“বাংলাদেশি মায়ের ‘আমি কিছু বলবো না’—এই একটা ডায়লগেই কেন বুক কেঁপে ওঠে?”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
বাংলাদেশি পরিবারে বড় হওয়া প্রায় প্রতিটা সন্তানের জীবনে একটা ডায়লগ খুব পরিচিত—“আমি কিছু বলবো না।” এই কথাটা শুনতে যতটা নিরীহ লাগে, বাস্তবে এটা ততটাই ভয়ংকর। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে যত ভয়ংকর সতর্কবার্তা আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশি মায়ের এই ডায়লগ আলাদা একটা স্থান পাওয়ার যোগ্য! মজার ব্যাপার হলো, মা যখন বলে “আমি কিছু বলবো না”, তখন আসলে সবাই বুঝে যায়—অনেক কিছুই বলা হবে, আর সেটা এমনভাবে বলা হবে যে নিজের জন্মদিন পর্যন্ত মনে পড়ে যাবে!আসলে বাংলাদেশি মায়েদের “আমি কিছু বলবো না” একটা সাধারণ বাক্য না, এটা একটা আবেগ, একটা মানসিক চাপ, একটা রহস্যময় ঝড়ের আগাম বার্তা। ঠিক ঝড়ের আগে যেমন হঠাৎ চারপাশ শান্ত হয়ে যায়, তেমনি মা যখন হঠাৎ চুপচাপ গলায় বলে, “না, আমি কিছু বলবো না”, তখন ঘরের পরিবেশই বদলে যায়। সন্তান সঙ্গে সঙ্গে নিজের গত ২৪ ঘণ্টার সব কাজ রিওয়াইন্ড করা শুরু করে—“আমি কী ভুল করলাম?” “ফোন বেশি চালালাম?” “বাজার থেকে কিছু আনতে ভুলে গেছি?” “পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কিছু বুঝে ফেলেছে নাকি?”সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই ডায়লগের পর আসা নীরবতা সবচেয়ে ভয়ংকর। কারণ মা যদি রাগ করে সরাসরি বকা দিতেন, তাহলে অন্তত জানা যেত সমস্যাটা কোথায়। কিন্তু “আমি কিছু বলবো না” মানে হলো—তুমি নিজেই খুঁজে বের করো, কোথায় ভুল করেছো! এটা যেন জীবনের একটা কঠিন গোয়েন্দা মিশন, যেখানে অপরাধীও তুমি, তদন্তকারীও তুমি!বাংলাদেশি মায়েদের একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে—তারা কিছু না বলেও অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে পারে। ধরো, তুমি বাসায় দেরি করে ফিরেছো। মা হয়তো কিছুই বলবে না। শুধু মুখটা একটু অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখবে আর বলবে, “আমি কিছু বলবো না।” ব্যস! এই একটা বাক্যই এমন অপরাধবোধ তৈরি করবে যে মনে হবে তুমি দেশের সবচেয়ে বড় অপরাধ করে ফেলেছো। তখন নিজের মনেই শুরু হবে আত্মসমালোচনা—“আসলে আমার এত দেরি করা ঠিক হয়নি…”আবার পরীক্ষার সময় এই ডায়লগ আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। মা যদি দেখে তুমি পড়ার বদলে ফোনে ভিডিও দেখছো, তখন সরাসরি বকা কম, বরং ঠাণ্ডা গলায় বলে—“না না, আমি কিছু বলবো না। পরে রেজাল্ট আসলে বুঝবা।” এই “পরে বুঝবা” কথাটার ভয় আলাদা! কারণ তখন মনে হয় ভবিষ্যৎ অন্ধকার, জীবন শেষ, আর রেজাল্ট কার্ডই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় বিচারপত্র!খাবারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি মায়ের এই ডায়লগের আলাদা প্রভাব আছে। মা অনেক কষ্ট করে রান্না করল, আর তুমি যদি বলো—“আজকে খেতে ইচ্ছে করছে না”—তখন উত্তর আসে, “আচ্ছা, খেও না। আমি কিছু বলবো না।” এই “কিছু বলবো না”-এর মধ্যে এমন এক ধরনের কষ্ট মিশে থাকে যে শেষ পর্যন্ত না খেয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে যায়। মনে হয়, না খেলে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে অকৃতজ্ঞ মানুষ হয়ে যাবো!আরেকটা বিষয় খুব পরিচিত—ঘর গুছানো। মা যদি দশবার বলার পরও ঘর অগোছালো থাকে, তখন তিনি রেগে চিৎকার কম করে, বরং শান্ত গলায় বলে, “থাক, আমি কিছু বলবো না। ঘর যেমন আছে থাক।” কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এই একটা কথার পরই হঠাৎ ঘর গুছানোর এনার্জি চলে আসে! মনে হয়, এখনই কাজ না করলে সামনে ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।আসলে বাংলাদেশি মায়ের “আমি কিছু বলবো না” এত ভয়ংকর হওয়ার পেছনে একটা মনস্তাত্ত্বিক কারণও আছে। মা সাধারণত আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ। তাই যখন তারা অভিমান মেশানো গলায় কিছু বলে না, তখন সেটা আমাদের ভেতরে অপরাধবোধ তৈরি করে। আমরা বুঝতে পারি—কোথাও হয়তো আমরা ভুল করেছি। সরাসরি বকা অনেক সময় এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বের হয়ে যায়, কিন্তু এই নীরব অভিমান ভীষণভাবে গায়ে লাগে।তবে সব মজার আড়ালে একটা সুন্দর সত্যিও আছে। বাংলাদেশি মায়ের এই ডায়লগের মধ্যে লুকিয়ে থাকে যত্ন। তারা হয়তো রাগ করে, অভিমান করে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবসময় সন্তানের ভালোটাই চায়। কখনো বেশি ফোন চালানো নিয়ে, কখনো পড়াশোনা নিয়ে, কখনো সময়মতো খাওয়া বা বাসায় ফেরার ব্যাপারে—সব রাগের পেছনেই থাকে চিন্তা আর ভালোবাসা। যদিও সেই ভালোবাসা প্রকাশের স্টাইল একটু ভয়ংকর ধরনের!সবচেয়ে হাসির বিষয় হলো, বয়স যতই বাড়ুক না কেন, এই ডায়লগের ভয় কখনো কমে না। ছোটবেলায় যেমন “আমি কিছু বলবো না” শুনে টেনশন হতো, বড় হয়েও ঠিক একই রকম লাগে। মনে হয়, মা কিছু না বললেও সেই নীরব রাগ যেন পুরো ঘরে ছড়িয়ে গেছে।
তাই বলা যায়, “বাংলাদেশি মায়ের ‘আমি কিছু বলবো না’—সবচেয়ে ভয়ংকর ডায়লগ কেন?”—কারণ এই একটা কথার ভেতরে রাগ, অভিমান, হতাশা, ভালোবাসা, শিক্ষা আর অপরাধবোধ—সব একসাথে মিশে থাকে। এটা শুধু একটা ডায়লগ না, এটা বাংলাদেশি পরিবারে বড় হওয়া প্রতিটা সন্তানের মানসিক পরীক্ষার অংশ! শেষে একটা কথা—মা যখন বলে “আমি কিছু বলবো না”, তখন বিশ্বাস করে বসে থেকো না। কারণ অভিজ্ঞতা বলে, এরপর যা আসে… সেটা ইতিহাস!
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR



This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community