জিয়া উদ্যানে একটি সন্ধ্যা।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
শের ইতিহাসে সবচেয়ে গর্বের একটি দিন। বিজয়ের এই দিনে রাজধানী ঢাকায় মানুষের ঢল নামে আর এটাই স্বাভাবিক। তবে এবারের অভিজ্ঞতা আমার কাছে ছিল একটু ভিন্ন, একটু বেশি আবেগের, কারণ সেদিন আমার সঙ্গে ছিল আমার ছোট্ট মেয়ে নুসাইবা আর তার আম্মু।
গত মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, গাজীপুরে মামার বাসা থেকে ভিআইপি বাসে করে আমরা রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। গন্তব্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের পেছনে অবস্থিত জিয়া উদ্যান। বিকেলের দিকে সেখানে পৌঁছাতেই বুঝতে পারলাম, আজকের দিনটা কতটা বিশেষ। দূর থেকেই মানুষের ভিড় চোখে পড়ছিল। যত কাছে যাচ্ছিলাম, ততই সেই ভিড় যেন সমুদ্রের মতো বিস্তৃত হচ্ছিল।
জিয়া উদ্যানের গেটের সামনে পৌঁছে আমরা একপ্রকার থমকে গেলাম। গেটের ভেতরে ঢোকার তো প্রশ্নই আসে না। এত বেশি মানুষের চাপ ছিল যে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। চারপাশে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ এসেছে একা কিন্তু সবার চোখেমুখেই ছিল এক ধরনের আনন্দ আর উদ্দীপনা।
শেষ পর্যন্ত আমি আর নুসাইবার আম্মু একটু সাহস করেই দেয়াল টপকে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে ঢুকেই আরও অবাক হলাম। বিশাল এই উদ্যানে জায়গার কোনো অভাব নেই, কিন্তু সেদিন মনে হচ্ছিল প্রতিটা জায়গা মানুষে ভরা। হাঁটার মতো কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, তবুও সবাই খুব স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ উপভোগ করছিল।
আমরা ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে উদ্যানে ঘোরাফেরা শুরু করলাম। চারপাশে রঙিন আলো, মানুষের হাসি-আনন্দ, শিশুদের দৌড়াদৌড়ি সব মিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে, ভিডিও করছে। আমরাও বেশ কিছু ছবি তুললাম, এই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য।
সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে আমাদের মেয়ে নুসাইবা। তার বয়স মাত্র দেড় বছর হলেও, এত মানুষের ভিড়, আলো আর কোলাহল তাকে মোটেও বিরক্ত করেনি। বরং সে যেন আরও বেশি চনমনে হয়ে উঠেছিল। আশপাশে আরও অনেক বাচ্চাকাচ্চা ছিল।কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ লাফাচ্ছে, কেউ আবার মায়ের হাত ধরে হাঁটছে। নুসাইবাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছোটাছুটি করছিল।
আমি ওর জন্য একটি রঙিন বেলুন কিনে দিলাম। বেলুন হাতে পেয়ে নুসাইবার আনন্দ দেখে সত্যিই মনটা ভরে গিয়েছিল। সেই হাসি, সেই উচ্ছ্বাস সব কষ্ট আর ক্লান্তি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়। এরপর আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করলাম। বিজয়ের দিনে এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো এক অন্যরকম অনুভূতি।
কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া করলাম।অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করার পর সন্ধ্যা নামতে শুরু করল। রাত সাতটার দিকে আমরা জিয়া উদ্যান থেকে বের হয়ে এলাম। এরপর সংসদ ভবনের পেছনের লেকের পাশে গেলাম। সেখানে লেকের ধারে সারি সারি খাবারের দোকান বসেছে, হালিম, চটপটি, ফুচকা থেকে শুরু করে নানা রকম মুখরোচক খাবার। আমরা সেখানেই গরম গরম হালিম খেলাম। ঠান্ডা বাতাস, লেকের পানি আর হালিমের স্বাদ সব মিলিয়ে সময়টা দারুণ কেটেছে।
সবশেষে মেট্রোরেলে ফেরার জন্য রিকশায় করে মেট্রো স্টেশনের দিকে রওনা দিলাম। ক্লান্তি ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল এক ধরনের তৃপ্তি। বিজয়ের দিনে পরিবার নিয়ে এমন একটি সন্ধ্যা কাটাতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের। এই সন্ধ্যাটা আমাদের জন্য শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং একটি স্মৃতি যা নুসাইবার বেড়ে ওঠার গল্পে একদিন নিশ্চয়ই জায়গা করে নেবে।
Photographer- @joniprins
Device- Realme C53
Location-Dhaka
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















