সময় সব ক্ষত সারিয়ে তোলে কি না!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

সময় সব ক্ষত সারিয়ে তোলে এই কথাটা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, সময় সব ক্ষত পুরোপুরি সারায় না, বরং সেটা ক্ষতের ব্যথাকে কিছুটা সহনীয় করে তোলে। শারীরিক ক্ষতের ক্ষেত্রে হয়তো সময়ের সাথে সাথে দাগ মিলিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মানসিক বা হৃদয়ের ক্ষতের দাগ অনেক সময় সারা জীবন থেকেই যায়।যখন জীবনে বড় কোনো আঘাত আসে প্রিয়জন হারানো, বিশ্বাস ভেঙে যাওয়া, বা সম্পর্ক ভেঙে পড়া তখন প্রথম দিকে ব্যথাটা খুব তীব্র হয়। প্রতিটা মুহূর্তে সেটা মনে করিয়ে দেয় যে কিছু হারিয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে সেই ব্যথার তীব্রতা কমে যায়, কারণ মানুষ ধীরে ধীরে নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়। আমরা নতুন কাজে, নতুন মানুষের সাথে মিশে বা ব্যস্ততার ভেতরে পুরনো কষ্টের কথা কম ভাবতে শুরু করি।

তবে এর মানে এই নয় যে কষ্টটা একেবারে চলে যায়। অনেক সময় একটা গান, একটা জায়গা, বা কোনো স্মৃতি হঠাৎ সেই পুরনো ক্ষতকে আবারও স্পর্শ করে। তখন মনে হয়, আসলে ক্ষতটা এখনো আছে, শুধু আমরা তাকে ভুলে থাকার অভ্যাস করে ফেলেছি।কিছু ক্ষত হয়তো সময়ের সাথে সত্যিই মুছে যায়, বিশেষ করে যদি সেটা ছোট বা সাময়িক কিছু হয়। কিন্তু গভীর মানসিক আঘাতের ক্ষেত্রে সময় শুধু আমাদের শক্ত করে তোলে, ক্ষতটা যেন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। আমরা হয়তো আগের মতো কাঁদি না, কিন্তু মনের ভেতরে সেই শূন্যতা থেকে যায়।

তাই বলা যায়, সময়ের কাজ হলো আমাদের কষ্টের সাথে মানিয়ে নিতে শেখানো,একেবারে সারিয়ে তোলা নয়। আর ক্ষত কতটা সারবে,সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আমরা কতটা প্রস্তুত সেটা মেনে নিতে এবং নতুনভাবে বাঁচতে।

ABB.gif