নারীর ক্ষমতায়ন ও বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আজ অনেক কথা হচ্ছে, অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনও অনেক জায়গায় একই রকম রয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে, কিংবা নিম্নবিত্ত শ্রেণীর নারীদের জীবন অনেকটাই সংগ্রামী। তবে আমরা যদি পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে বোঝা যায়, পরিবর্তনের একটা ধারা তৈরি হয়েছে। এখন নারী শুধু ঘরের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, সে স্কুলে যাচ্ছে, চাকরি করছে, ব্যবসা করছে, রাজনীতি করছে, এমনকি সংসদেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়নের মূল বিষয়টা হলো, তাকে স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেওয়া। আগে একটা মেয়ে কী পড়বে, কাকে বিয়ে করবে, কোথায় যাবে সব কিছু অন্যরা ঠিক করত। কিন্তু এখন অনেক মেয়েই নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, নিজের মতো করে জীবন সাজাচ্ছে।

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, যা একটা বড় অগ্রগতি। এখন অনেক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা অর্জন করছে। আগে যেখানে শুধু পুরুষরাই অফিস করত, এখন সেখানে নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করছে। গার্মেন্টস শিল্পে যেমন নারী শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তেমনি চিকিৎসা, আইন, সাংবাদিকতা, এমনকি প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রেও নারীরা এগিয়ে এসেছে।

তবে এখনও অনেক বাধা আছে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ।এসব নারীর পথকে কঠিন করে তোলে। অনেক মেয়েই নিজের স্বপ্ন নিয়ে এগুতে পারে না, কারণ সমাজ এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। অনেকে এখনও ভাবে, মেয়ে মানুষ মানেই সে কম পারে।

এই মানসিকতা বদলাতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য শুধু নারীকেই নয়, পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ।সব জায়গায় সমান সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজে নারী বান্ধব পরিবেশ তৈরি ইত্যাদি। কিন্তু এগুলা যেন কাগজে কলমে না থেকে বাস্তবে কার্যকর হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু অর্থনৈতিক দিক না, মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাও এর অংশ। একটা দেশ তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী মানে নারীরা ।তাদের পুরো সম্ভাবনা নিয়ে সামনে আসতে পারে।

তাই এখন সময় নারীদের শুধু সহানুভূতির চোখে না দেখে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর। মেয়ে বলে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে বরং যেনো সামনে এগিয়ে যায়।সেই চেষ্টাই হওয়া উচিত আমাদের সবার।

ABB.gif