নদীর পাড়ে বন্ধুদের সাথে কাটানো আনন্দময় ভ্রমণের গল্প
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
নদীর পাড়ে ভ্রমণ মানেই যেন হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে যাওয়া এক প্রশান্তির আহ্বান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম কাছের এক নদীর তীরে। সকালবেলা হালকা কুয়াশা ভেদ করে যখন বাস থেকে নামলাম, তখনই অনুভব করলাম প্রকৃতির কাছে চলে এসেছি আমরা।নদীর ধারে পৌঁছাতেই চোখে পড়ল শান্তভাবে বয়ে চলা জলধারা, যার গায়ে রোদের ঝিলিক পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করেছে। বাতাসে ভেসে আসছিল কাঁচা ঘাস আর ভেজা মাটির গন্ধ। আমরা সবাই যেন কিছুক্ষণের জন্য মোবাইল ফোন আর শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে গেলাম।
বন্ধুদের মধ্যে কেউ ছবি তুলছিল, কেউ আবার নদীর পাড়ে বসে ঢেউয়ের সাথে কথা বলছিল নীরবে। আমি আর দু’জন বন্ধু পাথরের উপর বসে পা ঝুলিয়ে জলে ছুঁইয়ে দিলাম, ঠান্ডা স্রোত যেন মনকেও শীতল করে দিল। হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর পুরোনো স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আমরা সময় কাটাতে লাগলাম। মাঝে মাঝে কেউ পুরোনো কলেজ জীবনের মজার ঘটনা তুলে ধরছিল, আর সবাই একসাথে হেসে উঠছিলাম।
দুপুরের দিকে আমরা নিজেদের আনা খাবার ভাগাভাগি করে খেলাম। সাধারণ খাবার হলেও নদীর পাড়ে বসে খেতে তার স্বাদ যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে নদীর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম এই স্রোতের মতোই সময়ও বয়ে চলে, কিন্তু এমন মুহূর্তগুলো হৃদয়ে থেকে যায় দীর্ঘদিন।কিছুক্ষণ পর আমরা নৌকার কাছে গেলাম। ছোট্ট এক নৌকায় উঠে নদীর বুকে কিছুদূর ঘুরে এলাম। জল ছুঁয়ে যাওয়ার শব্দ, দূরের সবুজ তীর আর নীল আকাশ সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল আমরা কোনো ছবির ভেতর ঢুকে পড়েছি। সেই সময় কেউ চুপচাপ বসে ছিল, কেউ আবার গান ধরেছিল হালকা স্বরে।
ফিরতি পথে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছিল, তখন নদীর রঙও বদলে গেল সোনালি আভায়। আমরা ধীরে ধীরে ফিরছিলাম, কিন্তু মনে হচ্ছিল মনটা এখনো নদীর পাড়েই রয়ে গেছে। এই ভ্রমণ আমাদের শুধু আনন্দই দেয়নি, বরং বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে।নদীর পাড়ে বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই দিনটি আজও মনে পড়লে মুখে অজান্তেই হাসি চলে আসে। সত্যিই, প্রকৃতি আর প্রিয় মানুষের সঙ্গ,এই দুয়ের মেলবন্ধনেই জীবনের আসল সুখ লুকিয়ে আছে।
.jpg)

