শিক্ষক পদত্যাগ কি যৌক্তিক?
আমি @rahnumanurdisha বাংলাদেশ থেকে। কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগ এর সকল ইন্ডিয়ান এবং বাংলাদেশি বন্ধুরা?আশা করছি সকলেই অনেক ভালো আছেন?আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়।ফিরে এলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে।
আজকে কোন টপিক নিয়ে লিখতে চলেছি এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পেরে গিয়েছেন বন্ধুরা।একজন ছাত্রের জীবনে শিক্ষক সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।স্কুল লেভেল থেকে শুরু করে কলেজ,ভার্সিটি সবজায়গায় একজন শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম।আমি আমার শিক্ষা জীবনে অনেক শিক্ষক পেয়েছি যাদের ঋণ আসলেই কখনো শোধ করার মতো না।একজন শিক্ষার্থীর ভালো করার পিছনে একজন শিক্ষক সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে থাকেন তারপর পরিবার এবং অন্যরা।বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এসে দেখতে পাচ্ছি শিক্ষা অনেকটাই বাণিজ্যিক হয়ে গিয়েছে।এখন আগেকার টিচার গুলো বাদে নতুন টিচার যারা এসেছেন অবশ্য সবাই না তারা তাদের পেশাটাকে বাণিজ্যিক বানিয়ে ফেলেছেন।এমনকি দল কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘুষ,অনৈতিক কর্মকান্ড,ছাত্রী হয়রানি সবধরনের কাজ গুলোতে জড়িত।
এসকল কিছু দেখতে দেখতে শিক্ষাথীরা অনেকটাই বিরক্ত। এর আগে কখনোই একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের কথা বলার সাহস ছিলনা।তবে বর্তমান ছাত্র আন্দোলন হওয়ার পর থেকে প্রতিটি স্কুল কলেজে পড়েছে পদত্যাগের ধুম।কেউ অন্যায় করে আর পার পারছেন না।অনেককে শিক্ষক কে করা হচ্ছে অসম্মান।আমি শিক্ষকদের অসম্মান করার পক্ষে কখনোই না।যদি তাদের ভুল ত্রুটি থেকে থাকে তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে হোক যেভাবে হোক শুধরানোর সুযোগ দিতে হবে।কিন্তু কখনো অসম্মান না।কারণ একজন গুরু কে যে অসম্মান করে সে কখনো আদর্শ শিক্ষার্থী হতে পারেনা।চলুন আজকের পোস্টের মূল আলোচনা শেয়ার করা যাক।আমাদের শহরে আজকে একজন শিক্ষকের পদত্যাগ নিয়ে বেশ আন্দোলন চলছে।এতে শহরের দুই কলেজ অর্থাৎ মহিলা এবং আমাদের সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নেমেছে।যেই স্যারের পদত্যাগের জন্য ছাত্র ছাত্রীরা নেমেছে তিনি পরীক্ষার হলে অনেকটা খারাপ আচরণ করেন।তাছাড়া শিক্ষার্থীদের মেন্টাল প্রেসারে রাখেন।এছাড়াও তার নামে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ।
যেগুলো ছাত্রীদের সাথে অসভ্য আচরণ করেন তিনি ।তো মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল স্যার শিক্ষার্থীদের উক্ত স্যার পতনের কারণ জানতে চাইলে সেখানে অনেক কিছুই হাইলাইট করা হয়েছে যেগুলো একজন শিক্ষকের থেকে কখনোই কাম্য নয়।আমাদের সোনার বাংলাদেশে আমরা কোনো শিক্ষার্থী এমন শিক্ষক আর আসা করিনা। আমরা এমন শিক্ষক চাই যেখানে আমরা নির্ভয়ে চলাচল করতে পারি যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।আন্দোলনে সম্মতি দিয়েছেন কলেজের প্রিন্সিপাল তিনি বলেছেন শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন তিনি সব দাবি মেনে নেওয়া হবে এমনটাই আশা করা যায়।শিক্ষক যদি তার আদর্শ ধরে রাখতে না পারেন আমার মতে এই সম্মানীয় পেশাটিকে কলঙ্কিত করার অধিকার নেই তার।একটি দেশ এগিয়ে যেতে ছাত্রদের পাশাপশি একজন আদর্শ শিক্ষক ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।তাই আমরা প্রতিটি স্কুল, কলেজ,ভার্সিটিতে আদর্শবান শিক্ষক চাই।আমাদের সকল শিক্ষার্থীর দাবি এমনটি।যেখানে আদর্শবান শিক্ষক নেই সেখানেই পদত্যাগ যৌক্তিক একটি বিষয়।
ধন্যবাদ সবাইকে আমার ব্লগটি পড়ার জন্য।আমার আজকের ব্লগটি কেমন লেগেছে কমেন্টে জানতে ভুলবেন না কিন্তু বন্ধুরা । আবার নতুন কোনো ব্লগ নিয়ে খুব শীঘ্রই আপনাদের মাঝে উপস্থিত হবো।
Post by-@rahnumanurdisha
Date -2nd September,2024
VOTE @bangla.witness as witness

OR
VOTE @bangla.witness as witness

আপু আমার কাছে কেন জানি মনে হয় শিক্ষক পদত্যাগের বিষয়টা নিয়ে আরো একটু ভাবা উচিত ছিল। শিক্ষকদেরকে অসম্মান করার মত পরিস্থিতি বর্তমানে তৈরি হয়েছে। তবে অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক আছেন তাদের পদত্যাগ অবশ্যই কাম্য। কিন্তু নিরাপদ মানুষগুলোকে অসম্মান করা উচিত নয়।
জি আপু ঠিক বলেছেন একদম,ধন্যবাদ।
আসলে সব শিক্ষার্থী খারাপ নয় আবার সব শিক্ষকরা ভালো নয় আবার সব শিক্ষক যে খারাপ হবে তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু কুরুচি সম্পন্ন মানুষ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়ে যেকোনো মুহূর্তে খারাপের পরিচয় দিয়ে ফেলে আর সেই পরিবেশটাকে সে দূষণ করে। তাই আমি মনে করি প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ব্যক্তিকেই আসনে বসাতে হবে যেন তার দ্বারা জাতির উন্নতি হয় এবং সভ্য জাতি গঠনের আশা করা যায়।
অনেক নিউজে দেখছি জোর করে ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষকদের পদত্যাগ করাচ্ছেন। যা কখনই কাম্য নয়। শিক্ষকের যদি অন্যায় থাকে তবে তার অভিযোগ লিখিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ পেশ করা ।তারাই তার যথাযথ শাস্তি দিবেন। শিক্ষার্থীদের এখানে জড়িত থাকা মোটেই কাম্য নয়।
সরকারের পতন হওয়ার ফর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক দের পদত্যাগ করতে দেখা যাচ্ছে। যারা সেচ্ছায় পদত্যাগ করছে তাদের বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেএে দেখলাম শিক্ষার্থীরা একপ্রকার জোর করে অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক কে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছে। অনেক সময় শিক্ষক রা লাঞ্চিত হচ্ছে। এটা এককথায় মেনে নেওয়া যায় না।
শিক্ষককে ছাত্ররা জোর করে পদত্যাগ করানো টা আমি যৌক্তিক মনে করি না। যদি কোন শিক্ষকের ব্যাপারে অভিযোগ থাকে তাহলে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে পারে। সেটায় কাজ না হলে উনার ক্লাশ বর্জন করতে পারে। এটা আমার নিজের অভিমত। ধন্যবাদ।
❤️আমার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি❤️
আমি রাহনুমানূর দিশা।আমার জাতীয়তা বাংলাদেশী।আমি বর্তমান অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছি।আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সাথে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় থেকে যুক্ত রয়েছি।বাংলা ভাষায় লিখতে, পড়তে এবং নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে আমার ভালো লাগে।এছাড়াও ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতে অনেক ভালো লাগে।অবসর সময়ে গান শুনতে এবং বাংলা নাটক দেখতে পছন্দ করি।