ভেতরের কথা সবসময় প্রকাশ করতে নেই!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

মানুষের জীবনে কথা বলার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোথায় কথা বলতে হবে আর কোথায় নীরব থাকতে হবে, সেটি বোঝাও সমান জরুরি। আমরা প্রত্যেকেই মনের ভেতরে অসংখ্য ভাবনা, অনুভূতি আর গোপন ইচ্ছা লালন করি। কিন্তু সব কথা সবার সামনে বলা যায় না, বলা উচিতও নয়। অনেক সময় ভেতরের কথা প্রকাশ করলে তা অন্যদের কাছে ভুলভাবে পৌঁছে যায়, আবার অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সৃষ্টি করে।

প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকে, যেগুলো শুধুমাত্র নিজের মধ্যেই রাখাই ভালো। ধরুন, রাগের মুহূর্তে মনের সবকিছু প্রকাশ করে দিলে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার কারও প্রতি গভীর ভালোবাসা বা আস্থা থাকলেও ভুল সময়ে তা প্রকাশ করলে সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই আবেগের বশে ভেতরের কথা বলে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।এছাড়া সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের দুর্বলতা কাজে লাগায়। যদি আমরা আমাদের ভেতরের সব দুঃখ বা কষ্ট সবার কাছে প্রকাশ করি, তবে তারা তা ব্যবহার করে আমাদের বিপদে ফেলতে পারে। এজন্য বেছে বেছে মানুষকে বিশ্বাস করা এবং কাকে কী বলা উচিত, তা ভেবে নেওয়া প্রয়োজন। নীরবতা অনেক সময় আত্মরক্ষার এক শক্তিশালী উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এর মানে এই নয় যে, একেবারেই কিছু বলা যাবে না। মানুষের মনের কষ্ট, আনন্দ বা উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা বিশ্বস্ত মানুষের উপস্থিতি দরকার। কিন্তু সীমা জেনে সঠিক মানুষকে মনের কথা বলাই হলো প্রজ্ঞার পরিচয়। সবকিছু প্রকাশ করলে মানুষ তার মর্যাদা হারায়, অথচ কিছুটা ভেতরে রাখলে তা তাকে পরিণত, ধৈর্যশীল ও গভীর চিন্তাশীল করে তোলে।ভেতরের কথা সবসময় প্রকাশ করতে নেই। কোথায় কথা বলতে হবে আর কোথায় চুপ থাকতে হবে, সেটিই মানুষকে জ্ঞানী করে তোলে। নীরবতার ভেতরেও অনেক শক্তি লুকিয়ে থাকে, আর সেই শক্তিই আমাদের জীবনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

ABB.gif