নদীর পাড়ে বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটা আমাদের শৈশবের মতোই আপন। বর্ষার শেষে এক ঝলমলে সকালে আমরা কয়েকজন বন্ধু ঠিক করলাম নদীর পাড়ে গিয়ে গোসল করব। আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে কাঁচা ঘাসের গন্ধ, আর দূরে ভেসে আসা পাখির ডাক সব মিলিয়ে দিনটা যেন আনন্দের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হলো। কাঁধে তোয়ালে, হাতে সাবান, হাসি-ঠাট্টায় ভরা মন নিয়ে আমরা রওনা দিলাম।
নদীর কাছে পৌঁছেই চোখ জুড়িয়ে গেল। জলে রোদের ঝিলিক, ঢেউয়ের নাচ, পাড়ে নরম বালু,সবই যেন আমাদের জন্য সাজানো। কেউ আগে নেমে জল ছিটাতে শুরু করল, কেউ আবার সাহস করে গভীরে ঝাঁপ দিল। প্রথম স্পর্শেই শীতল জলে শরীর কেঁপে উঠল, তারপরই মন ভরে গেল প্রশান্তিতে। নদীর স্রোত আমাদের ক্লান্তি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।গোসলের ফাঁকে ফাঁকে শুরু হলো খুনসুটি। কেউ পানির নিচে ডুব দিয়ে লুকোচুরি খেলল, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটল। হাসির রোল উঠল যখন এক বন্ধু হঠাৎ পা পিছলে জলে পড়ে গেল,কিন্তু মুহূর্তেই সবাই তাকে ধরে ফেলল। সেই মুহূর্তে বোঝা গেল, বন্ধুত্ব মানে শুধু আনন্দ নয়, একে অপরের পাশে থাকা।
পাড়ে বসে কিছুক্ষণ রোদ পোহালাম। ভেজা চুলে রোদ লাগতেই যেন নতুন শক্তি এলো। কেউ ছোটবেলার গল্প বলল, স্কুল পালিয়ে নদীতে নামার স্মৃতি, কেউ আবার ভবিষ্যতের স্বপ্ন শোনাল। নদীর কলকল শব্দের মাঝে কথাগুলো আরও গভীর হয়ে উঠল। মনে হলো, এই নদী আমাদের কথা শুনছে, আমাদের হাসি জমিয়ে রাখছে।আবার জলে নেমে আমরা একসাথে গান ধরলাম। সুর ঠিক না মিললেও আবেগ ঠিকই মিলল। জলের ঢেউ তালে তালে দুলে উঠল, আর আমাদের মন উড়ে গেল দূরে কোথাও। সেই সময় মোবাইল, ব্যস্ততা, চিন্তা সবই যেন ভুলে গেলাম। প্রকৃতির কোলে ফিরে পেয়ে গেলাম নিজেদের।
গোসল শেষে তোয়ালে জড়িয়ে পাড়ে বসে হালকা নাশতা করলাম। বাড়ি থেকে আনা মুড়ি, চানাচুর আর লেবু,স্বাদ যেন দ্বিগুণ লাগছিল। সূর্য একটু ঢলে পড়েছে, নদীর রঙ বদলাচ্ছে। আমরা জানতাম, এই দিনটা স্মৃতিতে থেকে যাবে।ফেরার পথে মনে হলো, নদীর পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে এই ছোট ছোট মুহূর্তই জীবনের আসল সুখ। বছর পেরোবে, জীবন বদলাবে, কিন্তু নদীর জলে ভেজা এই বন্ধুত্বের স্মৃতি কখনো শুকোবে না।
আমার পরিচয়
আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।
👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

.jpg)

