অপেক্ষা অনেক সময় শান্তির ও হয়!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
অপেক্ষা শব্দটা শুনলেই অনেক সময় মনে হয় এটা কেবল কষ্টের, অস্থিরতার আরেক নাম। আমরা সাধারণত অপেক্ষাকে মানে দিই দেরি, না পাওয়া বা অজানার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া হিসেবে। কিন্তু আসলে সবসময় অপেক্ষা কষ্টের হয় না। অনেক সময় অপেক্ষার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক ধরনের শান্তি, এক ধরনের প্রশান্তি, যা আমাদের মনকে ভিন্নভাবে স্পর্শ করে।যদি আমরা ধরে নেই যে কেউ তার প্রিয় মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছে। হয়তো দেখা হওয়ার সময় এখনো আসেনি, কিন্তু সেই মুহূর্তের প্রতীক্ষায় যে আনন্দ, যে স্বপ্ন, সেটাই এক ধরনের শান্তি। অপেক্ষা তখন আর শুধু কষ্ট নয়, বরং একটি সুন্দর অনুভূতির মতো মনে হয়। কারণ সেখানে থাকে আশা, ভালোবাসা আর পাওয়া যাবে বলে যে বিশ্বাস তা হৃদয়কে অস্থির না করে উলটো প্রশান্ত করে তোলে।
আবার জীবনের অনেক লক্ষ্য বা স্বপ্ন পূরণের পথেও অপেক্ষা দরকার হয়। হুট করে পাওয়া সবকিছু কখনোই আমাদের সেই গভীর তৃপ্তি দেয় না, যা দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া জিনিস দেয়। যেমন একজন স্টুডেন্ট পড়াশোনা করে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করে। এই অপেক্ষার মধ্যে হয়তো অল্প অল্প উৎকণ্ঠা থাকে, কিন্তু পাশাপাশি থাকে আনন্দ আর আশার আলো। ফলাফলের দিনটি কাছে আসার আগ পর্যন্ত সেই অপেক্ষাই তাকে প্রেরণা জোগায়।
প্রকৃতির দিকেও তাকালে আমরা দেখতে পাই অপেক্ষা শান্তির হতে পারে। যেমন বসন্তের জন্য শীতের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অথবা ভোরের আলো দেখার জন্য রাতের অপেক্ষা। এইসব প্রতীক্ষা মানুষকে অস্থির করে না, বরং শান্তি আর ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবকিছুই ধীরে ধীরে আসে, এবং প্রতিটি আসাই আনন্দ বয়ে আনে।আসলে সবচেয়ে বড় কথা, অপেক্ষা আমাদের ধৈর্য শেখায়। যখন আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে শিখি, তখনই আমরা ভেতরে ভেতরে শান্ত হই। কারণ আমরা জানি, সময়ই সবকিছু এনে দেয়। তাড়াহুড়ো না করে সময়কে সময় দিলে, সেই অপেক্ষাই হয়ে ওঠে এক প্রকার মানসিক প্রশান্তির উৎস।

