🌙 কড়কড়ে নতুন নোট আর স্মৃতির পাতা: ঈদ ও সালামির অমলিন গল্প 🌙

in আমার বাংলা ব্লগ19 hours ago

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।



ChatGPT Image Mar 16, 2026, 03_42_08 AM.png

ঈদের সকাল মানেই বাতাসে ভাসতে থাকা সেমাই আর পোলাওয়ের সুবাস। নতুন জামার গন্ধ, দল বেঁধে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া আর একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে সব ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার এক অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেও, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য, ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এবং উত্তেজনার নাম কী জানেন? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন—'সালামি'!

সালামি—শব্দটা ছোট, কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে থাকা আবেগ আর স্মৃতির কোনো পরিমাপ হয় না। ঈদের চাঁদের দেখা মেলার পর থেকেই শুরু হয়ে যেত সালামি পাওয়ার এক অঘোষিত পরিকল্পনা।

শৈশবের সেই সালামি-যুদ্ধ ও মধুর স্মৃতি
মনে পড়ে সেই ছোটবেলার কথা? ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোসল সেরে নতুন জামা পরে সবচেয়ে প্রথম কাজটাই ছিল বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করা। উদ্দেশ্য একটাই—কড়কড়ে নতুন নোট! ব্যাংক থেকে আনা নতুন ১০, ২০, ৫০ বা ১০০ টাকার নোটের যে একটা নিজস্ব গন্ধ আছে, সেটা হয়তো পৃথিবীর কোনো নামিদামি পারফিউমের চেয়েও আমাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল।

আমাদের একটা নিজস্ব ‘সালামি স্ট্র্যাটেজি’ বা কৌশল থাকত। পরিবারের কোন চাচা, মামা বা খালা সবচেয়ে বেশি সালামি দেন, তার একটা অলিখিত তালিকা আমাদের মনের ভেতর আগে থেকেই তৈরি করা থাকত। তাদের সামনে গিয়ে একটু বেশিই বিনয়ী হয়ে যেতাম আমরা। সালামি পাওয়ার পর ভাইবোন বা কাজিনদের সাথে চলত এক দারুণ প্রতিযোগিতা—“তোর কত হলো? আমার তো ৫০০ পার হয়ে গেছে!” এই প্রতিযোগিতার মাঝে যে কী এক অনাবিল আনন্দ ছিল, তা আজকের দিনে বসে বলে বোঝানো কঠিন।

আর সেই বিখ্যাত 'মায়ের ব্যাংক'! "টাকাগুলো আমাকে দে, সাবধানে রেখে দিই, পরে দরকারে দিস"—মায়ের এই মিষ্টি কথায় ভুলে আমরা আমাদের কষ্টার্জিত সালামি তার হাতে তুলে দিতাম। এরপর সেই টাকার আর কোনো হদিস মিলত না! বড় হয়ে আমরা বুঝতে পেরেছি, ওটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি আর সর্বজনীন এক ‘স্ক্যাম’, যা সব দেশের সব মায়েরাই আমাদের সাথে করে থাকেন!

সময় বদলে যায়, বদলে যায় ভূমিকা
সময় নদীর স্রোতের মতো বয়ে যায়। আমরা বড় হই। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর কর্মজীবন। ঈদের দিনগুলো এখনো আসে, কিন্তু আমাদের ভূমিকাগুলো নীরবেই বদলে যায়।

একটা সময় আমরা ছিলাম ‘সালামি গ্রহণকারী’, আর আজ আমরা পরিণত হয়েছি ‘সালামি প্রদানকারী’তে! এখন ঈদের দিন ছোট ভাইবোন, ভাগনে-ভাতিজারা যখন এসে সামনে দাঁড়ায়, তখন পকেটের দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস বের হলেও, তাদের চোখের ওই চকচকে আনন্দ আর হাসিমুখ দেখে নিজের শৈশবের কথাই মনে পড়ে যায়। মনে হয়, এই তো সেদিন আমিও ঠিক এভাবেই বড়দের পথ চেয়ে বসে থাকতাম। পকেট থেকে যখন নতুন নোটগুলো বের করে তাদের হাতে তুলে দিই, তখন নিজের অজান্তেই মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে। এই দেওয়ার আনন্দও যে পাওয়ার আনন্দের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, সেটা বড় না হলে হয়তো কখনোই বুঝতে পারতাম না।

আধুনিক যুগের ডিজিটাল সালামি
এখনকার যুগ আবার ডিজিটাল। এখন আর সব সময় দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জনদের সাথে সরাসরি দেখা হওয়ার সুযোগ হয় না। কিন্তু তাই বলে কি সালামি দেওয়া-নেওয়া থেমে থাকে? একদম না! এখন চলে ‘ডিজিটাল সালামি’। বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে হুট করেই মেসেজ চলে আসে—“ঈদ মোবারক! আপনার অ্যাকাউন্টে সালামি পাঠানো হয়েছে।” নতুন নোটের সেই সুবাস হয়তো এই ডিজিটাল সালামিতে নেই, কিন্তু এর পেছনের ভালোবাসা আর আবেগটা ঠিক আগের মতোই খাঁটি রয়ে গেছে।

সালামি কেবল টাকা নয়, একটি আবেগ
আসলে সালামি তো শুধু কিছু টাকার লেনদেন নয়; এটি হলো বড়দের স্নেহ, আদর আর দোয়ার এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি সুন্দর ঐতিহ্য, যা আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলোকে আরও দৃঢ় করে। একটি কড়কড়ে নতুন নোট যেমন একটি শিশুর ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বড়দের মনেও ছড়িয়ে দেয় শৈশবের হারানো স্মৃতিগুলোর মিষ্টি সুবাস।

আজকের এই ব্যস্ত জীবনে হয়তো আগের মতো সেই উচ্ছ্বাস নেই, হয়তো দায়িত্বের চাপে ঈদের আনন্দ কিছুটা মলিন হয়ে আসে। তবু ঈদের দিন সকালে যখন ছোট কোনো বাচ্চা এসে সালাম করে হাত পাতে, তখন পৃথিবীর সব ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়।

আসুন, এবারের ঈদে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবার মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিই। শুধু নিজের পরিবারের শিশুদের নয়, আমাদের আশপাশে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখেও যেন একটু হাসি ফোটাতে পারি, সেই চেষ্টা করি। কারণ, আনন্দ ভাগ করে নিলে কখনোই কমে না, বরং তা বহুগুণে বেড়ে যায়।

সবাইকে পবিত্র ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনাদের ঈদ কাটুক আনন্দে, প্রিয়জনদের সাথে, আর অবশ্যই অনেক অনেক সালামি দিয়ে ও নিয়ে!

ঈদ মোবারক! ❤️🌙✨


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  

High-Yield Curation by @steem-seven

Your content has been supported!


Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn up to 0.45 STEEM / 1000 SP.

Click here to see our Tiered Reward System

Vote Proposal 100Vote Witness @seven.witMeet Speak on Steem

We are the hope!

S7VEN Banner

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.060
BTC 69293.13
ETH 2103.26
USDT 1.00
SBD 0.51