ভুলটা কোথায়!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একটা বিষয় কি কিছু কিছু মানুষকে সবসময় একদম কর্নার করে কথা বলেই বুঝাতে হয় যে ওরা কত বড় ভুল করছে বা করেছে।কারণ এরা নিজেদের এমনভাবে সবজান্তা মনে করে যে অন্য কেউ কিছু বললেই সেটা মেনে নিতে চায় না।নিজের সিদ্ধান্ত,নিজের কথা আর নিজের কাজকেই সবসময় সঠিক মনে করে।আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, ভুলটা একদম চোখের সামনে থাকলেও সেটা স্বীকার করতে চায় না।আর আমার কাছে এই ব্যাপারটা সত্যিই অনেক বিরক্তিকর লাগে।কারণ ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক ব্যাপার।আমরা কেউই সবকিছু জানি না সব সিদ্ধান্তও সঠিক হয় না।কোনো একটা বিষয়ে ভুল হলে সেটা স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যে ছোট হওয়ার কিছু নেই।নিজের ভুল বুঝতে পারা একজন মানুষের বড় গুণ।কিন্তু কিছু মানুষকে সেটা বোঝানোই কঠিন হয়ে যায়।এদের সাথে সাধারণভাবে কথা বললে অনেক সময় কোনো কাজ হয় না।কারণ এরা প্রথমেই নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে শুরু করে।আপনি কী বলছেন সেটা শোনার আগেই তারা কেনো ঠিক সেটা বোঝাতে থাকবে।নিজের ভুলের কথাটা উঠলেই আবার অন্য কোনো বিষয় সামনে নিয়ে আসবে।এভাবে মূল বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।
তো তখন অনেক সময় এমনভাবে কথা বলতে হয় যাতে তারা নিজের কথার মধ্যেই বুঝতে পারে যে আসলে কোথায় সমস্যা হয়েছে।একদম কর্নারে নিয়ে আসা বলতে আমি অপমান করা বা চিৎকার করার কথা বলছি না।মানে এমনভাবে প্রশ্ন করা বা বিষয়টা সামনে তুলে ধরা দরকার যাতে তার নিজের যুক্তির সাথেই তার ভুলটা পরিষ্কার হয়ে যায়।কারণ শুধু বলে দিলেই যে ভুল করতেছো তো সব মানুষ সেটা মেনে নেবে না।কেউ কেউ উল্টো আরও বেশি রেগে যাবে।কিন্তু যদি তার করা কাজের ফলাফল,তার নিজের বলা কথা আর পরিস্থিতিটা একসাথে সামনে রাখা যায়।তখন হয়তো সে নিজেই বুঝতে পারবে যে কোথায় ভুল হয়েছে।আর সবজান্তা হওয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এতে মানুষ শেখার সুযোগ হারিয়ে ফেলে।যে মানুষ মনে করে সে সব জানে সে নতুন কিছু শিখতেও চায় না।অন্য কেউ ভালো কোনো পরামর্শ দিলেও সেটা গুরুত্ব দিয়ে শোনে না।যার কারণে একই ধরনের ভুল বারবার করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
আর নিজের ভুল স্বীকার না করার কারণে শুধু নিজেরই সমস্যা হয় না,আশেপাশের মানুষও বিরক্ত হয়।কারণ একই বিষয় নিয়ে বারবার বোঝাতে হয়।কেউ ভালো চেয়ে কিছু বললেও সেটা গ্রহণ না করলে একসময় মানুষও কথা বলা বন্ধ করে দেয়।তখন হয়তো সেই মানুষটা ভাবতে থাকে সবাই তাকে বুঝতে পারে না।অথচ সমস্যাটা অনেক সময় তার নিজের আচরণেই থাকে।কিন্তু কাউকে তার ভুল বোঝানোর সময়ও আমাদের একটা সীমা রাখা দরকার।উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষটাকে ছোট করা না।উলটা ভুলটা বুঝতে সাহায্য করা।কারণ আজ যে মানুষটা ভুল করছে,কাল আমরাও ভুল করতে পারি।তখন আমরাও চাইব কেউ যেনো আমাদের সম্মান রেখে ভুলটা বুঝিয়ে দেয়।আর নিজেকে সবজান্তা ভাবার চেয়ে নিজের অজানা বিষয়গুলো স্বীকার করা অনেক বেশি ভালো।আমরা যতোই জানি না কেনো সবকিছু জানা সম্ভব না।ভুল হলে সেটা স্বীকার করবো,প্রয়োজন হলে অন্যের কথা শুনবো।তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নেবো।এতে কেউ ছোট হয় না।নিজের ভুল মেনে নিতে পারাটাই মানুষকে আরও পরিণত করে আর কিছু মানুষকে যদি নিজের ভুল বোঝাতে হয়।তাহলে কথার মধ্যে সেই জায়গাটা তৈরি করাই ভালো যেখানে তারা নিজেরাই শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে যে ভুলটা আসলে কোথায় হয়েছিলো।

