প্রাচীন বাড়ির দরজা-জানালা
Image Created by OpenAI
মানুষের বসবাসের ইতিহাস যত পুরোনো, ততই পুরোনো তার ঘরবাড়ির নকশা। আর সেই নকশার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিল্প, সংস্কৃতি ও সময়ের ছাপ বহন করে প্রাচীন বাড়ির দরজা ও জানালা গুলোতে। এগুলো মূলত একটি যুগের জীবনযাপন, রুচি ও কারুশিল্পের প্রতীক বহন করে থাকে। প্রাচীন বাড়ির দরজাগুলো সাধারণত তৈরি হতো বিভিন্ন শক্ত কাঠ দিয়ে, যেমন- সেগুন, শাল বা মেহগনি। এসব কাঠ টেকসই হওয়ার পাশাপাশি খোদাইয়ের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। দরজা বা জানলার উপরে বিভিন্ন ধরণের নকশার ডিজাইন তৈরী করা হতো। যেমন- দরজার উপর ফুল-লতা, জ্যামিতিক নকশা, পৌরাণিক দৃশ্য বা ধর্মীয় প্রতীক ইত্যাদি খোদাই করা থাকত। এতে করে সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পেতো।
আবার অনেক বাড়িতে দেখা যেতো যে, বাড়ির দরজার মাঝখানে পিতলের বড় হাতল বা কড়া থাকত, যা শুধু ব্যবহারিক নয়, বরং এতে করে সৌন্দর্যও বাড়াত। এছাড়া ভারী দরজার সঙ্গে লোহার কবজা ও অলংকৃত তালা পুরো ঘরের বা দরজার কাঠামোটিকে আরো রাজকীয় করে তুলত। প্রাচীন বাড়ির জানালাগুলো আধুনিক বাড়ির জানালার মতো সাদামাটা ছিল না। কাঠের ফ্রেমে জালি বসানো থাকত, যাতে হাওয়া ঢুকতে পারে কিন্তু আবার এতে রোদ বা বৃষ্টি কম প্রবেশ করতো। জালি দেওয়ায় জানালার একটি বড় সুবিধা ছিল অর্থাৎ এই পদ্ধতির ফলে বাইরে দেখা যায়, কিন্তু বাইরে থেকে ভেতরটা স্পষ্ট দেখা যায় না। এটি বিশেষ করে গোপনীয়তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রাচীন বাড়ির দরজা-জানালা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান অংশ।
