ভালো থাকার অভিনয়টাই এখন সবচেয়ে বড় ক্লান্তি
নিজেকে হাসিখুশি দেখাতে গিয়ে কতবার যে মন চিৎকার করে কেঁদেছে, তার হিসেব নেই। কোনো কথায় কষ্ট পেলেও চুপ থেকে গেছি, কেউ বুঝে ফেলবে না ভেবে। কারণ সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে এই ভালো থাকার মুখোশটার সাথে। আর আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি সেটা পরে থাকতেই।মানুষ ভাবে, যেই বেশি হাসে, সে বুঝি সত্যিই সুখী। কিন্তু অনেক সময় হাসির আড়ালেই সবচেয়ে বেশি ব্যথা থাকে। কেউ জানে না রাতে ঘুম আসেনি, কেউ জানে না দিনের পর দিন কষ্টটা বুকের মধ্যে আটকে আছে। অথচ দিনের শুরুতেই একটা স্মাইলি মুখ করে সবাইকে বলি ভালো আছি।
এই অভিনয়টাই ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলে। মন চায় একদিন অন্তত কাউকে বলতে আজ আমি ভালো নেই, একটু পাশে থাকো। কিন্তু বলার মতো কেউ থাকে না, থাকলেও সব কথা বুঝতে পারে না। তখন একাই নিজের অভিনয়ে ডুবে যেতে হয়। একাই সব সামলে চলতে হয়।ভালো থাকার অভিনয় মানেই সব কষ্ট চেপে রেখে, অন্যের সামনে শক্ত থাকা। কিন্তু নিজের ভিতরে ভিতরে সেই কষ্টটাই জমতে জমতে পাহাড় হয়ে যায়। আর সেখান থেকেই আসে মানসিক ক্লান্তি, বিরক্তি, বিষণ্ণতা। অথচ বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমরা নিজের কাছেও আজকাল অভিনয় করি। নিজেকেই বুঝাই সব ঠিক আছে, সব সামলে নেব। অথচ মন জানে, কিছুই ঠিক নেই। শুধু এতদিন ধরে এই অভিনয় করতে করতে একসময় সেটা স্বাভাবিক লেগে যায়।কিন্তু ভালো থাকার অভিনয় যে কতটা কষ্টদায়ক, সেটা শুধু তারাই জানে, যারা প্রতিদিন এটা করে যায়। আসলে সবাইকে খুশি রাখতে রাখতে আমরা ভুলে যাই নিজেকে খুশি রাখতে। আর সেই ভুলটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি একা করে দেয়।

