আবেগ যখন বোঝা হয়ে দাঁড়ায়
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আবেগ জিনিসটা খুব অদ্ভুত। কখনো মনে হয় এটা ছাড়া জীবনটাই অসম্পূর্ণ, আবার কখনো মনে হয়, যদি একটু কম আবেগী হতাম, তাহলে বোধহয় অনেক সহজ হতো সবকিছু। আমি নিজেও অনেক বেশি আবেগপ্রবণ একজন মানুষ, আর সেই কারণেই অনেক সময় মনে হয়, আবেগটা যেন একটা বোঝা হয়ে গেছে।
আসলে আবেগ থাকা খারাপ কিছু না বরং এটা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে আরও সংবেদনশীল করে তোলে, ভালোবাসতে শেখায়, কষ্ট পেতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়। কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন এই আবেগটা সবকিছুতে এতটাই হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে যে বাস্তবতাকে হারিয়ে ফেলি। তখন নিজেকে বুঝিয়ে বলি, সব ঠিক আছে।অথচ ভেতরে একরাশ কষ্ট চেপে বসে থাকে। কাউকে দেখলে ভালো লাগে, কিছু পেলে খুব খুশি হই, কিন্তু সেই খুশিও যেন বেশি সময় থাকে না, কারণ ভেতরের অতিরিক্ত আবেগ আমাদের স্বস্তি নিতে দেয় না।
আর সবচেয়ে খারাপ হয় তখন, যখন আমাদের আবেগকে অন্যরা বোঝে না। তখন মনে হয়, আমি কি সত্যিই বাড়াবাড়ি করে ফেলছি? নাকি আমি একাই বেশি অনুভব করছি? অথচ আমার দিক থেকে দেখলে আমি তো সত্যিই অনুভব করছি, সত্যিই কষ্ট পাচ্ছি, ভালোবাসছি কিংবা মর্মাহত হচ্ছি। কিন্তু সেই আবেগ যখন গুরুত্ব না পায়, তখন সেটা কেবল একটা বোঝা হয়ে যায় নিজের কাঁধে।
অনেক সময় আমি নিজেকেই প্রশ্ন করি এই যে এত অনুভব করি, এত কিছু নিয়ে ভাবি, এটা কি আমার দুর্বলতা? আবার উত্তরটা নিজের কাছেই দিই না, এটা আমার শক্তি। কিন্তু তখনই আবার বাস্তবতা এসে বলে, আবেগ দেখিয়ে কিছু হয় না, ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে শিখো।তখন আবার নিজের ওপর রাগ হয়, কেন আমি এত ভাবি, কেনো আমি সবকিছু এত গা-জড়ানোভাবে নেই?
এই দোটানার মধ্যে থাকতেই বুঝে গেছি, আবেগ একটা আশীর্বাদ, কিন্তু সেই আশীর্বাদই যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে সেটাই একটা বোঝায় পরিণত হয়। আর এই বোঝাটা কেউ দেখে না, বোঝেও না, শুধু নিজেকেই বয়ে নিয়ে চলতে হয়।

