যন্ত্রমানব সমাজে হৃদয়ের অস্তিত্ব

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

আমরা যত দিন যাচ্ছে, তত যেন এক একজন যন্ত্রমানব হয়ে উঠছি। অর্থাৎ যন্ত্র আর মানব, এই দুটো বিষয় একেবারেই সাংঘর্ষিক। এবং বিশেষ করে যেটা আমি বলতে চাই, তা হলো আসলে মানুষ যন্ত্র সৃষ্টি করেছে নিজের কাজের জন্য, অর্থাৎ নিজের সুবিধার জন্য। বিশেষ করে বলা চলে যে মানবজীবনের বিভিন্ন কষ্টসাধ্য কাজ একটু সহজ করার জন্যই মূলত যন্ত্রের আবিষ্কার। যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীরা এটাই চেষ্টা করে আসছেন, যেন যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের সময় বাঁচিয়ে, সেই সময়কে অন্য কোনো কাজে লাগানো যায়। কারণ মানুষ যত বেশি সময় বাঁচাতে পারবে, সে তত বেশি ভালো কাজ করতে পারবে।

অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের এই যন্ত্র বানানোর যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটা কিন্তু খুব ভালো বলা চলে। অর্থাৎ এটা খুব স্বাভাবিক যে মানুষ আসলে যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক কাজ সহজ করতে পেরেছে। জীবনের এখন অনেক কাজ সহজভাবে হয়ে যায়। কিন্তু আমরা আসলে এটা ভুল কাজে লাগাচ্ছি। অর্থাৎ আমরা এখন নিজেরাই যেন যন্ত্র হয়ে উঠছি। অর্থাৎ যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের মধ্যে নিয়ে আসছি। একটি যন্ত্র যেমন কোনো হৃদয় নেই, আমরা মানুষসহ তেমন তেমন করেই যেন হৃদয়হীন হয়ে পড়ছি।

আসলে মানুষ আর যন্ত্রের মধ্যে এটাই অনেক বড় তফাৎ মানুষের একটি হৃদয় আছে, যেটা অনেক কিছু ভাবায়। অনেক অভিমান থাকে, অনেক ভালোবাসা থাকে, যেটা যন্ত্রের মধ্যে নেই। কিন্তু আমরা যেন দিন দিন একজন যন্ত্রমানব হয়ে উঠছি। আমাদের সমাজে আমাদের হৃদয়ের অস্তিত্ব যেন এখন কোথাও নেই। কোথাও যেন আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, দুঃখ, ঘৃণা কোনো কিছুরই জায়গা নেই। শুধু যন্ত্রের মতো আমরা কাজ করে যাচ্ছি। হয়তো অনেক ভালো ইনকাম করছি, হয়তো অনেক সচ্ছল জীবনযাপন করছি৷ কিন্তু সবকিছুর মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের হৃদয়।

আমি ঠিক এই বিষয়টাকেই আসলে একটু উল্লেখ করতে চাইলাম। কারণ আমার কাছে মনে হয়, মানুষ আর যন্ত্রের মধ্যে যদি কোনো তফাৎ না থাকে, মানুষের হৃদয় যদি যন্ত্রের মতো হয়ে যায়।তাহলে আসলে যন্ত্রই আমাদের চালাচ্ছে, আমরা আর যন্ত্রকে চালাতে পারছি না।

আসলে আমরা যখন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করি কিংবা কোনো যন্ত্র উদ্ভাবন করি, তখন আমাদের এতটুকু মাথায় রাখা উচিত যে, যন্ত্র আমরা তৈরি করছি। সে ক্ষেত্রে যন্ত্র আমাদের কথা শুনতে বাধ্য। অর্থাৎ, আমরা যন্ত্র হয়ে গেলে, কিংবা যন্ত্রের মাধ্যমে যদি আমরা চলা শুরু করি, তাহলে সেটা আমাদের জীবনের জন্য কখনোই সুখকর কিছু বয়ে আনবে না।

ABB.gif

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟