পুজোর ঢাকিদের জীবন
Image Created by OpenAI
শারদীয় দুর্গাপূজা মানেই ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ধ্বনি আর উৎসবের উচ্ছ্বাস। দূর থেকে ভেসে আসা “ঢাকের তাল” যেন বাঙালির হৃদস্পন্দন। কিন্তু বাস্তবে যাঁদের হাতের ছোঁয়ায় এই সুরের জন্ম, সেই ঢাকিদের জীবন আসলে অনেক সংগ্রামময়। অনেক পরিশ্রম করে তাদের জীবন চালাতে হয়। ঢাকিদের বেশিরভাগই আসে গ্রামবাংলা থেকে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা-বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া বা বাঁকুড়া অঞ্চলের বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঢাক বাজানোর সঙ্গে যুক্ত। তাদের কাছে এটি শুধু পেশা নয়, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটা শিল্প। সারা বছর কৃষিকাজ সহ বিভিন্ন ধরণের কাজ করার পরে দুর্গা পুজোর মাস শুরু হলেই শুরু হয়ে যায়, তাদের প্রস্তুতি।
পুরনো ঢাক মেরামত, চামড়া বদলানো, রঙ করা, সব মিলিয়ে যেন নতুন জীবনের অপেক্ষা। পুজোর আগে ঢাকিরা দল বেঁধে শহরে আসে। এর মধ্যে কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে, আবার কেউ ট্রাকের ওপর চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। অনেক সময় দেখা যায় তাঁদের সঙ্গে থাকে পরিবারের সদস্যরাও। কলকাতা শহরের বড় বড় পুজো কমিটিগুলো আগেই বুকিং করে রাখে তাদের। যে কয়দিন পুজো হবে, সেইদিন হিসেবে তাদের পারিশ্রমিকও ঠিক হয়। আর এই পারিশ্রমিক দিয়েই অনেক পরিবারের জীবিকা চলে যায়। কিন্তু সেটা সরল নয়, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে সেটা অতিবাহিত হয়। ঢাকের শব্দ শুধু একটি বাদ্য নয়। এটি বাঙালির আবেগ এবং স্মৃতি। এই সুরের পেছনে থাকে অসংখ্য অজানা মানুষের ঘাম, পরিশ্রম আর ভালোবাসা।
