কালী পূজা ভ্রমণ পর্ব:৫

in আমার বাংলা ব্লগ23 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন?আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে কালী পূজা ভ্রমণ পঞ্চম পর্বটি উপস্থাপন করছি। আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিড়ম্বনা করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।



বারাসাত বয়েজ স্কুলের দ্বারকা নগর মন্ডপের পূজাটি দেখে আমরা সোজা চলে গেলাম নব উদ্যানের মাঠে। কারণ এই মাঠেও প্রতিবছর আকর্ষণীয় প্যান্ডেল তৈরি করে এবং বিভিন্ন আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। আর এই মাঠে পূজার সঙ্গে সঙ্গে মেলাও কিন্তু বসে থাকে। সারারাত ধরে পূজা দেখার কারণে যাদের ক্ষুধা লেগে যায় শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা কিন্তু এই মাঠে মেলাতে এসে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে পারবে। আর মেলাতে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান কিন্তু বসে থাকে যা দেখে লোভ সামলানো যায় না। যাই হোক, পূজা টি দেখার জন্য আমরা রওনা করলাম কিন্তু একটি সমস্যা হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা বাইকে একসঙ্গে যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে আমরা জ্যামে পড়ে যাই আর তার কারণে আমাদের একটি গ্রুপ আগে চলে যায়।আর আমাদের একটি গ্রুপকে পুলিশে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে বলে। কালী পূজাতে সারা রাত ভিড় লেগেই থাকে অলিতে গলিতে চেনা রাস্তা ও তখন অচেনা হয়ে যায়। আর আমাদের সঙ্গেও সেটাই হয়েছিল আমরা যে রাস্তা দিয়ে ঢুকছিলাম সেখানেই আমাদেরকে পুলিশে বাধা দিচ্ছিল। তারপর কোন উপায় না পেয়ে সোজা হাইওয়ে রাস্তা দিয়ে উঠে পড়লাম। আর এর মাঝে আমাদের অন্য গ্রুপ আমাদেরকে ফোন দেওয়া শুরু করে। কারণ গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে গেলে সবারই টেনশন বেড়ে যায়। আমাদের অন্য গ্রুপের মেলা টেনশন করতে হলো না আমরা 10 থেকে 12 মিনিটের মধ্যে তাদের কাছে এসে উপস্থিত হলাম। এরপর আমরা সবাই গাড়ি পার্কিং করে সোজা ঢুকে বললাম প্যান্ডেলটা দেখার জন্য।


প্যান্ডেলটি সম্পূর্ণ সোনালী কালার দিয়ে সাজানো হয়েছিল আর তার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জা। এই প্যান্ডেলটি বড় ছিল দূর থেকে প্যান্ডেলটি দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। আমি প্যান্ডেলটির দিকে তাকাতেই আমার সর্বপ্রথম চোখ চলে গেল প্যান্ডেলের সব থেকে উপরে। আর আমি যা দেখলাম সেটা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। কারণ এই প্যান্ডেলের চুড়াতে বসে রয়েছে স্বয়ং দেবের দেব মহাদেব। আমি মহাদেবের পরম ভক্ত তাই মহাদেবকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমি মহাদেবকে জোর হাত করে প্রণাম করলাম। প্রণাম শেষে প্যান্ডেলের বাইরের চিত্রের কিছু ছবি তুললাম। এরপর চলে গেলাম ভেতরে ভিতরে কিন্তু অসংখ্য লোকের ভিড় জমেছে মন্ডপের ভিতরে থাকা ভলেন্টিয়ার ও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। খুব চাপাচাপি করে মায়ের মুখটা দর্শন করতে পারলাম। মাকে সাজানো হয়েছে সোনার অলংকার দিয়ে। তাই এখানে প্রযপ্ত সিকিউরিটি ও প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে কোন অসৎ ব্যক্তি মাকে স্পর্শ না করতে পারে।


প্যান্ডেলের ভিতরে আরও আকর্ষণীয় কিছু বিষয় রয়েছে যেটি হল মুখোশ, অগ্নিকুণ্ড, আর কিছু ঐতিহাসিক মহামানবের চিত্র। যার কারণে এই প্যান্ডেলটি দেখার সবার আকর্ষণটা বেড়ে গিয়েছে। ব্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলাম মেলার বাজারে যেখানে দেখতে পেলাম বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। খাবারের দোকান দেখে লোভ হল খেতে কিন্তু খেতে পারলাম না কারণ রাত যখন গভীর আর এই রাতে যদি কোন খাবার খাওয়া হয় তাহলে অসুস্থ হয়ে পড়বো। কিন্তু কিছু তো খেতে হবে তাই দাদা সবার জন্য মালাই চায়ের অর্ডার করলো। মালাই চা কে শরীরে আলাদা একটা এলার্জি তৈরি হল। আর এই এনার্জি টা এই সময়টাতে খুব দরকার ছিল আমার। যাই হোক, এই প্যান্ডেলের কিছু ছবি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আশা করি, আপনাদের দেখলে সবার ভালো লাগবে।
IMG-20260223-WA0000.jpg

IMG-20260223-WA0001.jpg

IMG-20260223-WA0013.jpg

IMG-20260223-WA0012.jpg

IMG-20260223-WA0011.jpg

IMG-20260223-WA0010.jpg

IMG-20260223-WA0008.jpg

IMG-20260223-WA0007.jpg

IMG-20260223-WA0005.jpg

IMG-20260223-WA0003.jpg

IMG-20260223-WA0004.jpg

IMG-20260223-WA0002.jpg

IMG-20260223-WA0006.jpg

IMG-20260223-WA0009.jpg

ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল: oppo A79 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:4.05mm
তারিখ:২১.১০.২০২৫
সময়:০৪:৫০ মিনিট
স্থান: বারাসাত, কলকাতা।


আজ পর্বটি এখানে শেষ করছি। খুব শীঘ্রই কালী পূজার আরো একটি নতুন পর্ব আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করব। আশা করি,সেই পর্বটি ও আপনাদের খুব ভালো লাগবে।সেই পর্যন্ত আমরা সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.28
JST 0.048
BTC 67129.26
ETH 2006.26
USDT 1.00
SBD 0.46