সময় ব্যবস্থাপনা, সহজ কিছু কৌশল ।

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।




11.png

সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। টাকা হারালে আবার উপার্জন করা যায়, সুযোগ হারালে নতুন সুযোগ খোঁজা যায়, কিন্তু সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা মানে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজানো। আমরা প্রতিদিনই ব্যস্ত থাকি—কাজ, পরিবার, পড়াশোনা, সামাজিক দায়িত্ব সবকিছু মিলিয়ে দিন যেন উড়ে যায়। কিন্তু ব্যস্ত থাকা আর উৎপাদনশীল হওয়া এক জিনিস নয়। অনেক সময় আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করি, কিন্তু শেষে দেখি আসল কাজগুলো হয়নি। এর কারণ হলো সময় ব্যবস্থাপনার অভাব। সময় ব্যবস্থাপনা আমাদেরকে সাহায্য করে অগ্রাধিকার ঠিক করতে, কাজের চাপ কমাতে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং লক্ষ্য পূরণে ধারাবাহিকতা আনতে।

দিন শুরু করার আগে একটি ছোট কাজের তালিকা লিখে ফেলো। এতে বোঝা যাবে কোন কাজগুলো সবচেয়ে জরুরি। তালিকা ছাড়া কাজ করলে অনেক সময় ছোটখাটো কাজেই সময় নষ্ট হয়ে যায়, অথচ বড় কাজগুলো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সব কাজ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই কাজগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি নয়, জরুরি কিন্তু তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রথম ভাগের কাজগুলো আগে শেষ করো। দ্বিতীয় ভাগের কাজগুলো পরিকল্পনা করে করো। আর তৃতীয় ভাগের কাজগুলো সম্ভব হলে অন্য কাউকে দিয়ে করানো যায়।

সময় ব্লকিং মানে হলো নির্দিষ্ট সময়কে নির্দিষ্ট কাজের জন্য বরাদ্দ করা। যেমন সকাল ৯টা থেকে ১১টা শুধু লেখালেখি, দুপুরে ১টা থেকে ২টা ইমেইল চেক করা। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং কাজের গতি দ্রুত হয়। একটানা কাজ করলে ক্লান্তি আসে। তাই প্রতি ৫০ মিনিট কাজের পর ১০ মিনিট বিরতি নাও। এই বিরতিতে হাঁটতে পারো, পানি খেতে পারো বা একটু চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে পারো। এতে মন সতেজ থাকবে।

সময় ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি বড় সহায়ক। ক্যালেন্ডার অ্যাপ, টু-ডু লিস্ট অ্যাপ, রিমাইন্ডার—all এগুলো কাজে লাগাও। এগুলো তোমাকে কাজের সময় মনে করিয়ে দেবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে সাহায্য করবে। সব কাজ গ্রহণ করলে সময় কখনোই যথেষ্ট হবে না। তাই অপ্রয়োজনীয় কাজ বা দায়িত্ব এড়িয়ে চলা জরুরি। ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শেখো। এতে তুমি নিজের সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে।

মাল্টিটাস্কিং অনেক সময় ভালো মনে হলেও আসলে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। একসাথে এক কাজ করো, শেষ করো, তারপর অন্য কাজে যাও। এতে কাজের মান ভালো হবে এবং সময়ও বাঁচবে। দিন শেষে ৫ মিনিট সময় নিয়ে ভেবে দেখো আজ কী কী কাজ হলো, কী কী হয়নি। এতে আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে করা যাবে। সময় ব্যবস্থাপনা মানে শুধু কাজ নয়, নিজের জন্যও সময় রাখা। বই পড়া, গান শোনা, পরিবারকে সময় দেওয়া—এসবও জরুরি। এগুলো মানসিক শান্তি দেয় এবং কাজের প্রতি নতুন উদ্যম আনে।

সময় ব্যবস্থাপনা একদিনের বিষয় নয়। এটা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতিদিন ছোট ছোট পরিবর্তন আনো, ধীরে ধীরে দেখবে জীবন অনেক বেশি সংগঠিত হয়ে গেছে। সময় ব্যবস্থাপনা আসলে জীবন ব্যবস্থাপনা। আমরা যদি সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে কাজের চাপ কমবে, লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে এবং জীবনে শান্তি আসবে। মনে রাখো, সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা মানে নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট কৌশলগুলো প্রয়োগ শুরু করো।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png