'হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:৪
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের চতুর্থ পর্বটি শুরু করছি। আশা করি, গল্পের চতুর্থ পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
.jpg)
সোর্স
পূজা প্রতিদিন একবার করে সেই রেস্টুরেন্টে যেত কারণ তার মনে হতো কোন একদিন হয়তো তার সেই পছন্দের মানুষটার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে। এমন ভাবে দিনগুলো বয়ে যায় কিন্তু পূজা তার স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা পায় না। রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন আসা-যাওয়ার কারণে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী দের সঙ্গে পূজার ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। রেস্টুরেন্টের একজন কর্মচারী পূজাকে জিজ্ঞাসা করে, ম্যাম কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি? পূজা নির্বিধায় সেই কর্মচারীকে বলে, অবশ্যই বল। কর্মচারী বলে, ম্যাম আপনাকে বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি আপনি রেস্টুরেন্টে এসে কাউকে খোঁজেন। পূজা বলে, তুমি কিভাবে বুঝলে আমি কাউকে খুঁজছি? কর্মচারী বলে, ম্যাম আপনার চোখে মুখে সেটা প্রকাশ পায়। আপনি যদি কিছু মনে না করেন আপনি আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। পূজা বলে, তুমি ঠিকই ধরেছ আমি একজনকে খুঁজছি কিন্তু তাকে আমি পাচ্ছি না। কর্মচারীটি বলে, ম্যাম সে কি আমাদের এখানে রোজ আসে? পূজা বলে, সেটা আমি জানি না কিন্তু একদিন আমি দেখেছিলাম এখানে আসতে। কর্মচারী বলে, ওকে ম্যাম আপনার কাছে তার কোন ছবি থাকলে আমাকে দেখান। যদি সে আমাদের এখানে এসে থাকে তাহলে আমি আপনাকে ফোন করে জানাবো। পূজা বলে, দুঃখের বিষয় তার কোন ছবি তার কন্টাক্ট নাম্বার আমার কিছুই জানা নেই। কর্মচারী বলে, তাহলে তাকে কিভাবে খুজে বের করব। পূজা বলে, সেটা আমি জানি না কিন্তু আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন তাকে ঠিক খুঁজে পাবো। কর্মচারী বলে, আচ্ছা ম্যাম সে কেমন দেখতে যদি আমাকে তার ডিটেলস কিছু বলতেন।না হয় এমন কোন ব্যক্তিকে দেখলে আমি আপনাকে বলতে পারতাম। এরপর পূজা সেই কর্মচারীকে রকির বর্ণনা দেয়। তারপর সেই কর্মচারীকে তার কন্টাক্ট নাম্বার দেয় ।যাতে এমন কোন ব্যক্তি সেখানে আসলে সেই কর্মচারীটি সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানাতে পারে।
পূজা এরপর বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে যেয়ে কারো সঙ্গে কথা না বলে সোজা চলে যায় তার রুমে। রুমে ছিল রিমি সবেমাত্র কলেজ শেষ করে সে বাড়িতে এসেছে। রিমি পূজাকে বলে, কিরে খুঁজে পেলি তাকে? পূজা কোন কথা বলে না চুপচাপ বসে রয়েছে। রিমি বলে, কিরে চুপ করে আছিস কেন আমি কি বলছি শুনতে পাসনি? পূজা তার পরেও চুপচাপ রয়েছে। রিমি তারপর পূজার কাছে এসে পূজাকে ধাক্কা দেয় পূজা চমকে উঠে বলে, কিরে কি হয়েছে? রিমি বলে, দিদি তোর কি হয়েছে বল তো সব সময় অন্যমনস্ক থাকিস? পূজা বলে, আরে পাগলি আমার কি হবে অনেক দূর থেকে এসেছি একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রিমি বলে, আমি সবটাই বুঝি যথেষ্ট বড় হয়েছি আমি। পূজা হাসতে হাসতে বলে, হ্যাঁ তুই তো পাকা বুড়ি হয়ে গিয়েছিস। রিমি বলে, দিদি আজকে তার দেখা পেলি। পূজা বলে, নারে, আজও তার দেখা পাইনি। রিমি বলে, তুই ওর কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল। আমার মনে হয় এত বড় শহরে তাকে খোঁজাটা অসম্ভব তুই অযথা সময় নষ্ট করছিস। পূজা বলে, সময় নষ্ট হলে হোক কিন্তু আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন তাকে ঠিক আমি খুজে পাব। রিমি বলে, আমিও চাই তোর পছন্দের মানুষের সঙ্গে তোর দেখা হোক।
দুদিন পর আচমকা পূজার ফোনে ফোন আসে, রেস্টুরেন্টের সেই কর্মচারীর। পূজা ফোনটি রিসিভ করে, রিসিভ করতেই ওপার থেকে সেই কর্মচারীটি বলে, ম্যাম আপনি যে ছেলেটির বর্ণ দিয়েছিলেন এমন একটি ছেলে সবেমাত্র আমাদের রেস্টুরেন্টে এসেছে। আপনি কি প্লিজ এই মুহূর্তে আসতে পারবেন? পূজা বলে, আমি এখনই আসছি। এরপর পূজা একটি গাড়ি করে চলে যায় সেই রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টে যে কর্মচারীকে বলে,কোথায় সেই ব্যক্তি?কর্মচারী বলে, ম্যাম আপনি খুব দেরি করে ফেলেছেন উনি সবেমাত্র রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেছেন। পূজা বলে, বেরিয়ে গেছে কত আগে? কর্মচারী বলে, আপনিও ঢুকেছেন সে ব্যক্তিও বেরিয়েছেন হয়তো অনেক দূরে যাই নি। পূজা বাইরের দিকে তাকায় কিন্তু কোথাও কাউকে দেখতে পায় না। এরপর পূজা কর্মচারীকে বলে, তোমাদের এখানে তো সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রয়েছে।আমাকে সেই সময়কার ফুটেজ দেখাতে পারবে? কর্মচারী বলে, এটা তো প্রবলেম না তারপরও আপনার জন্য দেখছি আমি কি করতে পারি। পূজা বলে, প্লিজ প্লিজ একটু চেষ্টা করো। কর্মচারীটি বলে, আপনি এখানে একটু ওয়েট করুন আমি ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর কর্মচারীটি পূজাকে বলে, অনেক কষ্টে ম্যানেজারকে রাজি করিয়েছি আপনি আমার সঙ্গে আসুন। এরপর পূজা সেই সময়কার ফুটেজ গুলো দেখতে থাকে। অনেকক্ষণ ফুটেজ গুলো দেখার পর পূজা বলে ছেড়ে দাও তাকে আমি পাব না। এই বলে পূজা উঠে চলে যেতে লাগে ঠিক তখনই সেই কর্মচারীটি আবার ডাক দিয়ে বলে, ম্যাম আমি যাকে দেখেছি এই সেই ব্যক্তি। পূজার সঙ্গে সঙ্গে এসে সেই ফুটেজটি দেখে। পূজা ফুটেজটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে পূজা তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।