“চার্জার হারিয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষটাও ব্যাটারি ১% হলে হঠাৎ দায়িত্ববান নাগরিক!”

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।



ChatGPT Image May 20, 2026, 10_38_25 PM.png

মোবাইল ফোন এখন শুধু একটা যন্ত্র না, এটা যেন আমাদের শরীরের বাড়তি একটা অঙ্গ হয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে ফোন, ঘুমানোর আগেও শেষবার ফোন। কে মেসেজ দিল, কে পোস্ট করল, কে স্টোরি দিল—সবকিছুতেই আমাদের এক অদ্ভুত আগ্রহ। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই মানুষগুলোই যখন দেখে মোবাইলের ব্যাটারি ১%-এ নেমে এসেছে, তখন হঠাৎ এমন আচরণ শুরু করে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দায়িত্বশীল মানুষ সে-ই!

আসল নাটকটা শুরু হয় তখন, যখন ফোনের ওপরে ছোট্ট করে লাল রঙের “১%” দেখা যায়। এই একটা সংখ্যা মানুষের পুরো ব্যক্তিত্ব বদলে দেয়। যে মানুষটা পাঁচ মিনিট আগে ফেসবুকে একটার পর একটা ভিডিও স্ক্রল করছিল, সে হঠাৎ বুঝতে পারে—“না, এখন জীবনকে সিরিয়াসলি নিতে হবে!” যেন একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, আর হাতে থাকা ১% ব্যাটারি হলো শেষ সৈনিক।

প্রথম দায়িত্বশীল কাজটা হয়—সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের ব্রাইটনেস কমানো। যে মানুষটা এতক্ষণ ফুল ব্রাইটনেসে ভিডিও দেখছিল, সে এখন এমনভাবে ব্রাইটনেস নামিয়ে আনে যেন বিদ্যুৎ সাশ্রয় আন্দোলনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। স্ক্রিন এত অন্ধকার হয়ে যায় যে নিজের মুখই দেখা যায় না, তবুও মন বলে—“ব্যাটারি বাঁচাতে হবে!”

এরপর শুরু হয় অ্যাপ বাছাইয়ের কঠিন সময়। যেই মানুষটা এতক্ষণ ইউটিউব, গেম আর ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করছিল, সে এখন হঠাৎ হিসাবি হয়ে যায়। কোন অ্যাপ জরুরি আর কোনটা না—এই বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়। মনে হয় যেন দেশের বাজেট পরিকল্পনা চলছে! “না, এখন আর ভিডিও দেখা যাবে না। শুধু জরুরি কাজ।” অথচ পাঁচ মিনিট আগেও জরুরি কাজ ছিল রিলস দেখা!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ১% ব্যাটারির সময় মানুষ হঠাৎ খুব ভদ্র হয়ে যায়। কারও সঙ্গে ঝগড়া থাকলে সে ভাবে—“না, এখন তর্ক করে লাভ নেই, যদি ফোন বন্ধ হয়ে যায়?” তখন সবাইকে ছোট ছোট রিপ্লাই দেওয়া শুরু হয়। “আচ্ছা”, “ঠিক আছে”, “পরে কথা বলি”—এই শব্দগুলো যেন জাতীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ব্যাটারি শেষ হওয়ার আগে সবকিছু সুন্দরভাবে শেষ করতে হবে!

আর একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়—মানুষ হঠাৎ সব জরুরি ফোনকল মনে করতে শুরু করে। “আরে! আম্মুকে তো ফোন দেওয়া হয়নি!”, “বন্ধুকে একটা কথা বলা দরকার ছিল!”, “ওই মেসেজটার রিপ্লাই দেওয়া হয়নি!” যেন ১% ব্যাটারি হঠাৎ মনে করিয়ে দেয়, জীবনে আসলে কী কী গুরুত্বপূর্ণ। পুরো দিন যেটা মনে ছিল না, সেটা তখন পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজ হয়ে যায়।

এমনকি তখন মানুষ চার্জার খুঁজতেও এমন সিরিয়াস হয়ে যায়, যেটা সাধারণ সময়ে হয় না। বাসায় চার্জার কোথায় রাখা আছে সেটা হয়তো তিন দিনেও মনে পড়ে না, কিন্তু ব্যাটারি ১% হলেই মানুষ গোয়েন্দা হয়ে যায়। বালিশের নিচে, টেবিলের পেছনে, ব্যাগের ভেতরে—এমনভাবে খোঁজে যেন হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন উদ্ধার করতে হবে!

যদি বাইরে থাকে, তাহলে তো আরও নাটক। হঠাৎ সবাই খুব সামাজিক হয়ে যায়। যে মানুষটা কারও সঙ্গে কথা বলে না, সেও এসে বলে—“ভাইয়া, একটা চার্জ দেওয়া যাবে?” কিংবা “আপনার কাছে পাওয়ার ব্যাংক আছে?” এই মুহূর্তে অপরিচিত মানুষও আপনজন হয়ে যায়। চার্জার আছে এমন মানুষকে তখন সুপারহিরোর মতো লাগে!

সবচেয়ে হাসির বিষয় হলো, ১% ব্যাটারির সময় মানুষ এমনভাবে ফোন ব্যবহার করে যেন ফোনটা একটা অসুস্থ রোগী। স্ক্রিন কম অন করা, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করা, ইন্টারনেট অফ করে রাখা—সবকিছুতেই অতিরিক্ত যত্ন। এমনকি কেউ ফোন করলে মনে মনে বিরক্ত হয়—“এখন কেন কল দিচ্ছে!” কারণ একটা কল মানেই হয়তো ১% থেকে সরাসরি শূন্যে নেমে যাওয়া।

আর যখন ফোনে “Battery Saver Mode” চালু করা হয়, তখন তো মনে হয় মানুষ জীবনের নতুন দর্শন পেয়ে গেছে। “কম ব্যবহার করো, প্রয়োজন ছাড়া কিছু না”—এই নীতি তখন শুধু ফোনে না, পুরো জীবনে চলে আসে। যেন ব্যাটারি মানুষকে সাময়িকভাবে মিনিমালিস্ট বানিয়ে দেয়!

কিন্তু সবচেয়ে বড় কৌতুক হলো—ফোন চার্জে লাগানোর পর এই দায়িত্বশীলতা আবার উধাও হয়ে যায়। ব্যাটারি ৫০% পার হতেই মানুষ আবার আগের রূপে ফিরে আসে। ফুল ব্রাইটনেস, ভিডিও, গেম, অকারণে স্ক্রল—সব আবার শুরু। তখন আর কোনো দায়িত্ববোধ থাকে না। মনে হয় ১% ব্যাটারির সময়কার সেই জ্ঞানী মানুষটা অন্য কেউ ছিল!

আসলে মোবাইলের ব্যাটারি ১% হওয়া একটা ছোটখাটো জীবন শিক্ষা। এটা আমাদের বুঝিয়ে দেয়, যখন কিছু হারানোর ভয় আসে, তখন মানুষ হঠাৎ হিসাবি আর দায়িত্বশীল হয়ে যায়। ঠিক যেমন পরীক্ষার আগে সবাই পড়তে বসে, তেমনি ব্যাটারি শেষ হওয়ার ভয় মানুষকে হঠাৎ সচেতন বানিয়ে ফেলে।

তাই বলা যায়, “মোবাইলের ব্যাটারি ১% থাকলে মানুষ কেন হঠাৎ এত দায়িত্বশীল হয়ে যায়?”—কারণ তখন মানুষ বুঝতে পারে, হাতে সময় কম, সুযোগ কম, আর ভুল করার সুযোগও কম। যদিও এই দায়িত্ববোধের মেয়াদ সাধারণত চার্জার লাগানো পর্যন্তই থাকে


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png