নিজে ঠিক তো জগৎ ঠিক।
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
নিজে ঠিক তো জগৎ ঠিক এই কথাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বিশাল জীবনদর্শন। আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা আসলে আমাদের নিজেদের মনেরই একটি প্রতিফলন। আমরা পৃথিবীকে যেভাবে দেখি বা অনুভব করি, তা মূলত নির্ভর করে আমাদের নিজস্ব মানসিকতা, চিন্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। যখন একজন মানুষ নিজের ভেতর থেকে সৎ, শান্ত এবং ইতিবাচক থাকে, তখন তার কাছে বাইরের জগৎটাও সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল মনে হয়। পক্ষান্তরে নিজের ভেতরে যদি অশান্তি, ঈর্ষা বা নেতিবাচকতা বাস করে, তবে বাইরের সমস্ত আয়োজনও তাকে আনন্দ দিতে পারে না।
আমরা প্রায়শই আমাদের দুঃখ বা ব্যর্থতার জন্য সমাজ, পরিবেশ বা অন্য মানুষকে দায়ী করি। আমরা চাই অন্যেরা বদলে যাক, সমাজ বদলে যাক, কিন্তু আমরা নিজেরা বদলানোর কথা ভাবি না। অথচ পরিবর্তনের আসল চাবিকাঠি হলো নিজের সংস্কার। পৃথিবীটা একটা বিশাল আয়নার মতো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা যদি মুখ ভার করে থাকি, তবে আয়না আমাদের হাসি মুখ দেখাবে না। ঠিক তেমনি আমরা জগৎকে যা দেব, জগৎ আমাদের ঠিক তাই ফিরিয়ে দেবে। আপনি যদি মানুষের সাথে বিনয়ী হন, তবে আপনিও বিনয় পাবেন।
আপনি যদি সৎ পথে চলেন, তবে আপনার চারপাশে সৎ মানুষের একটি বলয় তৈরি হবে। অনেক সময় আমরা মনে করি জগৎটা খুব স্বার্থপর বা নিষ্ঠুর, কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় আমাদের নিজেদের আচরণের কোনো একটি নেতিবাচক দিক হয়তো সেই পরিস্থিতি তৈরি করছে। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে পরিবর্তন তুমি অন্যের মধ্যে দেখতে চাও, সেই পরিবর্তন আগে নিজের মধ্যে নিয়ে এসো। এটি একটি ধ্রুব সত্য। সমাজ বা রাষ্ট্র কোনো আলাদা সত্তা নয়, এটি আমাদের মতো অনেকগুলো মানুষের সমষ্টি। আমি যদি নিজে ঠিক হই, তবে অন্তত সমাজের একটি অংশ তো ঠিক হলো। এভাবে প্রত্যেকে যদি নিজের দায়িত্ব এবং নৈতিকতার দিকে নজর দেয়, তবে পুরো সমাজটাই বদলে যেতে বাধ্য। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠনের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের আবেগ আমাদের বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। একজন সুখী মানুষ বিপদে পড়লেও তার ধৈর্য হারায় না, কারণ তার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে। কিন্তু যার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, সে সামান্য আঘাতেই ভেঙে পড়ে এবং চারপাশের সবকিছুকে বিষাক্ত মনে করে। তাই আত্মিক উন্নয়নই হলো জগতের উন্নতির মূল ভিত্তি। নিজের ভুলগুলো স্বীকার করা এবং সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা একজন মানুষের বড় গুণ। আমরা যখন অন্যের সমালোচনা করি, তখন আসলে আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করি। সেই সময়টুকু যদি নিজের দক্ষতা বাড়াতে বা চরিত্র গঠনে ব্যয় করা হয়, তবে জীবনের মান অনেক বেড়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে বা পরিবারে অনেক সময় ঝগড়া বা অশান্তি হয়, যেখানে আমরা অপর পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করি। কিন্তু একবার যদি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি যে আমার কথায় বা কাজে কোনো ভুল ছিল কি না, তবে দেখা যায় সমস্যার সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজেকে শাসন করা জগতের অন্য যেকোনো কিছুকে শাসন করার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন এবং গৌরবের। যে মানুষ নিজের মনকে জয় করতে পেরেছে, তার কাছে পৃথিবীর কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হতে পারে না। জগতে ভালো এবং মন্দ দুই-ই বিদ্যমান। এখন আমি কোনটির দিকে তাকাব এবং কোনটি গ্রহণ করব, তা একান্তই আমার নিজের সিদ্ধান্ত। আমি যদি আলোর দিকে মুখ করে থাকি, তবে ছায়া সবসময় আমার পেছনে থাকবে। অর্থাৎ আমি যদি নিজের চিন্তা ও কর্মকে স্বচ্ছ রাখি, তবে জগতের অন্ধকার দিকগুলো আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস এবং নৈতিক বল থাকলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। পরিশেষে বলা যায়, জগতকে সুন্দর করার জন্য বাইরে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন নেই। নিজের মনের ঘরটি আগে পরিষ্কার করতে হবে। লোভ, ক্ষোভ এবং অহংকার বিসর্জন দিয়ে যখন আমরা নিজেকে সত্যের পথে পরিচালিত করব, তখন আমরা দেখব জগৎটা সত্যিই বদলে গেছে। আমাদের নিজেদের পরিবর্তনই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পরিবর্তন। তাই অন্যের দোষ না খুঁজে নিজের গুণের চর্চা করা এবং নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য। কারণ আমি ঠিক থাকলেই আমার জন্য পুরো জগৎ ঠিক হয়ে যাবে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR


