প্রকৃতিকে ঘিরে লোকবিশ্বাস
মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক খুবই প্রাচীন। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ গাছ, নদী, পাহাড়, বন- এই সব কিছুর উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে। এই নির্ভরতা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছে নানা লোকবিশ্বাস, যা আজও আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত। কারণ সবথেকে একটা বড়ো উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, তখন কোনো রোগ বা শরীরে যেকোনো সমস্যা হলে প্রাকৃতিক উপায়ে গাছই ছিল একমাত্র নিরাময় যোগ্য ওষুধ।গ্রামবাংলায় গাছ শুধু ছায়া বা ফলের উৎস নয়, অনেক সময় তা আমাদের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুও। যেমন- বট ও অশ্বত্থ গাছকে পবিত্র মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই গাছের নিচে দেবতারা বাস করে থাকে।
তাই অনেকে বৃহস্পতিবার বা শনিবার অশ্বত্থ গাছে জল দেওয়া শুভ বলে ধরা হয়। যদিও এই প্রথা বর্তমান সময়ে অনেকে মানে না বা বিশ্বাসও করে না। কিন্তু তাও আজও অনেকে এই প্রথা পালন করে থাকে। এছাড়া নিম গাছকে রোগনাশক হিসেবে দেখা হয়। তারপর রাতে বড় গাছের নিচে বসা নিষেধ, এই বিশ্বাসের পেছনে ভয় ও কল্পনার পাশাপাশি প্রকৃতিগত ঝুঁকিও লুকিয়ে আছে। যেমন- এই বিশ্বাসগুলো অনেক সময় মানুষকে গাছ কাটতে নিরুৎসাহিত করে, ফলে প্রকৃতি রক্ষায় এগুলোর একটা অদৃশ্য ভূমিকাও আছে। আর অন্যদিকে নদী হলো আমাদের বাঙালিদের কাছে মায়ের মতো। যেমন- এখানে গঙ্গা, দামোদর, পদ্মা নদীকে আমরা মাতৃরূপে কল্পনা করে থাকি। ফলে আমরা বিশ্বাস করি যে, এইসব নদীর জলে স্নান করলে সমস্ত অশুভর বিনাশ ঘটে।

Apni sothik bolechen