🚆 ট্রেনে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি। গোরোখপুর স্টেশন তখন যেন নিজের স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ফেলেছে। দিনের কোলাহল, মানুষের ভিড়—সবকিছু মিলিয়ে গেছে অন্ধকারের ভেতরে। শহরের দোকানপাট অনেক আগেই বন্ধ, হাতে গোনা দু-একটি চায়ের দোকান শেষ ট্রেনের অপেক্ষায় আলো জ্বালিয়ে বসে আছে।
প্ল্যাটফর্মে যাত্রীর সংখ্যা বলতে গেলে নেই বললেই চলে। যারা আছে, তারা মূলত শেষ ট্রেন ধরার তাড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে—কেউ দূরের গ্রামে ফিরবে, কেউবা দীর্ঘ কর্মদিবস শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরার পথিক।
হলুদ আলোয় মোড়া প্ল্যাটফর্মটাকে তখন আর সাধারণ কোনো স্টেশন বলে মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, এটা যেন কোনো অজানা প্রতীক্ষার স্থান—যেখানে সময় থমকে আছে। ঠিক সেই মুহূর্তে পরেশ দাঁড়িয়ে ছিল শেষ ট্রেনটির সামনে। আজকের এই ট্রেনটাই তার দিনের শেষ ভরসা, তাই অজান্তেই ট্রেনটির প্রতি এক ধরনের আলাদা অনুভূতি তৈরি হচ্ছিল।
ট্রেন থামতেই পরেশ ধীরে ধীরে উঠে পড়ল। কিন্তু ভেতরে পা দিতেই তার বুকের ভেতর কেমন যেন অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ তার মনে হলো—কেউ একজন দূর থেকে তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরেশ চারপাশে তাকাল, একবার নয়, কয়েকবার। কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখা গেল না।
চারদিকে শুধু নিস্তব্ধতা, ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া আর ট্রেনের ধাতব শব্দ। তবুও সেই অদ্ভুত অনুভূতিটা কিছুতেই তার পিছু ছাড়ছিল না…