উঠান বৈঠক

in আমার বাংলা ব্লগ • 2 days ago

40983.jpg

শহুরে জাঁকজমকপূর্ণ জীবন ছেড়ে স্বেচ্ছায় একদম কাদামাটি-জলের কাছাকাছি এসে থাকছি অন্তত দু বছরেরও বেশি সময় ধরে।

ঘোর গ্রাম,সন্ধ্যা হলে কেউ যদি খানিকটা নিজের ইচ্ছায় বাড়ির বাইরে বাতি জ্বালায়, তাহলেই হয়তো কিছুটা জায়গা আলোকিত হয়। তা না হলে চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। জীবনগুলোর ব্যস্ততা এখানে দিনের বেলায়, সন্ধ্যার পর থেকেই যেন চারপাশে নেমে আসে নিশুতি পরিবেশ।

নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অবস্থার দিকে যদি তাকানো যায়, তাহলে হয়তো জোড়াতালি দেওয়া সাদৃশ্যের চিহ্নই চোখে পড়বে। পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা এখানে অনেকটাই আকাশকুসুম বরং ঘাটতি অজস্র। অধিকাংশ জীবন চলে ধুঁকে ধুঁকে। সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা।

থাক, সেসব কথা। এই যদি হয় গ্রামের বাস্তবিক অবস্থা, তাহলে গ্রামের অভ্যন্তরীণ সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয় নিয়ে ভাবলেই আঁতকে উঠতে হয়।

সমস্যা ছাড়া জীবন হয় না,এটা সত্য। তবে অত্যধিক সমস্যা থাকলে তখন আবার জীবন নরক হয়ে যায়। উঠতি বয়সের তরুণগুলো মাদকের পথে হেঁটে বিপথে গেছে বহু আগেই। আর যারা একটু বুদ্ধিশুদ্ধি-সম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল মানুষজন ছিল, তারাও গ্রাম ছেড়েছে অনেক আগেই।

সামাজিক অবক্ষয় যখন একেবারে চরম পর্যায়ে গিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই যারা সুস্থভাবে গ্রামটাকে নিয়ে প্রকৃত অর্থেই চিন্তা করে, তারা শলাপরামর্শের জন্য গ্রামের সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

এ যাত্রায় কমবেশি সবাই বেশ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। যার যার জায়গা থেকে উন্মুক্তভাবে উঠান বৈঠকে একত্রিত হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেছে।

এমন অভিজ্ঞতা এই প্রত্যন্ত গ্রামে আমার প্রথমবার। সবাই যেভাবে গ্রামের শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক অবক্ষয় রোধ কিংবা গ্রামের আক্ষরিক অর্থে উন্নয়ন নিয়ে আদা-জল খেয়ে ভাবার চেষ্টা করছে, তাতে বলাই যায়,গ্রামবাসীর জন্য আগামীর দিনগুলোতে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।

সর্বোপরি, সমসাময়িক সময়ে গ্রামে যারা এমন যৌক্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি মন থেকেই সম্মান জানাচ্ছি।