস্তব কিছু ঘটনাকে গল্পে রূপ দিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে। যাতে করে আমার লেখার যাদুতে আপনারা মুগ্ধ হতে পারেন। যদিও সময় করে উঠতে পারি না। যদিও নিজের ক্রেয়েটিভিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার সময় হয় না। তবুও চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল গল্পটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।

image.png

আদ্রিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স করছে। আর শুভ পড়াশুনা শেষ করে একটি কর্পোরেট অফিসে ভালো একটি চাকুরি করে। আদ্রিতা আর শুভ সেই ছেলেবেলা হতে ভালো বন্ধু। কেউ যেন কাউ কে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারে না। তাদের জীবনে এমন কিছুই নেই যে যা তারা একে অপরের সাথে শেয়ার করে না। প্রতিদিন তাদের দেখা হওয়া চাই চাই। জীবনের সুন্দর সময়গুলো তারা পার করে দিচেছ আনন্দে আর হাসির ছলে। দেখতে দেখতে আদ্রিতার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনাও শেষ হয়ে গেল। তারপর আদ্রিতা এখন একজন কলেজ শিক্ষিকা। আর এই পেশাটিই নেওয়ার জন্য আদ্রিতা সেই ছেলেবেলা হতে স্বপ্ন দেখে আসছে।
কিন্তু এরই মাঝে আদ্রিতা আর শুভর জীবনে নেমে আসে ব্যস্ততা। আজকাল দু জনেই দুজনের পেশা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু তারই মাঝে একদিন আদ্রিতার জীবনে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। নিজের অজান্তেই আদ্রিতার চোখে কলেজের এক অধ্যাপক কে ভালো লাগা শুরু হয়ে যায়। যেহেতু আদ্রিতা দেখতে শুনতে বেশ সুন্দর এবং স্মার্ট তাই আদ্রিতাকে দেখেও যে কোন ছেলে সহজেই চোখ ফেরাতে পারে না। যেমন পারেনি অবাগও। প্রতিদিন যখন শিক্ষকদের রুমে বসে সবাই আড্ডা দেয় তখন যেন দু জন দুজনার দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারে না। আর এমন করেই আদ্রিতা আর আবাগের মাঝে এক সময়ে গড়ে উঠে ভালোবাসার সম্পর্ক

আদ্রিতা আর এই ভালোবাসার কথা গোপন রাখতে পারে না শুভর কাছ থেকে। শুভ আদ্রিতার এই নতুন জীবনের গল্প শুনে আদ্রিতাকে উইস করে। এবং আদ্রিতার আনন্দে নিজেকে আনন্দিত করে তোলে। এই নিয়ে দুজনে বেশ সেলিব্রেশনও করে। কত শতই না কল্পনা তৈরি করে শুভ আদ্রিতা আর অবাগের ভালো ভালোবাসা ঘিরে। এরপর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে শুভ আর আদ্রিতার কোন যোগাযোগ হয়নি। কি করে হবে? শুভ যে তার যোগাযোগের সব গুলো মাধ্যম গুটিয়ে নিয়ে অনেক দূর চলে গেছে। আর এদিকে আদ্রিতা শুভ কে বেশ খোঁজ করেও কোথাও আর খুঁজে পায়নি। শুভর জন্য আদ্রিতা বেশ কষ্ট পেয়েছে।

তবে আদ্রিতা এরই মধ্যে অবাগের সাথে ঘর বেধেঁছে। তাদের সংসারে বেশ ফুট ফুটে দুটো বাচ্চাও আছে। আর এমন করে ‍ সুখে শান্তিতে কেটে যাচ্ছে আদ্রিতার জীবন। কিন্তু এরই মধ্যে আদ্রিতা আর শুভর আবার দেখা হয়ে যায়। কিন্তু এ দেখা কিন্তু সে দেখা নয়। হঠাৎ আদ্রিতার মোবাইলে একটি ফোন আসে। আর এই ফোন আসে কোন একটি হাসপাতাল হতে। শুভ নামের এক রোগী আদ্রিতার সাথে দেখা করতে চায়। আদ্রিতা শুভর কথা শুনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। শুভর সাথে দেখা করার জন্য আদ্রিতা আর একটি মূহূর্ত ও দেরী করেনি। খুব তাড়াতাড়ি আদ্রিতা হাসপাতালে পৌঁছে যায়। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে আদ্রিতা এ কোন শুভ কে দেখছে?

রোগে শোকে শুভ যেন নিঃশ্বেস হয়ে গেছে। জীবনের অন্তীম সময়ে এসে সে আদ্রিতা কে একটি বার দেখার জন্য তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। আদ্রিতা শুভ কে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। শুভও না। দুজন যেন কান্নার এক মহা সমুদ্রে ডুবে গেছে। এরই মধ্যে আদ্রিতা শুভর চিকিৎসার সব খোঁজ খবর নিয়ে নিয়েছে। শুভর হাতে আর বেশী সময় নেই। জীবনের এমন সময়ে এসে আদ্রিতা প্রিয় বন্ধুকে হারানোর কষ্ট কি করে ভুলবে?। আদ্রিতা শুভর হাত ধরে বসে আছে। শুভ আদ্রিতার হাতে একটি লাল ফিতের ডাইরী তুলে দিলো। আর আদ্রিতা কে ধন্যবাদ জানালো তার ডাকে সারা দিয়ে আসার জন্য। আদ্রিতা বিদায় নিয়ে বাসায় চলে গেল।

আদ্রিতা যখন রাতে সেই ডাইরীটি পড়লো তখন আদ্রিতার দুচোখ দিয়ে শুধু পানি ঝড়ছে। শুভ যে আদ্রিতা কে এতটা ভালোবাসতো আর এতটা নিজের মত করে চাইতো সেটা আদ্রিতার জানা ছিল না। আদ্রিতার চোখে শুভ ছিল এক মহান পুরুষ। যাকে কিনা একটি সম্মানজনক স্থানে রেখে সারা জীবন শুধু সম্মান করা যায়। কিন্তু শুভ যে আদ্রিতা কে এমন করে ভালোবাসতো সেটা কিন্তু আদ্রিতা জানতো না। আদ্রিতার এমন অবস্থা দেখে অবাক আদ্রিতার পাশে দাঁড়ায়। তারা দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে শুভর জীবনের বাকী সময়টুকু আদ্রিতা তার ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিবে।

কিন্তু ততক্ষনে বেশ দেরী হয়ে গেছে। পরদিন হাসপাতালে গিয়ে আদ্রিতা আর শুভ কে পায়নি। শুভ ততক্ষনে এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছে পরপারে। সত্যি বলতে ভালো লাগা আর ভালোবাসা দুটি দুই বিন্দু। তাই শুভ আর আদ্রিতার জীবনে আর ভালোবাসার ফুল ফুটেনি।

জানিনা কেমন লাগলো আমার আজকের গল্পটি। আশা করি আপনাদের সবার কাছেই আমার গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। ভালো থাকবেন।

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


3W72119s5BjVs3Hye1oHX44R9EcpQD5C9xXzj68nJaq3CeF5StuMqDPqgYjRhUxqFbXTvH2r2mDgNbWweA4YGBo825oLh4oqEqeynn5EZL11LdCrppngkM (1).gif

VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

1000206266.png

1000206267.png

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️