Children of Heaven (1997): বিখ্যাত ইরানি এই মুভিটি ভাই-বোনের ...

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।



Gemini_Generated_Image_eudgxbeudgxbeudg.png

মাঝিদ মজিদির পরিচালিত 'চিলড্রেন অফ হেভেন' (Children of Heaven) কেবল কোনো সিনেমা নয়, এটি মানুষের আত্মার এক গভীর আর্তি, যেখানে সরলতা, নিষ্ঠা, সততা এবং পারিবারিক ভালোবাসার এক অনবদ্য ছবি ফুটে ওঠেছে। যারা চলচ্চিত্রটিকে কেবল চলচ্চিত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বিচার করতে চান, তারা সম্ভবত এই ছবির মূল ভাবটিকে ধরতে পারবেন না। এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা হৃদয়ের তারে মৃদু আঘাত করে, যা আমাদের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়।আজ আমি আপনাদের এই কালজয়ী সিনেমার পূর্ণ কাহিনিটি এমনভাবে শোনাবো, যেন মনে হবে আপনি সিনেমাটি দেখছেন না, বরং আপনার কোনো আত্মীয় সেই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছে।শুরু: একটি ছেঁড়া জুতো এবং বিশাল আতঙ্ক সিনেমাটির শুরু খুবই সাদামাটাভাবে, কিন্তু সেই সাদামাটা মুহূর্তেই লুকিয়ে আছে বিশাল আতঙ্ক। গল্পের নায়ক ছোট্ট আলী (মির্জ ফারুক হাশেমি)। সে সবেমাত্র স্কুল থেকে ফেরার পথে তার বোন জোহরার (বাহার সিদ্দিকি) ছেঁড়া জুতো জোড়া সেলাই করে নিয়ে এসেছে। জুতো জোড়া ছিল গোলাপি রঙের, পুরোনো এবং ক্ষয়প্রাপ্ত। আলীর বাবা খুব দরিদ্র, একজন মালী। তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এই জুতোর কথা বাবাকে জানানোর সাহস আলীর নেই, বিশেষ করে এই মুহূর্তে যখন তার বাবা সংসারের চাপে জর্জরিত।জুতো নিয়ে ফেরার পথে আলীর একটি জরুরি কাজ ছিল। মায়ের অসুস্থতার জন্য ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়েছেন, সেই ওষুধ কিনতে হবে। আলী জুতো জোড়া সাবধানে একটি দোকানে রাখে এবং ওষুধ কিনতে যায়। কিছুক্ষণের জন্য সে তার বোনের জুতোর কথা ভুলে যায়। এই সময়ের মধ্যে একজন নোংরা পোশাকধারী মানুষ দোকানে আসে এবং ভুলবশত জুতো জোড়া তার সাথে নিয়ে চলে যায়।আলী যখন ওষুধ নিয়ে ফিরে আসে, তখন দোকানে জুতোর জোড়া নেই। তার চোখেমুখে যে আতঙ্ক, যে helplessness দেখা যায়, তা দর্শকের বুকেও একটা চাপ তৈরি করে। সে পাগলের মতো জুতো খুঁজতে থাকে। সব জায়গায়, প্রতিটি কোণায়, সব মানুষের পায়ে তাকায়, কিন্তু জুতোর কোনো খোঁজ পায় না। সে জানে, এই জুতো ছাড়া জোহরা স্কুলে যেতে পারবে না। আর নতুন জুতো কেনার টাকা তাদের বাবার কাছে এই মুহূর্তে নেই।একটি পরিকল্পনা: দুই ভাই-বোনের নিরব চুক্তিবিশাল ভয় আর অপরাধবোধ নিয়ে আলী ঘরে ফেরে। সে সাহস করে জোহরাকে সবকিছু খুলে বলে। জোহরা তার নিষ্পাপ চোখ দিয়ে তার ভাইয়ের দিকে তাকায়। তার চোখের মধ্যে দুঃখ, হতাশা, এবং ভয় মিলেমিশে একাকার। সে কেঁদে ফেলে। আলী তার বোনের চোখের জল মুছিয়ে দেয় এবং সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে।তারা দুজনে একটা পরিকল্পনা করে, যা ছিল আসলে এক নিরব চুক্তি। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের বাবাকে কিছু জানাবে না। কারণ, বাবাকে বলা মানেই বিশাল অশান্তি। তারা শেয়ার করবে আলীর একমাত্র স্কুলের জুতো জোড়া। সকালের দিকে জোহরা স্কুলে যাওয়ার জন্য সেই জুতো পরে যাবে, এবং বিকেলে আলী সেই জুতো পরে তার স্কুলে যাবে।এই পরিকল্পনাটা যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা ততটাই কঠিন। শুরু হয় এক দৈনন্দিন সংগ্রাম।দৈনন্দিন সংগ্রাম: দৌড় এবং সময়রের দিন থেকে শুরু হয় এক অবিরাম দৌড়। জোহরা সকালে দ্রুত স্কুলে যায়। ক্লাস শেষে সে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। তার প্রতিটি মুহূর্ত যেন সময়ের সাথে লড়াই। তার লক্ষ্য হলো, নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আলীর সাথে জুতো বদলানো, যাতে আলীও সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে।জোহরা ছুটছে, তার ছেঁড়া চটি পায়ে, তার হাতে আলীর স্কুলের জুতো। তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, কেবল নিরব নিষ্ঠা। সে জানে, তার ভাইয়ের ভবিষ্যৎ এই দৌড়ের ওপর নির্ভর করছে। জোহরা নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছায়, সেখানে আলী তার জন্য অপেক্ষা করছে। দ্রুত জুতো বদলানো হয়। আলী এখন জোহরার ছোট চটি পায়ে দৌড়ে তার স্কুলের দিকে। আর জোহরা আলীর জুতো পায়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ি ফেরে।এই দৌড় কেবল শারীরিক দৌড় নয়, এটি যেন জীবনের এক রূপক। দরিদ্র মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক বিশাল দৌড়, এক লড়াই। আলীর স্কুলে দেরি হয়, সে বকা খায়, কিন্তু সে কোনো অভিযোগ করে না। সে তার বোনের জন্য এই কষ্ট সহ্য করে। জোহরাও তার ভাইয়ের কষ্ট বোঝে। সে দেখে, আলী কী পরিশ্রম করছে, কীভাবে তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছে। এই গভীর সমবেদনা, এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পুরো সিনেমাটিকে নিয়ন্ত্রণ করে।সততা এবং নিষ্ঠা: মানবিকতার স্পর্শএই কঠিন সংগ্রামের মধ্যেই ফুটে ওঠে আলী এবং জোহরার নৈতিকতা এবং নিষ্ঠা। তাদের স্কুলে এক শিক্ষকের বাগান নষ্ট করার জন্য একদল ছেলেকে শাস্তি দেওয়া হয়। শিক্ষকের বাগান ঠিক করার জন্য ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানানো হয়। আলী তার দলের হয়ে এগিয়ে আসে। সে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে, বাগানের যত্ন নেয়। তার সততা এবং নিষ্ঠা দেখে শিক্ষক মুগ্ধ হন। শিক্ষকের বাগান কেবল আলীর হাত ধরে পুনরুজ্জীবিত হয় না, বরং আলীর সততার একটি প্রতীক হয়ে ওঠে।এরই মধ্যে জোহরা তার গোলাপি জুতো দেখতে পায় অন্য এক মেয়ের পায়ে। সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করে, জুতোটি তো ঠিকই আছে! সে মেয়েটির পিছু পিছু যায় এবং দেখে, মেয়েটি তার অন্ধ বাবার সাথে থাকে। তারা অনেক দরিদ্র। জোহরা তার জুতো ফেরৎ পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয়। সে জানে, মেয়েটি তার জুতো পরে স্কুলে যাচ্ছে, আর তার অন্ধ বাবার জন্য কিছু করার চেষ্টা করছে। এই উপলব্ধি জোহরার মধ্যে এক নতুন সমবেদনা তৈরি করে। সে তার জুতো ফেরৎ নেওয়ার কথা আর ভাবে না। তার এই ত্যাগ এবং সমবেদনা ইসলামিক নৈতিকতার এক দারুণ উদাহরণ। অল্পে তুষ্ট থাকা এবং অপরের কষ্টের কথা ভাবা—এই মূল্যবোধগুলোই এই ছবিতে ফুটে ওঠে।বাবার কষ্ট এবং নতুন আশা আলীর বাবা একজন সৎ মানুষ। সে দরিদ্র, কিন্তু তার নৈতিকতা খুব উচ্চ। সে মালী হিসেবে কাজ করে এবং সংসারের খরচ মেটানোর জন্য অনেক কষ্ট করে। একদিন সে আলীকে নিয়ে এক ধনী এলাকায় যায় বাগানের কাজ খুঁজতে। আলী তার বাবাকে সহায়তা করে। সে তার বাবার পরিশ্রম দেখে এবং বোঝে, তার বাবা কতটা কষ্ট করছে তাদের জন্য। ধনী এলাকায় কাজ করতে গিয়ে আলী ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য লক্ষ্য করে। তবে সে এই বৈষম্য দেখে হতাশ হয় না, বরং তার বাবার মতো সৎ ও পরিশ্রমী হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।একদিন তারা এক বড় বাগান পায় যেখানে কাজ করার সুযোগ হয়। আলীর বাবা খুব খুশি হয় এবং স্বপ্ন দেখতে শুরু করে নতুন জুতো কেনার। কিন্তু তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। কাজ করার সময় আলীর বাবা আহত হয়। নতুন জুতো কেনার স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে ফিকে হয়ে যায়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বপ্ন কত ভঙ্গুর, কত সহজে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।দৌড় প্রতিযোগিতা: শেষ লড়াই এবং চূড়ান্ত ট্র্যাজেডি সিনেমার চূড়ান্ত পর্বটি হলো এক দৌড় প্রতিযোগিতা। আলী সিদ্ধান্ত নেয়, সে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। তার কোনো স্বপ্ন নেই দৌড়বিদ হওয়ার। তার কোনো গৌরব পাওয়ার ইচ্ছা নেই। তার লক্ষ্য একটাই—তৃতীয় স্থান অর্জন করা। কারণ, তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কার হিসেবে একজোড়া নতুন স্নিকার্স দেওয়া হবে। আলী এই জুতো তার বোনের জন্য জিততে চায়।দৌড় শুরু হয়। হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে আলী ছুটছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ সময়ের সাথে লড়াই। তার চোখেমুখে কেবল জোহরার মুখ। সে মনে মনে প্রার্থনা করছে, "আমি তৃতীয় হতে চাই, স্যার।" সে জানে, তার প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়ার দরকার নেই, সে কেবল তৃতীয় হতে চায়।দৌড়ের প্রতিটি দৃশ্য যেন মহাকাব্যিক। ক্যামেরা আলীর ক্লান্ত মুখ, তার ঘাম, তার হাঁপানো শ্বাস, তার প্রতিযোগীতার দিকে গভীর মনোযোগ—সবকিছু খুব কাছ থেকে ধারণ করে। দর্শকরা আলীর সাথে ছুটতে থাকে, আলীর সাথে হাঁপাতে থাকে। দৌড়টি যেন জীবনের এক রূপক—প্রতিটি মুহূর্ত এক লড়াই, প্রতিটি পদক্ষেপে এক নতুন চ্যালেঞ্জ। শেষ মুহূর্তে এক অবিস্মরণীয় ট্র্যাজেডি ঘটে। আলী যখন বুঝতে পারে যে সে প্রথম হওয়ার পথে, সে গতি কমিয়ে দেয়। সে চায় না প্রথম হতে, সে চায় তৃতীয় হতে। তার পেছনে থাকা প্রতিযোগীরা তাকে ছাড়িয়ে যায়। আলী আবার গতি বাড়ায়, তার বোনের মুখের কথা মনে করে সে চেষ্টা করে আবার তৃতীয় অবস্থানে ফিরে আসতে। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা বিফলে যায়। দৌড়ের চূড়ান্ত ফলাফলে আলী প্রথম হয়ে যায়!বিজয়ী হয়েও ট্র্যাজেডির শিকার হওয়া আলীর বেদনা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। সে ট্রফি হাতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সে জানে, প্রথম হওয়ার মানে হলো, সে তার বোনের জন্য জুতো জিততে পারেনি। ট্রফির কোনো মূল্য নেই তার কাছে, জুতোই ছিল তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা। দর্শকরাও তার সাথে কাঁদতে থাকে, তাদের হৃদয়েও এক দীর্ঘশ্বাস তৈরি হয়। প্রথম হওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে বিজয়ের প্রতীক, কিন্তু আলীর জন্য এটি ছিল পরাজয়। তার এই কান্না সততা, ত্যাগ, এবং এক গভীর প্রেমের প্রতীক।

শেষ: একটি ম্যাজিক মুহূর্ত এবং অনন্ত ভালোবাসা
দৌড় প্রতিযোগিতার পর দৃশ্যটি খুবই মার্মিক। আলী পুরস্কার নিতে ট্রফি হাতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সে কিছুই বলতে পারছে না, কেবল কাঁদছে। পরিচালক আমাদের মনে করিয়ে দেন, কখনো কখনো জীবনে পরাজয়ও এক বিজয় হতে পারে। আলীর কান্না কেবল দুঃখের কান্না নয়, এটি তার নিষ্ঠা এবং প্রেমের এক প্রকাশ।পরের দিন, আলী এবং জোহরা স্কুলে যায়। তাদের স্কুলে জুতো পরিবর্তনের নিরব চুক্তিটি চলে আসে। তারা দৌড়ে নির্দিষ্ট স্থানে যায়। জুতো বদলানোর সময় তাদের কোনো কথা হয় না। কেবল চোখের ইশারায় একে অপরের প্রতি সমবেদনা এবং ভালোবাসা ফুটে ওঠে। তাদের এই নিরব প্রেমের দৃশ্য দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।সিনেমার একদম শেষে এক ম্যাজিক মুহূর্ত দেখা যায়। আলীর বাবা বাজার থেকে ফেরার সময় বাইকের পেছনে ঝুলছে একজোড়া সাদা আর একজোড়া গোলাপি নতুন জুতো। আমরা জানি না, এই জুতো কীভাবে এসেছে। হয়ত দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার ট্রফির বদলে এই জুতো পাওয়া গিয়েছে, হয়ত মজিজি কোনো অদৃশ্য শক্তির হাত ধরে এই জুতোগুলোকে পাঠিয়েছেন। তবে এই দৃশ্যটি আমাদের মনে এক গভীর সন্তুষ্টি তৈরি করে। এটি যেন সততা এবং নিষ্ঠার এক চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতীক।'চিলড্রেন অফ হেভেন' কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি মানুষের আত্মার এক গভীর আর্তি। এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা আমাদের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এই সিনেমাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং পারিবারিক ভালোবাসা—এই মূল্যবোধগুলোই আমাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। যারা এই সিনেমাটি দেখেনি, তারা হয়ত মানুষের আত্মার এক গভীর আর্তি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



Congratulations!

Your post has been manually upvoted by the SteemPro team! 🚀

upvoted.png

This is an automated message.

💪 Let's strengthen the Steem ecosystem together!

🟩 Vote for witness faisalamin

https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.30
JST 0.058
BTC 70777.64
ETH 2147.82
USDT 1.00
SBD 0.51