“মুখে বাঘ, কাজে শূন্য — চিৎকারে না, যোগ্যতা প্রমাণ হয় ফলাফলে!”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজকের সমাজে এমন অনেক মানুষ দেখা যায়, যারা কথার মাধ্যমে নিজেদের অনেক বড় কিছু হিসেবে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে। তারা বড় বড় স্বপ্নের কথা বলে, নিজের যোগ্যতার গল্প শোনায়, অন্যদের ছোট করে নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—মুখে বড় বড় কথা বললেই কেউ যোগ্য হয়ে যায় না। আসল যোগ্যতা প্রমাণ হয় কাজের মাধ্যমে। কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার কথা কত সুন্দর ছিল সেটা মনে রাখে না, বরং কে কী করেছে সেটাই মনে রাখে।আমাদের আশেপাশে এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা সবসময় নিজেদের সফল, অভিজ্ঞ কিংবা অসাধারণ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তারা বলে, “আমি চাইলে এটা করতে পারতাম”, “আমার মতো কেউ নেই”, “আমাকে সুযোগ দিলে দেখিয়ে দিতাম।” কিন্তু যখন সত্যিকারের দায়িত্ব আসে, তখন তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ কথার জগৎ আর বাস্তবতার জগৎ এক নয়। বাস্তবতা খুব নির্মমভাবে মানুষকে যাচাই করে। সেখানে অজুহাত চলে না, শুধু ফলাফলই কথা বলে।একজন ছাত্র যদি প্রতিদিন বলে সে অনেক মেধাবী, কিন্তু পরীক্ষার খাতায় কিছুই লিখতে না পারে, তাহলে তার সেই কথার কোনো মূল্য থাকে না। একজন খেলোয়াড় যদি সবসময় নিজের দক্ষতার গল্প বলে, কিন্তু মাঠে নেমে ভালো খেলতে না পারে, তাহলে দর্শক তাকে মনে রাখবে না। একজন নেতা যদি শুধু ভাষণ দিয়েই যায় কিন্তু মানুষের জন্য কোনো কাজ না করে, তাহলে একসময় মানুষ তার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। কারণ পৃথিবী কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেয়।অনেক সময় আমরা দেখি, যারা সত্যিকারের যোগ্য তারা খুব বেশি কথা বলে না। তারা চুপচাপ নিজের কাজ করে যায়। কারণ তারা জানে, নিজের প্রমাণ দেওয়ার জন্য আলাদা করে চিৎকার করতে হয় না। একটি ফলভর্তি গাছ যেমন নত হয়ে থাকে, তেমনি সত্যিকারের জ্ঞানী ও যোগ্য মানুষও সাধারণত বিনয়ী হয়। তারা কাজ দিয়ে এমনভাবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করে যে মানুষ নিজে থেকেই তাদের সম্মান করতে শুরু করে।বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণেও “বড় বড় কথা বলার সংস্কৃতি” অনেক বেড়ে গেছে। এখন অনেকে বাস্তবের চেয়ে অনলাইনে নিজেকে বেশি সফল দেখাতে ব্যস্ত। কেউ দামি কথা লিখে, কেউ অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট দিয়ে, আবার কেউ নিজের জীবনকে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরে মানুষের প্রশংসা পেতে চায়। কিন্তু বাস্তব জীবন ফেসবুকের স্ট্যাটাস দিয়ে চলে না। বাস্তব জীবনে মানুষকে তার দায়িত্ব, ব্যবহার, পরিশ্রম আর কাজ দিয়েই বিচার করা হয়। অনলাইনে শত অনুপ্রেরণামূলক কথা বললেও, বাস্তবে যদি দায়িত্বহীন হওয়া যায় তাহলে সেই কথার কোনো দাম থাকে না।আসলে বড় কথা বলা খুব সহজ। যে কেউ চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজেকে অসাধারণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। কিন্তু কাজ করে দেখানো অনেক কঠিন। কারণ কাজের জন্য লাগে ধৈর্য, পরিশ্রম, দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতা। শুধু স্বপ্ন দেখলেই সফল হওয়া যায় না, সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য প্রতিদিন লড়াই করতে হয়। আর এই লড়াইটাই আসল যোগ্যতার পরিচয় দেয়।একজন মানুষ কতটা যোগ্য, সেটা তার পোশাক, স্ট্যাটাস কিংবা কথাবার্তা দেখে বোঝা যায় না। বোঝা যায় তার আচরণে, দায়িত্ব পালনে এবং কাজের ফলাফলে। একজন শিক্ষক তার ভাষণের জন্য নয়, বরং কত শিক্ষার্থীকে মানুষ করতে পেরেছেন তার মাধ্যমে সম্মান পান। একজন ডাক্তার তার ডিগ্রির গল্প বলে নয়, রোগীর সেবা দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন। একজন বাবা-মাও শুধুমাত্র উপদেশ দিয়ে নয়, নিজের কাজ ও ত্যাগের মাধ্যমে সন্তানের কাছে মহান হয়ে ওঠেন।
অনেক মানুষ আবার অন্যকে ছোট দেখানোর জন্য বড় বড় কথা বলে। তারা ভাবে, বেশি আত্মপ্রচার করলেই মানুষ তাদের শ্রেষ্ঠ মনে করবে। কিন্তু বাস্তবে মানুষ খুব দ্রুত বুঝে যায় কে সত্যিকারের যোগ্য আর কে শুধু কথার জাদু দেখাচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য হয়তো মিথ্যা অভিনয় দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু কাজই একজন মানুষকে টিকিয়ে রাখে।ইতিহাসের দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাই, পৃথিবীর সবচেয়ে সফল মানুষরা কাজ দিয়েই নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছেন। তারা হাজার কথা বলে নিজেদের বড় প্রমাণ করেননি। বরং নিজেদের পরিশ্রম, সততা এবং অবদানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মানুষ আজও তাদের মনে রেখেছে তাদের কাজের জন্য, কথার জন্য নয়।তাই জীবনে সত্যিকারের সম্মান পেতে চাইলে মুখের বুলি কমিয়ে কাজের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কারণ কথা সাময়িকভাবে মানুষকে মুগ্ধ করতে পারে, কিন্তু কাজ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। আর বিশ্বাস এমন একটি জিনিস, যা একদিনে তৈরি হয় না; ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই সেটা গড়ে ওঠে।
সবশেষে একটা কথাই সত্য—মুখে বড় বড় কথা বললেই যোগ্যতা প্রমাণ হয় না। যোগ্যতা তখনই প্রমাণ হয়, যখন একজন মানুষ কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের কাজ দিয়ে ফলাফল দেখাতে পারে। পৃথিবী কখনো কথার জন্য কাউকে দীর্ঘদিন মনে রাখে না, কিন্তু ভালো কাজের জন্য মানুষ যুগের পর যুগ স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই নিজের পরিচয় মুখে নয়, কাজে তৈরি করাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR



This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community