যে চুপচাপ থাকে, তার ভেতরে সবচেয়ে বেশি শব্দ বাজে
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
যে মানুষটা চুপচাপ থাকে, তার ভেতরে সবচেয়ে বেশি শব্দ বাজে। বাইরের পৃথিবী তাকে দেখে শান্ত, নিরব, অল্প কথার মানুষ বলে ভাবে। কিন্তু কেউ বুঝে না, তার ভেতরে ঠিক কত ঝড় বয়ে যায় প্রতিদিন। সে হয়তো মুখে কিছু বলে না, কিন্তু প্রতিটি কথা গিলে ফেলে নিজের ভেতরে, শব্দগুলো চিৎকার করে কাঁদে, অভিমানে ডুবে যায়।চুপচাপ মানুষগুলো অনেক কিছু বলে না, কারণ তারা জানে বললে কেউ বুঝবে না, কেউ গুরুত্ব দেবে না, বরং হয়তো ঠাট্টা করবে বা হালকা ভাবে নেবে। তাই তারা নিজের ভেতরেই এক পৃথিবী তৈরি করে নেয়, যেখানে হাজারটা প্রশ্ন, হাজারটা উত্তর, হাজারটা যন্ত্রণা আর না বলা গল্প জমা পড়ে।
এই মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি বোঝে, সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। এরা কারও দুঃখ দেখলে চুপচাপ পাশে বসে থাকে, কিছু না বলেই হাজারটা কথা বলে ফেলে। কারণ তারা জানে, ব্যথা আসলে শব্দ চায় না, শুধু একটু অনুভব চায়।তারা কারো ওপর ভরসা করতে ভয় পায়, কারণ আগেও করেছিল, ভেঙে গেছিল। তাই এখন আর কিছু বলে না, শুধু ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, আবার নিজেই গড়ে ওঠে। এদের চোখে যে নীরবতা থাকে, সেটার মানে অনেক গভীর, অনেক কঠিন।
চুপচাপ মানুষেরা আসলে সবচেয়ে বেশি অনুভবী, সবচেয়ে বেশি ভাঙা, আর সবচেয়ে বেশি শক্ত। তারা নিজের অনুভব লুকাতে জানে, অন্যের অনুভব বুঝতেও জানে। তারা চিৎকার করতে জানে না, কাঁদতে জানে না, কিন্তু তারা ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন যুদ্ধ করে যায়, শব্দের ভীড়ে নিঃশব্দভাবে।তাদের কথা না বলাটা কোনো দুর্বলতা না, বরং সেটা তাদের শক্তি। কারণ যে নিজে কষ্ট সহ্য করে চুপ করে থাকে, সে অন্যকে অনেক কিছু দিতে পারে, অনেক কিছু বুঝাতে পারে। তাদের নীরবতা মানে অবহেলা না, বরং একটা গোপন জগৎ, যেখানে তারা নিজের মতো করে বাঁচে, কাঁদে, হাসে, ভালোবাসে।চুপচাপ মানুষ মানেই ভেতরে এক বিশাল জগৎ, যেখানে সবচেয়ে বেশি শব্দ বাজে, সবচেয়ে বেশি অনুভব তৈরি হয়, আর সবচেয়ে বেশি সত্যি ভালোবাসা জন্ম নেয়।

