মেঘলা শুটিং স্পটে এক বিকেলের পারিবারিক আনন্দ।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
গতকাল ছিল আমাদের জন্য একেবারেই ভিন্নরকম একটি দিন। মামানীর বাল্যাকালের স্কুল-কলেজ ঘুরে আমরা গাজীপুরের রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকায় থাকার কারণে খোলা রাস্তা, সবুজ পরিবেশ চোখে পড়ার মতোই ছিল। গাজীপুরের রাস্তাগুলো সত্যিই সুন্দর। চারপাশে সারি সারি গাছপালা, তুলনামূলক কম কোলাহল, আর এক ধরনের প্রশান্তি, যা শহরের ব্যস্ত জীবনে খুব একটা পাওয়া যায় না।
হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ করে ঢুকে পড়লাম পরিচিত একটি নাম মেঘলা শুটিং বা পিকনিক স্পট। আগে শুনেছি, বহু নাটক ও টেলিফিল্মের শুটিং হয়েছে এখানে। কৌতূহল সামলাতে না পেরে ভেতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিলাম। একসময় যেখানে প্রবেশ টিকিট ছিল ২০ টাকা, এখন সেখানে জনপ্রিয়তার সাথে সাথে টিকিটের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। যাতায়াতসহ স্পটে প্রবেশের সব খরচই মামা নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করলেন। আমি নিজের পক্ষ থেকে শুধু চিপস, জুস আর হালকা কিছু খাবার কিনেছিলাম।
স্পটের ভেতরে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়লো এর সাজানো-গোছানো পরিবেশ। জায়গাটা বেশ পরিষ্কার, পরিকল্পিত এবং পারিবারিক ভ্রমণের জন্য উপযোগী। যদিও আমরা যাওয়ার সময় কোনো নাটকের শুটিং চলছিল না, তবুও জায়গাটার সৌন্দর্য একটুও কম মনে হয়নি। চারপাশে নাটকের সেট, কৃত্রিম ঘরবাড়ি, সাজানো পথ সবকিছুতেই এক ধরনের শিল্পীসত্তার ছাপ রয়েছে।
আমরা নিজেরাই কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। ছবি তুললাম, চারপাশ দেখলাম, একটু বিশ্রাম নিলাম। তবে সত্যি বলতে কী, সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে বাচ্চারা। আমার ছোট্ট মেয়ে নুসাইবা আর মামার ছোট ছেলে জুনাইদ। এই দুই বাচ্চার হাসি আর দৌড়াদৌড়িতেই যেন জায়গাটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। তারা কখনো দুলনায় চড়ছে, কখনো হাতি-ঘোড়ায় উঠছে, আবার কখনো নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাদের এই নির্ভেজাল আনন্দ দেখলে বড়রাও যেন কিছু সময়ের জন্য সব দুশ্চিন্তা ভুলে যায়।
নুসাইবার চোখে-মুখে যে উচ্ছ্বাস দেখেছি, সেটা সত্যিই বলার মতো। শহরের চার দেয়ালের মধ্যে বড় হওয়া একটা বাচ্চার জন্য এমন খোলা জায়গা কতটা জরুরি, তা ওই মুহূর্তে আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। জুনাইদও সমান তালে দৌড়ঝাঁপ করেছে, ছবি তুলেছে, খেলনায় মেতে ছিল।
সব মিলিয়ে আমরা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের মতো মেঘলা স্পটে ছিলাম। সময়টা খুব বেশি না হলেও মুহূর্তগুলো ছিল দারুণ উপভোগ্য। দুপুরের আজান হওয়ার পর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসি। কারণ আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা ছিল খাওয়া-দাওয়া সেরে জিয়া উদ্যান ও সংসদ ভবন এলাকায় যাওয়ার।
এই ছোট্ট ভ্রমণ আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। আনন্দ পাওয়ার জন্য খুব দূরে যেতে হয় না। কাছাকাছি কোথাও, অল্প সময় আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গেই তৈরি হয়ে যায় সুন্দর কিছু স্মৃতি। বিশেষ করে পরিবার আর বাচ্চাদের নিয়ে কাটানো এমন মুহূর্তগুলো জীবনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়। মেঘলা শুটিং স্পটে কাটানো এই বিকেলটা আমাদের জন্য ঠিক তেমনই এক শান্ত, আনন্দময় স্মৃতি হয়ে থাকলো।
Photographer- @joniprins
Device- Realme C53
Location-Gazipur
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















