সন্দ্বীপ ভ্রমণ- পর্ব ০১
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। শীতের প্রায় শেষ সময়ের দিকে চলে আসছি, বেশ ভালো কাটছে এবারের শীতটা। আজকে থেকে নতুন একটা পর্ব শুরু করলাম আর সেটা হলো ভ্রমণ কাহিনী। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রায় ১৮ বছর পর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি। সত্যি বলতে শহরের মাঝে বড় হলে যা হয়, অবশ্য গ্রামে গিয়েছি নিয়মিত হবে সেটা দাদার বাড়ি না হয়ে নানার বাড়ি হয়েছিলো। কারণ সন্দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ, তাই ভয়ে খুব একটা যেতে চাইতাম না।
এখন অবশ্য অবস্থার বেশ পরিবর্তন হয়েছে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে আগের সেই খারাপ অবস্থা অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে এতো বছর পর গেলেও যাত্রাটা খুব একটা সুখকর ছিলো না। মাত্র ৪ ঘন্টার যাত্রা পথ সারাদিনও পার করতে পারি নাই অসহনীয় যানজটের কারণে। এটা আমাদের দেশে সত্যি বিরাট এক সমস্যা। একসাথে একের অধীক ছুটির দিন থাকলে কোথায় যাত্রা করা যায় না, অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে সেটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যায়। আর সেই কারণেই আমাদের সেদিনের যাত্রাটা সুখকর ছিলো। সারাদিন জার্নি করেও সেদিন সন্দ্বীপে যেতে পারি নাই।
বরং চট্টগ্রামে বোনের বাড়িতে রাতে থেকে পুনরায় সকালে রওয়ানা দিয়েছিলাম। বেশ অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরী হয়েছিলো। একে তো এতো দিন পর যাত্রা তারপর আবার যানজট এবং আকাশের অবস্থাও খুব খারাপ। তাই যানজটের বিষয়টি এড়িয়ে সন্দ্বীপ পৌছানোর মুহুর্ত হতেই ফটোগ্রাফি শেয়ার করবো। কারণ কমবেশী আমরা সবাই যানজটের দৃশ্যগুলোর সাথে পরিচিত আর তাই সেগুলো শেয়ার করছি। তো সকাল সকাল ঘাটে এসে আরেক বিপত্তি ঘটলো, আকাশ কিছুটা মেঘলা এবং যে কোন সময় বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, তাই সার্ভিস বোটে যাত্রা করা লাগবো।
অর্থাৎ যে আশায় আমরা দ্রুত ঘাটে এসেছিলাম সেটা আর সফল হচ্ছে না, স্পিডবোট পাওয়া যাচ্ছে না। অগ্যতা নিরূপায় হয়ে সেদিন স্পিডবোট বাদ দিয়েই রওনারা করেছিলাম। সন্দ্বীপ পৌঁছানোর পরই বেশ বৃষ্টিপাত হয়েছিলো, পরে চিন্তা করে দেখলাম যদি কিছুটা রিস্ক না নিয়ে আসতাম তাহলে হয়তো সন্দ্বীপই আসা হতো না। মূল উদ্দেশ্য ছিলো চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে, যাকে একদম শিশু অবস্থায় দেখেছিলাম তার মায়ের কোলে। আজ তার বিয়ে বুঝতেই পারছেন অনুভূতির উত্তেজনাটা কেমন ছিলো। আর সেই ভাইকে দেখেও চেনার কোন উপায় ছিলো না, ভাগ্যিস মোবাইলের যুগ তাই বেগতিক অবস্থায় পড়ি নাই, হি হি হি।
যাইহোক, সাগর পাড়ি দিয়েই বেশ প্রশান্তি অনুভব করলাম, দীর্ঘ এক যুগের বেশী সময় পর শেকড়ের একটা টান অনুভব করলাম। হৃদয়টা যেমন প্রশান্তিতে ভরে গেলো। তারপর আরো একটু চঞ্চল হয়ে উঠলাম বাড়িতে দ্রুত যাওয়ার আশায়। কত দিন পর সবার সাথে দেখা হবে, কেউ কেউ হয়তো কোনদিনও দেখেনি আমাকে, সেই বিষয়টি চিন্তা করে দারুণ একটা উত্তেজনা অনুভব করতে লাগলাম। সিএনজি ঠিক করে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম। গাড়ি ছুটছে আর হৃদয়ের মাঝে নানা কিছু উকিঁ মারছে।
তারিখঃ অক্টোবর ০২, ২০২৫ইং।
লোকেশনঃ সন্ধীপ, চট্টগ্রাম।
ক্যামেরাঃ রেডমি-১৩, স্মার্টফোন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR
Sort: Trending
Loading...









