পুরনো কথা
ওই যে, শেষ দেখা হয়েছিল গলির ভেতরে, প্রিন্স ভাইয়ের দাঁতের চেকআপের জন্য চেম্বারে এসেছিলেন। তারপর তো আর দেখাই হলো না, ভাই। সময় কীভাবে যে চলে যায়, বুঝতেই পারি না।
বহুদিন পর আপনাকে ফেসবুকে দেখে বেশ ভালো লাগল। ছবি দেখে শুরুতে তো চিনতেই পারিনি! চেহারায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে আপনার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বদলে যায়, চেহারায়ও তার ছাপ পড়ে,তবুও কিছু মানুষকে দেখলে পুরোনো দিনগুলো হঠাৎ করেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
রাজীব ভাইয়ের নামটা পড়ে বেশ ধাক্কা খেলাম। কত পুরোনো স্মৃতি যে একসঙ্গে মনে পড়ে গেল, তা বলে বোঝানো কঠিন। বাসার গলি দিয়ে বের হয়ে আপনাদের কাজী বাড়ির ভেতরে ঢুকে এদিক-সেদিক কত যে ছোটাছুটি করেছি শৈশবে, তার কোনো হিসাব নেই। সেই সময়টাতে কোথায় যে কতবার গিয়েছি, কতজনের সঙ্গে মিশেছি, কত রকমের দুষ্টুমি করেছি,আজ ভাবলে মনে হয়, সেসব যেন অন্য কোনো জীবনের গল্প।
একটা সময় ছিল, যখন গলি, বাড়ি, উঠান, পরিচিত মুখ সবকিছুই ছিল আমাদের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তখন বুঝিনি, এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই একদিন এত বড় স্মৃতি হয়ে বুকের ভেতর জমা থাকবে। সময় চলে গেছে, মানুষগুলোও যার যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, অনেকেই দূরে চলে গেছে; কিন্তু স্মৃতিগুলো কোথাও যায়নি।
কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে! কিছু স্মৃতি সময়ের সঙ্গে মলিন হয় না, বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর মূল্য যেন আরও বেড়ে যায়।
অনেকদিন পর আপনাকে দেখে সেই পুরোনো দিনগুলোর কথাই মনে পড়ে গেল। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, ভাই। পুরোনো দিনের মানুষগুলোকে এভাবেই হঠাৎ হঠাৎ ফিরে পেলে সত্যিই ভালো লাগে।
ভালো থাকবেন। অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা রইল।
