নড়াইল ভ্রমণ পর্ব-৩

in আমার বাংলা ব্লগ3 months ago

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। ইতিমধ্যে আপনাদের মাঝে আমি আমার নড়াইল ভ্রমণের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করেছি। আজ চলে এসেছি তৃতীয় পর্ব শেয়ার করতে। আশা করি আপনাদের কাছে প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্বটি খুবই ভালো লেগেছে। তাহলে দেরি না করে। চলুন শুরু করা যাক তৃতীয় পর্বের গল্প।


IMG_2100.JPG

IMG_2086.JPG

IMG_2102.JPG


আগের পর্বে লিখেছিলাম আমাদের বাসা থেকে ফরিদপুর কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত যাত্রার গল্প। আজ বলবো সেই পথের পরের অধ্যায় কাঁচপুর ব্রিজ থেকে নড়াইল শহর পর্যন্ত যাত্রার গল্প যেখানে প্রতিটি মোড়ে প্রতিটি গাছের ছায়ায় লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। কাঁচপুর ব্রিজ পেরিয়েই যেন অন্য এক জগতে ঢুকে পড়লাম। চারপাশে সবুজের সমারোহ ক্ষেতের পর ক্ষেত মাঝে মাঝে তালগাছ, খেজুরগাছ আর দূরে দেখা যায় গ্রামের কুঁড়ে ঘর। রাস্তার দুপাশে হালকা রোদ ছায়ার খেলা। বাইকের চাকার শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছিল পাখির ডাকের সঙ্গে। পথে পথে ছোট ছোট গ্রাম দোকানপাট স্কুল মসজিদ সব কিছুই ছিল আপন মাটির ঘ্রাণে ভরা। মাঝে মাঝে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো কৃষকরা হাসিমুখে তাকিয়ে দেখছিল আমাদের। কোথাও আবার দেখা মিললো শিশুদের খেলার মাঠে দৌড়ঝাঁপ কারো হাতে ঘুড়ি কারো হাতে বাঁশের লাঠি।সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ছিল রাস্তার দুপাশে শিমুল কড়ই আর কৃষ্ণচূড়া গাছের সারি। কিছু গাছে তখনও রঙিন ফুল ফুটে আছে গাঢ় লাল কৃষ্ণচূড়ায় যেন রাস্তা জুড়ে আগুনের শিখা। এই দৃশ্যগুলো চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন কতটা সুন্দর আমাদের গ্রামীণ বাংলাদেশ।রাস্তার মাঝে মাঝে এমন নির্জন অংশ ছিল যেখানে কেবল বাতাসের শব্দ আর দূরের পাখির ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যেত না। যেন সময় থমকে গেছে। মাঝে মাঝে ক্যামেরায় কিছু দৃশ্য বন্দি করছিলাম লালচে কৃষ্ণচূড়া নারিকেল গাছের সারি সবুজ ধানক্ষেত আর নীল আকাশের নিচে বয়ে চলা পাকা রাস্তা। ছবিগুলো দেখে এখনো মনে হয় আমি যেন আবার সেই মুহূর্তে ফিরে গেছি। যেখানে ছিল না শহরের ভিড় না কোনো শব্দ দূষণ কেবল প্রকৃতি আর আমরা দুই বন্ধু,বাইক আর মুক্ত আকাশ।


IMG_2113.JPG

IMG_2083.JPG

IMG_2104.JPG


কাঁচপুর থেকে কিছু দূর এগোতেই একের পর এক ছোট শহর ও বাজার চোখে পড়লো। কোথাও বিক্রি হচ্ছে তরতাজা ফল কোথাও পানের দোকানে আড্ডা আবার কোথাও স্কুলের পাশে বাচ্চারা দৌড়াচ্ছে। গ্রামের মানুষগুলো কত সহজ কত আন্তরিক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। মনে হয় শহরের ব্যস্ততার পেছনে ফেলে এখানে এসে সত্যিই একটু নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। একসময় আমরা উঠে পড়লাম মাগুরা নড়াইল মহাসড়কে। প্রশস্ত রাস্তা দুপাশে খেজুর ও নারকেল গাছের সারি মাঝে মাঝে ট্রাক বাস ভ্যান রিকশা সব মিলিয়ে চলাচলের এক ভিন্ন দৃশ্য। রাস্তায় বাতাসে মিশে ছিল ধুলোর গন্ধ কিন্তু সেই সঙ্গে ছিল প্রকৃতির সতেজতা। কিছুদূর গিয়ে একটি নড়াইলের সাইনবোর্ড দেখে মনে হলো গন্তব্য আর বেশি দূরে নয়। রাস্তায় তখন রোদ ঝলমলে কিন্তু হাওয়া ঠাণ্ডা তাই বাইক চালানোতে কোনো ক্লান্তি আসেনি। এটাই ছিল আমার নড়াইল ভ্রমণের তৃতীয় পর্বের গল্প। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। তাহলে দেখা হবে আবার নড়াইল ভ্রমণের চতুর্থ পর্বে। তাহলে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনাই রইল।



IMG_20220926_174120.png

VOTE @bangla.witness as witness

OR

SET @rme as your proxy


20240320_225328_0000.png



JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abbVD.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Polish_20240825_125322804.png