হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:৮
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের আর একটি নতুন পর্ব উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের এই পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
সোর্স
পূজা রকির ফোনের অপেক্ষা করতে করতে সেই রাত পার হয়ে যায় রকি ফোন করেনি। রকির ফোনের অপেক্ষা করতে করতে আরো কয়েকটা দিন কয়েকটা রাত কেটে যায়। পূজা ভাবতে থাকে রকি কি তাকে ফোন করবে না তাকে কি সে পছন্দ করে না। পূজার মনমরা দেখে রিমি বলে, কি হয়েছে তোর? বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি আনমনা। কি হয়েছে আমাকে খুলে বল। পূজা বলে, কি আর বলবো আমার তো ধ্যান জ্ঞান সব ওই একটা মানুষকে নিয়ে। কিন্তু তুই দেখ সেদিন দেখা হল ফোন নাম্বার নিজে থেকেই নিল কিন্তু এতটা দিন পার হয়ে গেল একটা বার ফোন করল না। রিমি বলে, এতে মন খারাপের কি আছে তুই হয়তো তাকে পছন্দ করিস ভালবাসিস কিন্তু সে তো প্রথম দেখেছে তাকেও তো নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে সে তোকে পছন্দ করে কিনা। এতটা উতলা হয়ে পড়িস না আমার মন বলছে সে অবশ্যই তোকে ফোন করবে। পূজা বলে, নারে ফোন করবে না। ফোন যদি করার ছিল। তাহলে এতদিন আমাকে সে ঠিক ফোন করতো। রিমি বলে, তুই দিদি সব সময় একটু বেশি চিন্তা করিস এত ভাবতে নেই নিশ্চিন্তে থাক।
পূজা রকির ফোনের অপেক্ষা করতে করতে আরো বেশ কয়েকটা দিন পার করে ফেলে। হঠাৎ একদিন দুপুরে রকি ফোন করে পূজা ফোনটি রিসিভ করে না। রকি বেশ কয়েকবার পূজাকে ফোন করে কিন্তু কোন রিপ্লাই পায় না। পূজা তখন ফোনের কাছে ছিল না তার মায়ের সঙ্গে কাজ করছিল। হঠাৎ তার মনটা কেমন করে উঠলো তার মনে হচ্ছিল রকি তাকে ফোন করেছে। তাই সে হাতের কাজ ফেলে সোজা চলে যায় ফোনের কাছে। ফোন খুলতেই সে দেখতে পায় বেশ কয়েকবার একটি অন্য নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। পূজা ফোনটি হাতে নিয়ে ভাবছিল কে হতে পারে এতবার ফোন করেছে রকি নয়তো। অনেক চিন্তা ভাবনা করে পূজা সে অন্য নম্বরে ফোন দিতে যায়। ঠিক তখন তার মা তাকে ডাক দেয় পূজা ফোনটি রেখে তার মায়ের কাছে চলে যায়। সে তার মায়ের সঙ্গে কাজ করছে কিন্তু তার মনটা ফোনের মধ্যে রয়েছে। তার মা, পূজাকে বলে, কি হয়েছে কাজে মন নেই যে এত ছটফট করছিস কেন? পূজা বলে, না মা কিছু না আর আমি ছটফট করছি কোথায় সব সময় তুমি একটু বেশি বল। মা বলে, বুঝি, বুঝি তোর বয়সটা আমি পার করে এসেছি। মায়ের মুখে এই কথাটি শোনার পর পূজা আর কোন কথা বলতে পারে না চুপচাপ কাজ করতে থাকে।
কাজ শেষ করে সে আবারো ফোনের কাছে যে সে অন্য নাম্বারে ফোন করে। ফোনটি রিসিভ করতেই ওপার থেকে একটি ছেলের কন্ঠ ভেসে আসছে। পূজা সঙ্গে সঙ্গে বলে কে আপনি এতবার ফোন করেছেন? ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা কন্ঠটি মালিক আর কেউ নয় রকি। রকি বলে, কেমন আছো তুমি? পূজা বলে, আমি কেমন আছি সেটা বড় কথা না আপনি কে আপনার পরিচয় দিন? রকি হাসতে হাসতে বলে, আমাকে চিনতে পারছ না এত সহজে ভুলে গেলে? পূজা রাগান্বিত কন্ঠে বলে, আমি আপনার পরিচয় চেয়েছি আপনি কি আপনার পরিচয় দিবেন? আর যদি না দেন তাহলে আমি ফোনটি রেখে দিচ্ছি। রকি বলে, আচ্ছা বাবা ফোন কাটতে হবে না।আমি আমার পরিচয় দিচ্ছি। পূজা বলে, হ্যাঁ দিন। তখন রকি বলে, কিছুদিন আগে একটি রেস্টুরেন্টে তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল আমি তোমার থেকে তোমার নাম্বারটি চেয়েছিলাম। বেশ কিছুদিন আগে দীঘা সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে তোমাকে বাঁচিয়ে ছিলাম। আমি সেই ব্যক্তি যে তোমাকে ফোন করেছে এতবার।
পূজা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার বাকশক্তি হারিয়ে যায়। আর হারিয়ে যাবে না কেনো পূজা যাকে এতদিন ধরে খুঁজছিল যার ফোনের আশাতে এতদিন ধরে অপেক্ষা করেছিল। আজ সেই মানুষটির সঙ্গে সে কথা বলছে। সত্যি এটা একটি আলাদা অনুভূতি যার জীবনের সঙ্গে হয়েছে সেই এক মাত্র এই সুন্দর অনুভুতিটা পেয়েছে। পূজার কোন সাড়া না পেয়ে রকি ওপার থেকে শুধু হ্যালো হ্যালো বলতে থাকে। অনেকক্ষণ পর পূজা রকিকে বলে, আপনি সেই মানুষটি যাকে আমি পাগলের মতন খুঁজছি। রকি বলে, হ্যাঁ আমি সেই মানুষটি যাকে তুমি এতদিন ধরে নিজের মনের ভিতর জায়গা করে দিয়েছো। পূজা বলে, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আপনি আমাকে ফোন করবেন। রকি বলে, ফোনটি আমার আরো অনেক আগে করা উচিত ছিল কিন্তু কাজের চাপে সে সময়টা আমি পাইনি। তার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। পূজা বলে, ঠিক আছে। আপনি আমাকে ফোন করেছ এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। এরপরে রকি ও পূজার মধ্যে অনেক কথোপকথন হয়। রকি পূজাকে পরের দিন কফি শপে যাওয়ার অনুরোধ করে। পূজা কোনো চিন্তাভাবনা না করে রকিকে হ্যাঁ বলে দেয়।
Brother Saikat, the 8th episode of 'Hriday-er Spandan' was quite thrilling! You've beautifully portrayed the moment of Puja and Rocky's phone conversation and Puja's unspoken emotions. Looking forward to their meeting at the coffee shop.