ট্রাভেল পোস্ট- "জাদুঘর দেখার ব্যর্থ চেষ্টা" II written by @maksudakawsarII

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago (edited)

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আমি নতুন এটি ব্লগ নিয়ে হাজির হলাম। আজকে আমার ব্লগের বিষয় হলো ভ্রমণ। আসলে ভ্রমণ গুলোকে আমি ব্লগের মাধ্যমে শেয়ার করতে পারলে ভীষণ ভালো লাগে। তাই আমি চেষ্টা করি সপ্তাহে কমপক্ষে ভ্রমণের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। ভ্রমণের পোস্টগুলো শেয়ার করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমি আশা করি আপনাদের সবার আজকের পোস্টে অনেক বেশি ভালো লাগবে। নিচে আমার ভ্রমণের পোস্টটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হলো। কেমন হয়েছে তা অবশ্যই জানাবেন।

image.png

জাদুঘর দেখার ব্যর্থ চেষ্টা

মাঝে মাঝে কোথাও ঘুরতে গেলে কিন্তু মন্দ হয় না । কারন কোথাও ঘুরতে গেলে মনের সাথে সাথে দেহেও ফিরে আমে প্রাণ চঞ্চলতা আর সতেজতা। তাই তো মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতে চেষ্টা করি। আর এই কারনেই মাঝে মাঝে চেষ্টা করি একটু ঘুরে বেড়াতে। আর এই কারনেই কিছুদিন আগে আমরা গিয়েছিলাম একটু ঘুরাঘুরি করতে। গিয়েছিলাম আামি আর আমার দু বোন। তখন দু দিনের জন্য অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। তাই একদিন ভাবলাম একটু ঘুরে আসি। কিন্তু সেদিন আমাদের ঘুরতে যাওয়াটাই ছিল বেহুদা। ভাবছেন ঘুরতে যাওয়া আবার বেহুদা হয় কেমন করে? তাহলে চলুন তো দেখে আসি কেমন করে আমাদের ঘুরতে যাওয়াটা বেহুদা হলো।

image.png

image.png

image.png

বেশ কিছুদিন আগে আমরা গিয়েছিলাম ঢাকার আগাঁর গাও। ‍ সেখানে একটি মেলা হচ্ছিলো। তাই ভাবলাম যে সবাই কে নিয়ে একটু ঘুরে আসলে খারাপ হয় না। আর তাই তো বাসা হতে বেড় হয়েই সিএনজি নিয়ে চলে গিয়েছিলাম সেখানে। কিন্তু হায় আল্লাহ্ আমরা যখন সেখানে গেলাম তখন দেখলাম যে পুরো মেলার মাঠ খালি। খোজঁ নিয়ে জানতে পারলাম যে দু দিন আগেই নাকি মেলা শেষ হয়ে গেছে। হায়রে কপাল পুরো ভাড়াটাই নষ্ট। কারন মেলা তো নাই এখন আর কি করবো । তাই সিএনজি ওয়ালা মামা কে বললাম যে আমাদের কে নিয়ে একটু আগাাঁর গায়ে বিমান যাদুঘরে নিয়ে যেতে। মামা বলল তাকে বাড়িয়ে দিতে। কি আর করার আমিও রাজি হয়ে গেলাম। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। সবাই সিদ্ধান্ত দিলো যে বাসায় না ফিরে অন্য কোথাও যাওয়ার। কিন্তু আমার তো মেজাজ গরম। তারপর ভেবে দেখলাম আসছি যেহেতু একটু ঘরেই যাই। ভাবলাম যে পাশেই মেলেটারী জাদু ঘর । যেহেতু জায়গাটি দেখা হয়নি। তাই রিক্সা ভাড়া করে চলে গেলাম মেলেটারী জাদুঘর দেখার জন্য।

image.png

image.png

image.png

হায়রে ভাগ্য। সেখানেও সেই একই অবস্থা। মানে মেলটারী জাদুঘরও নাকি বন্ধ। ভাবতে ভাবতে শেষ। কার মুখ দেখে বের হয়েছিলাম যে সব জায়গায় বন্ধ। বেশ কিছুটা সময় আমরা থো মেরে দাঁড়িয়ে রইলাম। আকাশে হিলিকপ্টার উড়ে যাচেছ চেয়ে চেয়ে দেখলাম আর মনে মনে জ্বলতে লাগলাম। আমাদের সেদিন আর না দেখা হলো মেলেটারী জাদুঘর, না দেখা হলো বিমান জাদুঘর। তাই আমরা সেখানেই বাহিরে কিছুটা সময় ঘুরে ঘুরে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করে নিয়েছি। আপনাদের কে দেখানোর জন্য। যাতে করে আমাদের দুখের সেই সময় গুলো কে আপনারা উপলব্দি করতে পারেন। আর একটু আমাদের মত করে জলতে পারেন।

image.png

image.png

image.png

তবে সেদিন যে প্রকৃতি দেখেছি তা কিন্তু বেশ দারুন মনোমুগ্ধকর ছিল। ছিল চোখে পড়ার মত। সেখানে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেছি জাদুঘরের চারদিকের প্রকৃতিকে একটু নিজের মত করে দেখার জন্য। বেশ দারুন কিন্তু বাহিরের পরিবেশ। মেলেটারী জাদুঘরের বাহিরে কিন্তু সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। বেশ সুন্দর ঝর্না। যেখান দিয়ে পানি বের হয়। তার উপর রয়েছে ভিতরে বেশ সুন্দর সুন্দর গাছ। আর বাহিরে তো বেশ সুন্দর ছিমছাম প্রকৃতি। দেখেলেই মনে হয় কিছুটা সময় বসে এমন প্র্রকৃতির মাঝে নিজের দেহটাকে স্বস্থি দিয়ে নেই। যাতে করে আমাদের জাদুঘর দেখার ব্যর্থ চেষ্টার গ্ল্যানি একটু হলেও মন থেকে মুছে যায়।

image.png

image.png

image.png

তারপর আর কি করার? আমরা ঘুরতে গিয়ে কিছুই আর দেখতে পারলাম না। তাই মনের কষ্ট নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম সেদিন। জানিনা কেমন লাগলো আপনাদের কাছে আমার আজকের পোস্টটি। আগামীতে আবারও আসবো নতুন কোন ভ্রমন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে। সে পর্যন্ত আপনারা ভালো থাকেন।আল্লাহ হাফেজ।

লোকেশন

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীভ্রমণ
ক্যামেরাVivo y18
পোস্ট তৈরি@maksudakawsar
লোকেশনআগাঁরগাও, বাংলাদেশ

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


3W72119s5BjVs3Hye1oHX44R9EcpQD5C9xXzj68nJaq3CeF5StuMqDPqgYjRhUxqFbXTvH2r2mDgNbWweA4YGBo825oLh4oqEqeynn5EZL11LdCrppngkM (1).gif

VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

1000206266.png

1000206267.png

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

Sort:  

একেক দিন এরকম হয় তখন আমিও ভাবি কার মুখ দেখে যে বেরিয়েছিলাম আজ কোন কাজই সম্পূর্ণ হচ্ছে না। তবে বেড়াতে বেরিয়ে যে এতগুলো স্পট টার্গেট করেছেন অথচ একটিও ফুলফিল হলো না এটা বেশ ব্যর্থতা জনক। সত্যি কথাই বলতে কি মনটা খারাপ হয়ে যাওয়ার মতন অবস্থাই। এরপর বেরোলে খোঁজখবর নিয়ে বেরোবেন নইলে আবার এমন জিনিস ঘটতে পারে।

 11 months ago 

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

 11 months ago 

মোবাইলের যুগে এ ধরনের ঘটনা মেনে নেয়াই কস্টকর। তবে বেশ খারাপ লাগলো আপনার লিখাটি পড়ে। এতো স্বাদ করে বেড়িয়ে কোন জায়গাই দেখা হলো না। তবে প্রকৃতি আপনাকে নিরাশ করেনি। সুন্দর প্রকৃতির মাঝে সুন্দর কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। তাও বা কম কি!

 11 months ago 

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

 11 months ago 
 11 months ago 

কপাল মন্দ হলে যা হয় আর কি। অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে গেলে ভালো হতো। তাহলে এত হয়রানি হওয়া লাগতো না। যায় হোক রাগ করে কি করবেন, নতুন অভিজ্ঞতা হলো আপনার।

 11 months ago 

ধন্যবাদ ভাইয়া ‍সুন্দর করে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।