ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ইরানের ইসলামিক সরকারকে আক্রমণাত্মকভাবে লক্ষ্য করেছিলেন

in #war2 days ago

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সময়গুলোর একটি ছিল। তাঁর প্রশাসন ইরানের ইসলামিক সরকারকে আমেরিকার স্বার্থ, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখেছিল। ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ধর্মীয় কারণে নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতির কারণে গৃহীত হয়েছিল; তবে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

1000028439.webp

মূল একটি বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ট্রাম্প বারবার ওবামা আমলের জেসিপিওএ (JCPOA) পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন, এটিকে দুর্বল ও সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইরান তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে এবং আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়েছে। চুক্তি থেকে সরে এসে ট্রাম্প ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন।

আরেকটি কারণ ছিল আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের ভূমিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, সিরিয়া, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও নির্দেশনা দিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, ইরানের সরকার বিপ্লব রপ্তানি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দুর্বল করছে।

ট্রাম্পের “ম্যাক্সিমাম প্রেসার” বা সর্বোচ্চ চাপ নীতি ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করে। এর লক্ষ্য ছিল শাসক গোষ্ঠীকে দুর্বল করা, সামরিক অর্থায়ন কমানো এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাধ্য করা। ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনা ট্রাম্পের সরাসরি মোকাবিলার মানসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত, ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইসলামকে নয়, বরং ইরানের ক্ষমতাকাঠামোকে ভাঙা। তাঁর কৌশল ছিল আধিপত্যভিত্তিক কূটনীতি, যার উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ করা।