ভালো থাকার অভিনয়টা সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
ভালো থাকার অভিনয়টা সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। কারণ এটা আসলে অভিনয় হলেও, প্রতিদিনের একটা বাধ্যতামূলক অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। অনেক সময় দেখি কেউ জিজ্ঞেস করল, তুমি কেমন আছো? তখন নিজের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে থাকলেও আমরা বলি, ভালো আছি। বলি কারণ বলা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। নিজের কষ্টের গল্প খুলে বললেই কি কেউ বুঝবে? কেউ পাশে থাকবে? বরং বেশিরভাগ সময় মানুষ হাসবে, তামাশা করবে, আবার কেউ কেউ নিজেদের সুবিধার জন্য সেই দুর্বলতা কাজে লাগাবে।
তাই এখন ভালো থাকার অভিনয়টাই যেন সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে সত্যিকারের অনুভূতির জায়গা নেই। যেখানে কেউ তোমার চোখের নিচের কালি দেখেও বুঝতে চায় না তুমি রাতে ঘুমাও না, কিংবা কেউ তোমার হাসির আড়ালে জমে থাকা ক্লান্তি পড়ে না। সবাই শুধু দেখতে চায় তুমি হাসছো কিনা, সাজগোজ করেছো কিনা, স্ট্যাটাসে পজিটিভ কথাবার্তা লিখছো কিনা। ভিতরের যুদ্ধ কেমন চলছে, সেটা কাউকে জানালেই যেন তুমি দুর্বল হয়ে যাও।
আমি নিজের কথাই বলি, আমি অনেক সময় এমনভাবে হাসি যেটা দেখে অন্যরা ভাবে আমি বুঝি অনেক সুখে আছি। কিন্তু সেটা যদি জানত তারা, কত রাত আমি নির্ঘুম কাটাই, কত কথা গলায় আটকে থাকে, কত না বলা অনুভব বুক চেপে বসে থাকে। ভালো থাকার অভিনয়টা তাই একটা ঘোর ক্লান্তি হয়ে যায় নিজের ভেতর। কারণ প্রতিদিন নিজেকে বোঝাতে হয় তুই ঠিক আছিস। আবার বাইরের মানুষকেও দেখাতে হয় আমি ঠিক আছি। অথচ কোথাও কোনো দিক থেকেই সত্যি ঠিক থাকা হয় না।
এই অভিনয়টা করতে করতে মানুষ একসময় আসলেই ভুলে যায় সে কেমন ছিল, কীভাবে হাসত, কাকে নির্ভয়ে সব কিছু বলতে পারত। এখন শুধু মুখোশের মানুষ, মুখোশের হাসি, মুখোশের ভালো থাকা। মাঝে মাঝে নিজের সাথেই কথা বলতে গিয়ে থেমে যেতে হয় কারণ নিজের সাথেও যেন দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। ভালো থাকার এই অভিনয়টা শুধু বাইরে না, নিজের মনেও চালিয়ে যেতে হয়। আর এই জিনিসটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি কষ্টের, সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর।

