যাকে তুমি বেশি আপন ভাববে, সেই তোমাকে বেশি কষ্ট দেবে।

in আমার বাংলা ব্লগ6 hours ago (edited)

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।



10000.png

জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যগুলোর একটি হলো—আমরা যাদের সবচেয়ে আপন মনে করি, তাদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই। কারণ, অচেনা মানুষ আমাদের মন ভাঙতে পারে না, কিন্তু যাদের আমরা হৃদয়ের ভেতর জায়গা দিই, তাদের প্রতিটি আচরণ আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

মানুষের সম্পর্ক আসলে এক অদ্ভুত জটিলতা। আমরা যখন কাউকে আপন করি, তখন তার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা বেড়ে যায়। আমরা চাই সে আমাদের বুঝুক, আমাদের পাশে থাকুক, আমাদের কষ্টে সান্ত্বনা দিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সব মানুষ সব সময় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। আর সেই অপূর্ণতাই জন্ম দেয় কষ্টের।

তুমি যদি কাউকে খুব আপন ভাবো, তার প্রতিটি কথাই তোমার মনে দাগ কাটবে। সে যদি তোমাকে অবহেলা করে, তুমি সেটা সহজে নিতে পারবে না। সে যদি তোমার প্রতি উদাসীন হয়, তোমার ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হবে। অথচ একই আচরণ যদি কোনো অচেনা মানুষ করে, তুমি হয়তো এক মুহূর্তেই ভুলে যাবে।

এখানেই বোঝা যায়—কষ্টের গভীরতা নির্ভর করে আমাদের আপনতার মাত্রার ওপর। যত বেশি আপন, তত বেশি কষ্ট।

আমরা প্রায়ই ভাবি, ভালোবাসা মানেই নিঃশর্ত সুখ। কিন্তু ভালোবাসার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় কষ্টের সম্ভাবনা। কারণ ভালোবাসা মানেই প্রত্যাশা, আর প্রত্যাশা মানেই ভাঙার সম্ভাবনা।

তুমি যদি কাউকে এতটাই আপন করো যে তার ছাড়া তোমার পৃথিবী অসম্পূর্ণ মনে হয়, তবে তার সামান্য অবহেলাও তোমাকে ভেঙে দিতে পারে। সে যদি তোমার ফোন না ধরে, তুমি কষ্ট পাবে। সে যদি তোমার কথা গুরুত্ব না দেয়, তুমি আহত হবে। অথচ অন্য কারও ক্ষেত্রে এসব তোমাকে স্পর্শই করবে না।

তাই জীবনের এক শিক্ষা হলো—সব সম্পর্কেই একটা দূরত্ব রাখা দরকার। দূরত্ব মানে অবহেলা নয়, বরং নিজের ভেতরে একটা নিরাপদ জায়গা তৈরি করা। যেখানে তুমি নিজেকে আগলে রাখবে, যাতে অন্যের আচরণ তোমাকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে না পারে।

মানুষের মন খুব নরম। আমরা যতই শক্ত হওয়ার চেষ্টা করি, ভেতরে ভেতরে আমরা ভীষণ সংবেদনশীল। তাই যাদের আমরা আপন করি, তাদের প্রতি আমাদের সংবেদনশীলতা আরও বেশি। তারা যদি আমাদের কষ্ট দেয়, সেটা আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে।

কিন্তু এই ক্ষত থেকে মুক্তির উপায় আছে। উপায় হলো—নিজেকে ভালোবাসা শেখা। নিজের ভেতরে এমন এক শক্তি তৈরি করা, যাতে অন্যের অবহেলা তোমাকে ভেঙে দিতে না পারে।

তুমি যদি নিজের ভেতরে শান্তি তৈরি করতে পারো, তবে বাইরের কষ্ট তোমাকে ততটা আঘাত করতে পারবে না। তুমি যদি নিজের ভেতরে ভালোবাসা খুঁজে পাও, তবে অন্যের ভালোবাসার অভাব তোমাকে ততটা কষ্ট দেবে না।

এটা সহজ নয়, কিন্তু সম্ভব। ধীরে ধীরে শিখতে হয়—সব মানুষ আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। সব মানুষ আমাদের মতো ভাববে না। সব মানুষ আমাদের মতো অনুভব করবে না।

তাই যাকে তুমি বেশি আপন ভাববে, সে তোমাকে বেশি কষ্ট দেবে—এটা জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সেই কষ্টকে তুমি কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটাই আসল শিক্ষা।

কষ্টকে যদি তুমি ধ্বংসের কারণ বানাও, তবে তুমি ভেঙে পড়বে। কিন্তু কষ্টকে যদি তুমি শক্তির উৎস বানাও, তবে তুমি আরও দৃঢ় হবে।

তুমি যদি ভাবো—কষ্ট মানেই শিক্ষা, তবে প্রতিটি কষ্ট তোমাকে নতুন কিছু শেখাবে। তুমি শিখবে মানুষকে বোঝা, শিখবে প্রত্যাশা কমানো, শিখবে নিজের ভেতরে শান্তি খুঁজে পাওয়া।

শেষ পর্যন্ত, জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো—তুমি নিজেই তোমার সবচেয়ে বড় আপন। অন্য কেউ নয়। তাই নিজের ভেতরে এমন এক জায়গা তৈরি করো, যেখানে কেবল তুমি থাকবে। সেখানে কোনো কষ্ট ঢুকতে পারবে না। সেখানে থাকবে শুধু শান্তি, ভালোবাসা আর শক্তি।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png