লোকজ রঙ

ChatGPT Image Sep 16, 2026, 02_51_42 AM.png

Image Created by OpenAI

আমাদের গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে রঙের সম্পর্ক বহু পুরোনো। আজকের মতো বাজারে তৈরি নানা ধরনের কৃত্রিম রঙ সহজলভ্য না থাকলেও একসময় গ্রামের মানুষ প্রকৃতির চারপাশ থেকেই বিভিন্ন রঙ সংগ্রহ করত। গাছের পাতা, ফুল, ফল, ছাল, মাটি, বীজ এমনকি বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হতো নানা রঙ। এই প্রাকৃতিক রঙ শুধু ছবি আঁকা বা সাজসজ্জার কাজে নয়- আলপনা, পটচিত্র, মাটির পুতুল, কাপড়, কাঠের কাজ, লোকশিল্প এবং বিভিন্ন উৎসবের সাজসজ্জাতেও ব্যবহৃত হতো। আগেকার দিনে গ্রামের শিল্পীদের কাছে রঙের দোকান ছিল না। তাঁদের রঙের ভাণ্ডার ছিল প্রকৃতিই। বিভিন্ন গাছপালা ও প্রাকৃতিক উপাদান থেকে আলাদা আলাদা রঙ পাওয়া যেত। যেমন- গাঁদা ফুল থেকে হলুদাভ রঙ, পলাশ ফুল থেকে কমলা বা গেরুয়া আভা ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক হলুদ রঙের সবচেয়ে পরিচিত উৎসগুলোর একটি হলো হলুদ। প্রথমে কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া হতো। এরপর সেটিকে পিষে বা ঘষে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। প্রয়োজন অনুযায়ী এই গুঁড়োতে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যেত। লোকজ শিল্পে এই ধরনের রঙ ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন নকশা ও আলপনায়। বসন্তের পলাশ শুধু প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে না, একসময় মানুষের তৈরি রঙেরও উৎস ছিল। পলাশ ফুল সংগ্রহ করে শুকিয়ে রাখা হতো, পরে ফুলগুলো জলে ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে রঙ বের করা হতো। জলে ফুলের রঙ মিশে গেলে ছেঁকে নেওয়া হতো সেই তরল। এই রঙে সাধারণত কমলা, হলুদাভ কমলা কিংবা গেরুয়া ধরনের আভা পাওয়া যেত।