নামসংকীর্তন
Image Created by OpenAI
ভারতীয় ভক্তির ইতিহাসে বর্তমানে যে কয়েকটি ধারার প্রভাব আজও গভীরভাবে অনুভূত হয়, তার মধ্যে নামসংকীর্তন অন্যতম। এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, বরং এক বিশেষ আত্মিক সাধনা এবং সামাজিক সংস্কার-সাংস্কৃতিক বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ন প্রতীক। বৈষ্ণব সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করা নামসংকীর্তন যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে ভক্তির আলো জ্বালিয়ে এসেছে। নামসংকীর্তন বলতে সাধারণত বোঝায় 'ভগবানের নাম সমবেতভাবে কীর্তন বা উচ্চারণ করা'। বিশেষ করে হরে কৃষ্ণ, হরে রাম মহামন্ত্রের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বা বিষ্ণুর নামগানই নামসংকীর্তনের মূল রূপ।
এখানে কোনো যাগ-যজ্ঞ বা আচার করার প্রয়োজন হয় না। শুধু যেটা দরকার হয়, সেটা হলো শুদ্ধ হৃদয় ও ভক্তি। নামসংকীর্তনের শিকড় পাওয়া যায় বেদ, উপনিষদ এবং ভাগবত পুরাণে। বাংলা ও বৈষ্ণব ইতিহাসে নামসংকীর্তনের সর্বাধিক বিস্তার ঘটে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এর মাধ্যমে। তিনিই একমাত্র সমস্ত যুগের সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। কারণ সর্বশেষ যে যুগ, সেটা পাপের যুগ। তাই এই কলিযুগে ধীরে ধীরে যতো পাপ বাড়বে, ততো মানুষের মন থেকে ধর্ম মুছে যাবে। তাই এই পাপের যুগ (কলিযুগে ) মুক্তির একমাত্র পথ হবে 'হরিনাম সংকীর্তন'।
