সন্দ্বীপ ভ্রমণ- পর্ব ০৭

in আমার বাংলা ব্লগ20 days ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। প্রকৃতির সুন্দর পরিবেশের সাথে হৃদয়ের সখ্যতা দারুণভাবে বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি। হঠাৎ একটু বৃষ্টিপাতের পর পুনরায় পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডাময় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শেষ রাতে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয় এবং সেই কারণে এখনো শেষ রাতে কম্বল ব্যবহার করছি হি হি হি। সময় পরিবর্তন হয়ে গেছে, প্রকৃতি সত্যি পাল্টে গেছে, উষ্ণতার আড়ালে এখনো ঠান্ডা বেশ শীতল রাখছে।

IMG_20251003_090806.jpg

IMG_20251003_090738.jpg

যাইহোক, আজকে সন্দ্বীপ ভ্রমণের সপ্তম পর্ব শেয়ার করবো, এর আগে ষষ্ঠপর্ব শেয়ার করেছিলাম। পেছনের দিকে ফিরে আসলাম এবং তারপর সাগর পাড়ে যাওয়ার জন্য পুনরায় হাঁটা শুরু করলাম। আমাদের এই দিকের চিত্রগুলো একটু ভিন্ন, কারণ যেই পাড়ে ভাঙ্গন শুরু হয় সেই পাড় হতে মানুষ দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিটে-মাটি খুব অল্প টাকায় বিক্রি করে দেন। যাদের সক্ষমতা আছে তারা সেগুলো ক্রয় করেন এবং তারপর সেখানে থাকা সকল গাছপালা কেটে নিয়ে যান। সাথে সাথে ভিটে হতে বেশ মাটিও কেটে নিয়ে যান অন্য প্রান্তে।

IMG_20251003_090343.jpg

IMG_20251003_090518.jpg

এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতির বিষয় সত্যি, কেউ দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করেন ভাঙ্গনের হাত হতে বাঁচার তাগিদে আবার কেউ কেউ সেখানে দারুণভাবে ব্যবসাও দাঁড় করিয়ে ফেলেন। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, আমাদের বাড়িটাও সেই দিকে ছিলো এবং খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলো নদী (আমরা সাগরকে নদীই বলে ডাকি সাগর বলি না)। চারপাশের সবাই চলে গেলেও আমার চাচা রয়ে গিয়েছিলেন। খুব কম টাকায় তখন সেখানে জমি বিক্রি হয়েছিলো। অথচ সেই পাশে চর জাগার সাথে সাথে জমির হাজারগুন বেড়ে গেছে।

আমার চাচাতো ভাই বলতেছিলেন নাম মাত্র টাকায় তখন এই দিকের জমিগুলো বিক্রি হয়েছে আর এখন ছয় লক্ষ টাকা হয়ে গেছে। তবে তখন অনেকেই সেই নামমাত্র টাকায় জমি কিনেছিলেন। সেখানে যে শুধু ব্যবসায়ী ছিলেন তা কিন্তু না, অনেক প্রান্তিক লেভেলের মানুষও ছিলো। যাদের সামান্য টাকা পয়সা ছিলো, তাই দিয়েই তারা রিক্স নিয়েছিলেন, যদি নদীর ভাঙ্গন থেমে যায় সেই আশায়। সত্যি আল্লাহ সবাইকে নিরাশ করেন নাই, তারা আজ বেশ ভালো অবস্থানে আছেন।

IMG_20251003_090742.jpg

কিন্তু যাদের টাকা পয়সা আছে তারা দ্রুত সেগুলো বিক্রি করে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। আমার বুঝ হওয়ার পরও শুনেছি আমাদের পরিবার তিনটি গ্রাম পরিবর্তন করেছে। কিন্তু আমার বুঝ হওয়ার পর হতে সেই একই জায়গায় এখনো আছে। কত দিন তারা এখানে থাকতে পারবেন সেটারও কোন নিশ্চিয়তা নেই। কারণ দেখা যাবে কয়েক বছর পরই আবার এই দিকে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

তারিখঃ অক্টোবর ০৩, ২০২৫ইং।
লোকেশনঃ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।
ক্যামেরাঃ রেডমি-১৩, স্মার্টফোন।

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  

অসাধারণ একটি পর্ব শেয়ার করেছেন হাফিজ ভাই! সন্দ্বীপের নদী ভাঙন আর মানুষের ভিটেমাটি পরিবর্তনের এই সংগ্রামগুলো সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। একই জায়গায় কেউ হারায় আবার কেউ স্বপ্ন বোনে আপনার বর্ণনায় এই বাস্তব চিত্রটা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। আপনার পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Posted using SteemX

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.061
BTC 68089.86
ETH 2100.40
USDT 1.00
SBD 0.51