ভালো থাকার মুখোশ
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
ভালো থাকার মুখোশ এটা এমন একটা জিনিস যেটা আমরা অনেকেই প্রতিদিন পরি কিন্তু বুঝি না কিংবা বুঝেও নিজেকে বোঝাই এটা করা জরুরি। আমি নিজেও এই ব্যাপারটার ভিতরে অনেকবার গেছি। অনেক সময় দেখি, মনটা একেবারে ভেঙে পড়েছে, ভেতরে তুফান চলছে, অথচ মুখে হাসি রেখে চলতে হচ্ছে। কারণ চারপাশের মানুষজন জানুক সেটা আমি চাই না। আবার অনেক সময় এমনও হয়, আমি নিজেই চাই না কেউ আমার কষ্ট বুঝুক। যেনো কষ্টটা নিজের মধ্যে রাখলেই ঠিক আছে, কাউকে জানালে সেটা আর আমার থাকে না।
আসলে ভালো থাকার মুখোশ পরা একধরনের বাধ্যবাধকতা হয়ে গেছে। আমরা ভাবি, যদি বলি আমি ভালো নেই, তাহলে লোকে কী ভাববে! কেউ হয়তো বলবে, তুমি এত নেগেটিভ কেনো? কেউ বলবে,সবাই তো সমস্যার মধ্যেই আছে, তুমি আলাদা কিছু না।" এই কথাগুলো শুনতে ভালো লাগে না, তাই নিজের কথা না বলাই ভালো মনে হয়।
এই মুখোশটা এমন একটা জিনিস যেটা ধীরে ধীরে এত আপন হয়ে যায় যে আমি নিজেই ভুলে যাই আমার আসল অনুভূতিটা কী ছিল। এমনও হয়েছে অনেক সময়, কারো সামনে হাসতে হাসতে ভিতরে কান্না চাপতে চাপতে একদম গলা পর্যন্ত উঠে এসেছে, কিন্তু তাও বলিনি কিছু। কারণ আমি জানি, কেউ শুনবে না, আর শুনলেও বুঝবে না।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপারটা হলো, এই মুখোশটা পরতে পরতে আমি নিজেই যেন আসল আমি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আগে হয়তো কিছু হলে খোলাখুলি বলতাম, কাঁদতাম, এখন আর সেসব হয় না। এখন মন খারাপ হলেও সেটা ঢেকে রাখার অভ্যাস হয়ে গেছে। যেন আমি নিজেই নিজের মনকে বলি, চুপ করো, কাউকে বলো না।
আমি জানি, হয়তো এভাবেই চলতে হবে। কারণ সবার জীবনেই কিছু না কিছু চাপ থাকে, কষ্ট থাকে। কেউ দেখায়, কেউ দেখায় না। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে কেউ এসে জিজ্ঞেস করুক, তুমি ঠিক আছো? না রূপ ধরে, না ভান ধরে, মন থেকে জানতে চাইলে হয়তো একটু ভরসা পেতাম।

