স্মৃতির চাদরে মোড়ানো স্বার্থপরতা: "যে হাতে বুকে ছুরি মেরেছিলে, আজ সেই হাতেই আবার নতুন আবদার?"
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা এই কয়েকটা সাধারণ শব্দ। অন্য কারো জন্য হয়তো এটা নিছকই একটা কুশল বিনিময়। কিন্তু আমার জন্য? আমার জন্য এটা যেন একটা পুরোনো, শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতের ওপর আবার নতুন করে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া। মেসেজটার দিকে তাকিয়ে আমি শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম—মানুষ কতটা নির্লজ্জ হলে, কতটা স্বার্থান্ধ হলে অতীতের সমস্ত জঘন্য আঘাত আর বেইমানির কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে, ঠিক এইরকম একটা স্বাভাবিক মেসেজ দিতে পারে?
আজ আমি আমার সেই জমে থাকা ক্ষোভ, বিস্ময় আর ঘৃণার কথাগুলো লিখতে বসেছি। কারণ, আমি জানি আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা এই চরম সুবিধাবাদী মানুষগুলোর এমন 'ক্যামিও' বা ফিরে আসার শিকার হয়েছেন।
বিস্মৃতির এক অদ্ভুত অভিনয়
তুমি যখন ফিরে এলে, তোমার কথা বলার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমাদের মাঝে কিছুই হয়নি। যেন আমরা গতকালই একসাথে কফি খেয়েছি, আর আজ তুমি আবার আড্ডা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছ। তোমার এই নির্লজ্জতা আমাকে হতবাক করেছে।
তুমি কি সত্যিই ভুলে গেছ সেই দিনগুলোর কথা? যেদিন তোমার একটুখানি অবহেলা আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল? যেদিন তোমার প্রতারণা আর আঘাতের পর আমি তোমার পা ধরে কেঁদেছিলাম, শুধু একটু উত্তরের জন্য, একটু ব্যাখ্যার জন্য? সেদিন তুমি আমার চোখের জলের কোনো দাম দাওনি। আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলে এমনভাবে, যেন আমি তোমার পায়ের তলার ধুলো। আর আজ? আজ তুমি এমনভাবে হাসিমুখে এসে দাঁড়িয়েছ, যেন তুমি কোনোদিন আমার কোনো ক্ষতিই করোনি! এই যে সব কিছু ভুলে যাওয়ার নিখুঁত অভিনয়—এটা কি তোমার জন্মগত প্রতিভা, নাকি স্বার্থের টানে শেখা নতুন কোনো কৌশল?
স্বার্থ: মানুষের সবচেয়ে নগ্ন এবং কুৎসিত রূপ
আমি খুব ভালো করেই জানি, তোমার এই ফিরে আসার পেছনে কোনো অনুশোচনা নেই। কোনো ভালোবাসা বা ফেলে আসা স্মৃতির প্রতি কোনো টান নেই। তুমি ফিরেছ শুধু এবং শুধুমাত্র তোমার নিজের প্রয়োজনে। তোমার কোনো স্বার্থ আটকেছে, তোমার নতুন কোনো ফায়দা লুটতে হবে, অথবা তোমার বর্তমান পৃথিবীতে তুমি এমন কোনো ধাক্কা খেয়েছ যেখানে তোমার আবার আমাকে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
স্বার্থান্ধ মানুষের একটা অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব থাকে। তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে না, তারা মানুষকে ব্যবহার্য বস্তু বা সিঁড়ি হিসেবে দেখে। যখন প্রয়োজন ছিল, তখন তুমি আমাকে ব্যবহার করেছ। যখন তোমার মনে হলো আমাকে আর দরকার নেই, তখন বিনা দ্বিধায় আমাকে ধ্বংস করে দিয়ে চলে গেছ। আর আজ, যখন তোমার আবার কোনো কাজে আমাকে দরকার, তুমি পুরোনো সব অপরাধ মুছে ফেলে একটা "ভালো মানুষের" মুখোশ পরে এসে হাজির হয়েছ। তোমার কি একবারও মনে হলো না যে, যে মানুষটার আত্মবিশ্বাস তুমি গুঁড়িয়ে দিয়েছিলে, তার সামনে এসে দাঁড়ানোর অধিকারটুকুও তুমি অনেক আগেই হারিয়েছ?
মুখোশের পেছনের সত্যটা আমি এখন জানি
তুমি হয়তো ভেবেছ, আগের মতোই কয়েকটা মিষ্টি কথা বললে, পুরোনো কিছু ভালো স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিলে আমি আবার গলে যাব। তুমি ভেবেছ, আমি সেই আগের মতোই বোকা আর দুর্বল আছি, যে তোমার যেকোনো ডাকে সাড়া দেবে।
কিন্তু তুমি একটা জিনিস বুঝতে পারোনি। তুমি যে মানুষটাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়ে গিয়েছিলে, সেই মানুষটা আর বেঁচে নেই। রাতের পর রাত জেগে নিজের চোখের জল মুছে, নিজের ক্ষতগুলো নিজে সারিয়ে আমি এক নতুন মানুষ হয়ে উঠেছি। আমার এই নতুন সত্তায় তোমার মতো সুবিধাবাদী মানুষের কোনো জায়গা নেই।
যখন তুমি ফিরে এসে তোমার সেই সাজানো গল্পগুলো শোনাচ্ছ, তোমার নতুন কোনো কষ্টের কথা বলে আমার সিমপ্যাথি পাওয়ার চেষ্টা করছ, তখন আমার শুধু হাসি পাচ্ছে। আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তোমার ভেতরের সেই লোভী, স্বার্থপর সত্তাটাকে, যে শুধু নিতে জানে, দিতে নয়। তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসোনি, তুমি এসেছ নতুন করে আমাকে ব্যবহার করার লাইসেন্স নিতে।
নির্লজ্জতারও কি কোনো সীমা থাকে না?
মাঝে মাঝে আমি সত্যিই অবাক হই, একজন মানুষের বিবেক কতটা মরে গেলে সে এমন কাজ করতে পারে? যে হাতে তুমি আমার পিঠে ছুরি মেরেছিলে, আজ সেই হাতেই তুমি আমার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছ? যে মুখে তুমি আমাকে জঘন্যতম অপমান করেছিলে, আজ সেই মুখেই তুমি আমাকে "বন্ধু" বলে ডাকছ?
তোমার এই ফিরে আসাটা আমাকে একটা বড় শিক্ষা দিয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি, কিছু মানুষ কখনোই বদলায় না। তাদের ডিএনএ-তেই স্বার্থপরতা মিশে থাকে। তারা তাদের প্রয়োজনে যেকোনো সময় রঙ বদলাতে পারে। তারা ভাবে, পৃথিবীটা তাদের চারপাশে ঘোরে এবং তারা চাইলেই যেকোনো মানুষের জীবনে যখন খুশি ঢুকতে আর বের হতে পারে। কিন্তু না, বাস্তব পৃথিবীটা এমন নয়।
আমার প্রত্যাখ্যান: আমার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
একসময় তোমার একটা মেসেজের জন্য আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতাম। আর আজ, তোমার মেসেজ দেখে আমার মনে বিন্দুমাত্র কোনো আবেগ তৈরি হয়নি। রাগও না, দুঃখও না—শুধুমাত্র এক ধরনের শূন্যতা এবং বিরক্তি।
আমি তোমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, তুমি ভুল দরজায় কড়া নেড়েছ। তুমি হয়তো তোমার স্বার্থ হাসিলের জন্য অতীতের সব কিছু ভুলে যাওয়ার ভান করতে পারো, কিন্তু আমি ভুলিনি। আমি আমার যন্ত্রণার একটা রাতও ভুলিনি। আমি আমার সেই আর্তনাদগুলো ভুলিনি, যেগুলো তুমি শুনেও না শোনার ভান করেছিলে।
আমার এই না ভুলে থাকাটা কোনো আক্রোশ নয়, এটা আমার আত্মরক্ষা। তোমার মতো বিষাক্ত মানুষের হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ঢাল। তুমি ফিরে এসে প্রমাণ করে দিয়েছ তুমি কতটা ছোট মনের মানুষ, আর তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে আমি প্রমাণ করেছি আমি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছি।
শেষ কথা: দরজা চিরতরে বন্ধ
যারা স্বার্থের টানে এমন নির্লজ্জের মতো ফিরে আসে, তাদের জন্য আমার শুধু একটাই কথা বলার আছে—তোমাদের এই সস্তা অভিনয় আর কাজ করবে না। তুমি তোমার প্রয়োজন আর স্বার্থ নিয়ে অন্য কোথাও যাও। আমার জীবনের যে অধ্যায়ে তোমার নাম ছিল, সেই অধ্যায়টা আমি অনেক আগেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছি। সেই ছাই থেকে নতুন করে কোনো সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ আর নেই।
তুমি ভেবেছিলে তোমার সুবিধামতো তুমি আবার আমার জীবনে ঢুকে পড়বে। কিন্তু আজ আমি আমার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছি। তোমার জন্য আমার একটাই উত্তর—আমার জীবনে তোমার আর কোনো প্রয়োজন নেই, আর তোমার কোনো প্রয়োজনেও আমি আর কখনো পাশে থাকব না। বিদায়, এবার চিরকালের মতো।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR


High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn up to 0.45 STEEM / 1000 SP.
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!