শীতকাল, অসুস্থতা ও সচেতন হওয়ার গল্প
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমিও ভালো আছি। যদিও ভালো আছি কথাটা শীতকালে বলতে গেলে একটু থমকে যেতে হয় কারণ বাস্তবতা হলো এই শীতকাল এলেই আমাদের চারপাশে অসুস্থতার সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায় যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। আজকাল প্রায় প্রত্যেকটা বাড়িতেই দেখা যায় কেউ না কেউ ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গলা ব্যথায় ভুগছে। আমার ও ঠান্ডা জ্বর। বিশেষ করে শিশু আর বয়স্ক মানুষদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়।
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, চারপাশে ধুলাবালি আর কুয়াশা বাড়ে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে আমাদের শ্বাসনালীর ওপর। ঠিক এই সমস্যা আমার ছোট ভাই এর। অনেক সময় আমরা ভাবি, আরে, একটু ঠান্ডা লাগছে, এমন কিছু না” কিন্তু এই ছোট অবহেলাগুলোই ধীরে ধীরে বড় সমস্যার দিকে নিয়ে যায়। যদিও আমার ছোট ভাইকে প্রথম থেকেই ডাক্টার দেখানো হয়েছে। আজ ২৪ দিন হলো এখনও সুস্থ হতে পারে নি। তাই ঢাকায় নিয়ে আসা হলো।
এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে গরম রাখা। সকালে আর রাতে ঠান্ডা বেশি থাকে, অথচ আমরা অনেক সময় হালকা কাপড়েই বের হয়ে যাই। বিশেষ করে গলা আর বুক ভালোভাবে ঢেকে না রাখলে সহজেই ঠান্ডা লেগে যায়। শীতের শুরুতেই এই জায়গাগুলোতে একটু বেশি যত্ন নিলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। খাবারের দিকেও আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কমে যায়। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুব জরুরি। শাকসবজি, মৌসুমি ফল, আদা, রসুন, মধু এই সাধারণ জিনিসগুলোই অনেক বড় কাজ করে। গরম স্যুপ বা গরম পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে আরাম দেয় এবং শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে।
অনেকেই শীতকালে পানি কম খান। এটা আমাদের খুব সাধারণ কিন্তু বড় একটা ভুল। আমার ছোট ভাই ও পানি কম খাই। পর্যাপ্ত পানি পান করা শীতকালেও সমান জরুরি। পানি শরীর পরিষ্কার রাখে, শ্বাসনালী আর্দ্র রাখে এবং কাশি বা গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা কমায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘরের বাতাস। শীতে আমরা দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখি, এতে ঘরের ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে যায়। যারা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানিতে ভোগেন, তাদের জন্য এটা বেশ ক্ষতিকর। আমার ছোট ভাই কিছুদিন এটা ছিলো তাই হয় তো সমস্যা হয়ে গিয়েছিলো। তাই প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা খুব দরকার।
যাদের আগে থেকেই হাঁপানি, সাইনাস বা অন্য কোনো শ্বাসজনিত সমস্যা আছে, তাদের এই সময় আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি সমস্যা বেশি মনে হয়, দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।একটাই শীতকাল সুন্দর, আরামদায়ক। কিন্তু এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আগে সুস্থ থাকতে হবে। নিজের যত্ন নিন, পরিবারের খোঁজ রাখুন। একটু সচেতনতা, একটু যত্ন এই দুটোই পারে আমাদের শীতকালকে অনেক বেশি নিরাপদ আর আনন্দময় করে তুলতে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR

| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: শীতকাল, অসুস্থতা ও সচেতন হওয়ার গল্প
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......






