সত্য বলাই এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একসময় মানুষ বলতো সত্য বললে মাথা নত করতে হয় না।কিন্তু আজকের বাস্তবতায় মনে হয় উল্টো কথাটাই বেশি মানানসই সত্য বললেই যেন চারদিক থেকে চাপ, সমালোচনা আর ভয় এসে ঘিরে ধরে। সমাজের এমন এক অবস্থায় আমরা পৌঁছেছি যেখানে মিথ্যা কথা সহজে গ্রহণযোগ্য কিন্তু সত্য কথার মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।আজকাল অনেকেই সত্য কথা বলতে ভয় পায়, কারণ তারা জানে সত্য বললে হয়তো সম্পর্ক নষ্ট হবে, কেউ কষ্ট পাবে,নিজের ক্ষতি হতে পারে। অফিসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে চাকরি হারানোর ভয়,বন্ধুত্বে নিজের মত প্রকাশ করলে সম্পর্কের টানাপোড়েন আবার পরিবারে ভিন্ন মত দিলে অবাধ্য বলে ধরা এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা বাস করছি। ফলে আমরা অনেক সময় নীরব থাকি, সত্য জানলেও মুখ খুলতে পারি না।
আরো বড় সমস্যা হলো,এখন মানুষ সত্য শুনতে চায় না। সবাই এমন কথাই শুনতে চায় যা তার মনকে শান্তি দেয়, যদিও সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাই সমাজে এখন প্রশংসা সত্যের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। ফলে আমরা মুখে হাসি রাখি, কিন্তু মনে মিথ্যার বোঝা বইতে থাকি।তবুও সত্যের শক্তি কখনোই শেষ হয় না। সত্য কথা হয়তো শুরুতে কষ্ট দেয়, কিন্তু শেষে সেটাই মুক্তি আনে। কারণ মিথ্যা দিয়ে হয়তো কিছু সময় টিকে থাকা যায়,কিন্তু স্থায়ীভাবে সম্মান বা শান্তি পাওয়া যায় না। যাদের জীবনে সত্য কথা বলার সাহস আছে, তারা হয়তো কিছু হারায়,কিন্তু নিজের আত্মসম্মান হারায় না।আমাদের মনে রাখা দরকার, সত্য বলা মানে কাউকে আঘাত করা নয়, বরং নিজের ভেতরের সৎ মানুষটাকে জীবিত রাখা। সমাজ যতই কঠিন হয়ে যাক, কেউ যদি সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তার এই সাহসই একদিন পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে।সত্য বলাটা এখন কঠিন হয়ে গেলেও সেটাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। কারণ মিথ্যার দুনিয়ায় সত্য মানুষরাই আসলে সবচেয়ে মূল্যবান যারা আপস না করে সত্যের পাশে দাঁড়াতে জানে।

